কারমাইকেল কলেজের দিনগুলি

সম্প্রতি শতবর্ষে পা দিয়েছে উত্তরের জেলা রংপুরের তথা দেশের খ্যাতনামা বিদ্যাপীঠ কারমাইকেল কলেজ। ১৯১৬ সালের ১০ই নভেম্বরে জন্ম হয় এ কলেজের। সে সময়ের বড়লার্ট কারমাইকেলের নামানুসারে এ কলেজের নাম রাখা হয়। প্রতিষ্ঠাকাল হতেই কলেজের নাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী। শুধু দেশ নয়, ওপার বাংলা হতেও এখানে পড়তে আসত শিক্ষার্থীরা।

দেশের বর্তমান অনেক জনপ্রিয় মানুষের শিক্ষার কারিগর এ প্রতিষ্ঠান, এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ.এম.এরশাদ, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এ কলেজেরই শিক্ষার্থী। এ কলেজের বৃন্দাবন, মধুবন, বাংলামঞ্চে হেসে খেলে বেরিয়েছেন তারা। হয়তো এ স্থাপনা বা জায়গাগুলির নাম তখন ছিল না। তবে মাটিটুকু তো ছিল।

অনেকদিন যাওয়া হয় না প্রিয় ক্যাম্পাসটাতে। কেমন আছে কাইজেলিয়া গাছটা? পুকুরপাড়টাতে আমলকি গাছটা আছে এখনো? আর বিশাল গ্রন্থাগারটা কি আরো বিশাল হয়েছে? পাঠক নিশ্চয়ই বেড়েছে অনেক।

বাটুল সিং- এর গবেষণা তো বেশ চলছে দুর্লভ কাইজেলিয়া গাছের চারা উৎপাদন নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধস্মারক, শহীদ মিনারটাকে খুব মনে পড়ে। মনে পড়ে স্যারদের মুখে শোনা এ কলেজের শিক্ষক, একাত্তরের শহীদ কালাচাঁদ স্যারদের কথা। কি নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাদের ! ভাবতে গেলেই গা শিউরে ওঠে।

কেবি ছাত্রবাসের মন্দিরটায় কি আজও সরস্বতী পূজো হয়? নাকি সময়ের স্রোতে ভেসে গেছে সে অসাম্প্রদায়িকতার চিহ্ন? বাংলা বিভাগের সামনে কিছু টগবগে তরুণ-তরুণীর বির্তকের মেলা বসত। কখনও সকাল গড়িয়ে দুপুর, কখনও দুপুর গড়িয়ে বিকেল হত বিতর্কে বিতর্কে। কেউবা আবার কবিতা পড়ত “বলছি না ভালবাসতেই হবে”। আজও পড়ে বোধ হয়। হয়তো তারা নয় অন্য কোন তরুণ-তরুণী।

আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টটা আজও হয় শুনেছি। বেশ মজা হয় খেলাটা নিয়ে আজ হয়তো। আমাদের সময়টাতেও তেমনটা দেখেছি। বিশাল মসজিদটাতে মুয়াজ্জিনের আযান আজও হয় নিশ্চিত। বেশ ভাল লাগতো যখন মাঝে মধ্যে নামাজ পড়তাম সেখানে।

বাংলার শাহ আলম স্যার, অর্থনীতির আব্দুর রাজ্জাক স্যার জানি না কেমন আছেন আজ ! ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিহাব স্যার তো অসময়েই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ভাল থাকুক স্যার। এমনি অনেক প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছিলাম কলেজে।

ইতিহাস ঐতিহ্যে ঘেরা আমার প্রিয় কলেজটি বেঁচে থাকুক সহস্র বছর। এ বিদ্যাপীঠের আলো ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময়। শুভ কামনা তোমার জন্য প্রিয় কলেজ। ভাল থেকো। অনেক ভাল।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ