হল ডে

গত ১৬ ই ডিসেম্বর ছিলো নোয়াখালী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দুইটি বিজয় দিবস উদযাপনের দিন! কারন ২০১৫ এর এই দিনটি ছিল নোয়াখালী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এর ছাত্রদের কাংখিত হল প্রাপ্তির দিন । তাই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলার জন্মদিনের বিজয় দিবসে যোগ হল আরেকটি বিজয় । প্রায় আট বছর আন্দোলনের ফসল ছিল এ হল।সেই ২০০৬ সালে বি.এসসি-তে উন্নীত হওয়ার পর ক্যাম্পাসের প্রথম ব্যাচ থেকে শুরু হওয়া অক্লান্ত আন্দোলন,মানব বন্ধন,অনশন,মিটিং-মিছিল,শত কণ্ঠের শ্লোগান,সেই নেতা সদৃশ কতক বড় ভাইদের বজ্রকন্ঠ,অক্লান্ত পরিশ্রম আর ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে এ হল অর্জন। তাই দিনটি ছিল মহার্ঘ একটি দিন।এ পর্যন্ত কলেজ থেকে পাশ করে বের হওয়া প্রথম চারটা ব্যাচের প্রত্যেক ব্যাচ থেকেই অনেক বড় ভাই এবং আপু এসেছিলো সেদিন।এছাড়া কলেজে বর্তমান ৫ম,৬ষ্ঠ,৭ম ও ৮ম ব্যাচের প্রায় সবাই সেদিন উপস্থিত ছিল। অনুষ্ঠানের মঞ্চ সাজানো হয়েছিলো হলের ভিতরেই। সন্ধ্যার পরপরই শুরু হয় অনুষ্ঠান।শুরুতেই ছিল মশাল প্রজ্বলন।তারপর অধ্যক্ষ জনাব ফজলুল হক ও অন্যান্য শিক্ষক এবং ১ম ব্যাচের সিমন ভাই,২য় ব্যাচের আতিক ভাই,৩য় ব্যাচের মিঠু ভাই ও ৪র্থ ব্যাচের শান্তনু ভাই নিজ নিজ ব্যাচের পক্ষ থেকে হল নিয়ে স্মৃতিচারণ ও সামনে সবার একসাথে চলার পথ নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।এরপর শুরু হয় কাম্পাসে বর্তমান ছাত্রদের বিভিন্ন পরিবেশনা । ছিল একক গান,৬ষ্ঠ ব্যাচের রাফি ও ৭ম ব্যাচের ফাহাদের দ্বৈত গান,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ৫ম ব্যাচের রিফাত ভাইয়ের পরিচালনায় নাটক,মৃত্যুঞ্জয়ের নাটক,জীবন্ত স্লাইড শো,ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আন্দোলনের ফুটেজ দিয়ে ৫ম ব্যাচের শুভ্র ভাইয়ের তৈরি করা ভিডিও প্রদর্শন ইত্যাদি।সময় স্বল্পতার কারনে কিছু প্রোগ্রাম মঞ্চায়িত করা সম্ভব হয় নি৷ রাত ১০ টার পর শুরু হয় আমন্ত্রিত ব্যান্ড “চক্রগুহ” এর বিভিন্ন গান পরিবেশনা। পুরো হল মেতে উঠে এক উৎসবের আমেজে।গানের সাথে নাচের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব আবহাওয়ার ৷ অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে সবার মাঝে উপস্থিত হয় কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ জনাব ফজলে রাব্বানী স্যার,যিনি ঐসময় এই হল এবং এই কলেজে বি.এসসি প্রোগ্রাম চালু রাখার জন্যে উল্লেখযোগ্য পরিশ্রম করেছিলেন । সবশেষে ক্যাম্পাসের নিজস্ব ব্যান্ড “খেয়াল” কয়েকটি মনমাতানো গান পরিবেশন করে পুরো অনুষ্ঠানকে এনে দেয় এক অন্য মাত্রা।মেতে উঠে বাধ ভাঙ্গা উচ্ছাসে ৷ পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিলো ৫ম ব্যাচের সুদীপ্ত ভাই ও ৬ষ্ঠ ব্যাচের নাঈম ভূইয়ার অসাধারণ উপস্থাপনার ভঙ্গী ৷ সবশেষ বলতে চাই-

প্রিয় হল, রেখেছো বেঁধে যে মায়াজালে
ঐ মহাকালেও মিলবে তুমি জানি,
এই পৃথিবীর শাশ্বত বুকে দাগ কেঁটে কেঁটে
বাজবে তোমার অস্তিত্বের তুমুল ধ্বনি।
দেয়ালে দেয়ালে লীন হয়ে যাওয়া হলদে-ধূসর অনুভূতি এই প্রাঙ্গনে,
তোমাতে আমাতে মিলিত একাকী


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ