মহারানীর ডায়েরী থেকে অবাক জোৎস্না

যখন চাঁদ তার পূর্ন যৌবন নিয়ে আকাশের বুকে শুয়ে থাকে, আমার খুব হিংসে হয়। তবুও পূর্ন পুর্নিমার জোৎস্না রাত গুলোতেে অবাক হয়ে চাঁদ দেখি। দেখি জোৎস্নায় ভিজে যাওয়া প্রকৃতি। দেখি পুর্নিমা রাতের আলো ছায়ার খেলা।

বাসায় আসলেই জোৎস্না রাত গুলো একা ছাদে বসে কাটাই আমি। কলেজের হলের ছাদে একা বসে থাকা সম্ভব না, আর বসে ডায়েরী লেখাতো আরো অসম্ভব। ছোট আর বড় বোনদের হাজারটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে তাহলে। তাই জোৎস্না রাত গুলা বাড়িতেই ভালো কাটে আমার। একা একা উপভোগ করি আমি। মনে হয় যেন এই সৌন্দর্য শুধু আমার। এর ভাগ আমি কাউকে দেব না।

এমনই একটা জোৎস্না রাতের কথা মনে পরছে খুব। আমি বাসায়। ছাদে বসে চাঁদ দেখছি আর ডায়েরী লিখছি। হঠাৎ মুঠোফোনটা বেজে উঠলো, সেই পরিচিত নম্বর। এতদিন পর…

; হ্যালো

: কেমন আছো?

; তুমি এতদিন পর, কি মনে করে?

: তোমার সাথে খুব কথা বলতে ইচ্ছে করছিল, তাই…

; হঠাৎ আমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করলো কেন? তুমিতো বলেছিল আমার সাথে কথা বলার রুচিও নাকি তোমার নেই!

: বললেনা কেমন আছো?

; কথা এরায় যাচ্ছো কেন? প্রশ্নের উত্তর দাও।

: কি উত্তর দেব, তোমার কোন প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই। আমরা ভালো বন্ধু ছিলাম, সেই অধিকারেই ফোন দিয়েছি তোমাকে।

; আমরা বন্ধু ছিলাম বলতেছো, তার মানে এখন নেই, তাহলে নিশ্চই অধিকার ও নেই।

: তোমার সাথে আমি কথায় কখনো পারিনি আর পারবোও না।

; হয়তো তাই। এখন ফোন করেছো কেন সেটা বলো!

: চাঁদ দেখছো?

; হুম চাঁদ দেখছি।

: তুমি একটুও বদলাওনি, আগের মতই আছো।

; না, আমি বদলেছি। আমি আগে অবুঝ ছিলাম, এখন সব না হলেও অনেক কিছু বুঝি। ফোন করেছো কেন সেটা বলো?

: আমার সাথে কথা বলতে ভালো লাগছেনা তোমার?

; ভালো লাগলেই সব কাজ করা যায় না, আর সব ভালো লাগার কাজ গুলাই যে করতে হবে এমন কোন কথা নেই।

: মাঝে মাঝে তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে।

; এইসব বাজে মিথ্যে কথা ছাড়া অন্য কিছু যদি বলার না থাকে তাহলে ফোনটা রেখে দাও।

: আমি মিথ্যে বলছিনা..

; অন্য কিছু বলার আছে তোমার?

: তুমি এমন ব্যাবহার করছো কেন?

; সেটা তুমি ভালো করেই জানো। আচ্ছা এখন ফোন রাখো।

: হুম ঠিক আছে, ভালো থেকো।

ফোনটা কেটে যাবার পর অনেক অনেক্ষন কেঁদেছিলাম। ভিষন কষ্টে বুকের ভিতরটা গুমরে গুমরে উঠছিল। অনেকেই বলে বিধাতা নিষ্ঠুর। তিনি মানব মন ও জীবন নিয়ে এমন কঠিন আর নিষ্ঠুর খেলা করেন। কিন্তু আমি বিধাতাকে দোষ দেইনা। কেননা তিনি আমাদের সুযোগ দিয়েছেন যে আমাকে ভালোবাসে তাকে ভালোবাসার বা অপমান করার। যে আমার মঙ্গল চায় তাকে কাছে টানার বা দূরে ঠেলার। আমরা মানুষরাই অসম্ভব রকম খেয়ালি এবং অবিবেচক। তাই আমরা যখন যেটা উচিৎ সেখানে সেটা না করে অধিকাংশ সময় উল্টোটাই করি।

জোৎস্না দেখতে দেখতে চাঁদের উদারতার কথা ভাবি। অমাবস্যায় জোৎস্না শুন্য পৃথিবীর নিঃসঙ্গতার কথা ভাবি। নাহ, বড্ড বেশী বেশী আধ্যাত্মিক হয়ে যাচ্ছে, আজ আর লিখবোনা…

 

#মহারানীর_ডায়েরী

#তাছনীম

  • 4
    Shares

পাঠটিকে একটি রেটিং দিনঃ
খুব খারাপ, পাঠটিকে ১ রেটিং দিনখারাপ, পাঠটিকে ২ রেটিং দিনমোটামুটি, পাঠটিকে ৩ রেটিং দিনভাল, পাঠটিকে ৪ রেটিং দিনআসাধারন, পাঠটিকে ৫ রেটিং দিন (টি ভোট, গড়ে: এ ৫.০০)
Loading...

আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ তাছনীম বিন আহসান

জন্ম ১৯৯৬ সালের এপ্রিল মাসে রংপুর জেলার মাহিগঞ্জ এ ! স্কুল জীবনেই বিভিন্ন শিশু-কিশোর পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়, সাহিত্য চর্চার অন্যতম অনুপ্রেরনা বড় বোন ও বড় ভাই ! উত্তর বঙ্গের অন্যতম বিদ্যাপিঠ বড় রংপুর কারামতিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষা জীবন শুরু , পরবর্তিতে উত্তর বঙ্গের আর এক শ্রেস্ট বিদ্যাপিঠ ধাপ সাতগারা বাইতুল মুকাররম মডেল কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল (এস এস সি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ! পরবর্তিতে বড় রংপুর কারামতিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম (এইচ এস সি) পাশ | বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রসায়নে সম্মান শ্রেনীতে আধ্যায়নরত ! বর্তমানে " মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদ " এ " পত্রিকা ও সাহিত্য সম্পাদক " এর দায়িত্ব পালনরত !
বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ 2018-01-27 06:31:37 তারিখ নিবন্ধিত হয়েছিলেন, এই পর্যন্ত প্রকাশিত লেখা সংখ্যা 24টি, মোট 77 পয়েন্ট সংগ্রহ করে [mycred_my_ranking user_id=157] অবস্থানে আছেন।
সংগঠন ও গোষ্ঠীঃ মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদ

আপনার ভাল লাগতে পারে

0 0 vote
Article Rating
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x