“পাওনা পরিশোধ”

প্রায় পনেরো মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছে শরিফুল। তবুও একটা রিকশার দেখা মিলছেনা। আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি ক্লাস শুরু হওয়ার। খুব ইম্পরট্রেন্ট ক্লাস মিস দিলে ইনকোর্স এর নাম্বার কাটা যাবে সাথে পড়াগুলো ও পাবে না।

গত তিন দিন ধরে রাত জেগে পড়ছে শরিফুল! আর তার কারণেই আজ ফজরের নামাজ পড়ে আসার পর চোখটা লেগে আসে আর সেখানেই বিপত্তি টা ঘটলো। শরিফুল এর নিজের উপরই নিজের বড্ড রাগ হচ্ছে। নিজের চুল নিজেরই ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে। এমনিতেই নিজের চেহারার দিকে তাকালে নিজেকে চিনতে পারে না শরিফুল!
বিধ্বস্ত এক চেহেরা! ঘুম কম হওয়ার কারনে চোখের নিচে কালো দাগ পরে গেছে। আয়নাতে নিজের চেহেরা দেখলে খুম মায়া হয় তার কিন্তু কিছুই করার নেই, কিছুদিন পর প্রথম বর্ষের পরীক্ষা আর এখনো অনেক পড়া জমা হয়ে আছে।

হেঁটে গেলে ত্রিশ মিনিটের রাস্তা ভার্সিটি। কিন্তু হাঁটার মত শক্তি নেই তার শরীরে। নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছে আর আল্লাহর উপর ভরসা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
হাঠাৎ একটা রিকশা শরিফুল এর সামনে এসে দাঁড়ায়!
রিকশার হুড নামিয়ে দেয়, মুখোশ টা সরাতে সরাতে শরিফুল এর দিকে তাকায় মেয়েটা।
শরিফুল তাকিয়ে দেখে তায়্যিবা তার দিকে চেয়ে আছে! তাদের ক্লাসেরি ছাত্রী কিন্তু আজ পর্যন্ত শরিফুলের সাথে তায়্যিবার প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা হয়নি।

তায়্যিবা > কি হলো, দাঁড়িয়ে আছো কেনো?
ওঠে পরো,ক্লাস শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই।

শরিফুল কি করবে ভেবে পাচ্ছে না? দোটানায় পরে যায়, ‘ওঠবে নাকি ওঠবে না!’
আশেপাশে তাকিয়ে আর কোন রিকশাও দেখছে না। ক্লাশ শুরু হতেও আর কিছু সময় বাকি! চিন্তার রাজ্যে হারিয়ে যায়!

> কি হলো,উঠছো না কেন?

তায়্যিবার ডাকে ধ্যান ভাঙ্গে শরিফুলের।”

দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়ে ওঠে পরে রিকশায়। রিকশা চলতে শুরু করে। শরিফুল, তার আর তায়্যিবার মাঝে গ্যাপ রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু ভাঙ্গা রাস্তা, এবং প্রচন্ড ঝাঁকুনির জন্য তা আর সম্ভব হচ্ছে না। গাঁ এর সাথে গাঁ বার বার লেগে যাচ্ছে! কনার শরীরের উষ্ণ ছোয়া তার শরীরে যেন বিদ্যুৎ দৌয়াচ্ছে!
প্রথম কোন মেয়ের এতটা কাছে!

শরিফুল এর বার বার বুখারী শরীফের সেই হাদীসটির কথা মনে পরে যাচ্ছে,
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ “কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যিনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শোনা কানের যিনা আর যিনার কল্পণা করা ও আকাংখা করা মনের যিনা। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়।

শরিফুল ঘামতে শুরু করে ! নিজেকে নিজে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়,
কি করছে সে?
তার মন কি কল্পনা করছে?
এই স্পর্শ কি অবৈধ না?

সে তো এক বেগানা নারীর পাঁশে বসে আছে! তার বিবেক তাঁকে বার বার ধ্বংসন করছে! এরকম নরকীয় যন্ত্রণা সে আর সহ্য করতে পারছেন। শরিফুল আর কিছু ভাবতে পারে না,
রিকশা থামিয়ে নেমে পরে!!
তায়্যিবা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে শরিফুলের দিকে! সে কিছু বুঝতে পারে না! শরিফুল কেনো এই মাঝ রাস্তায় নেমে পরলো!

শরিফুল> তুমি চলে যাও আমি হেটে আসবো।
তায়্যিবা> কিন্তু ক্লাস শুরু হতে তো, আর সময় বেশি বাকি নেই!{বিস্ময় নিয়ে বলে}

শরিফুল, তায়্যিবা কে বলে;
তুমি কি বুখারী শরীফের সেই হাদীস টি পড়ো নি?
“কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যিনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শোনা কানের যিনা আর যিনার কল্পণা করা ও আকাংখা করা মনের যিনা। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়।

তায়্যিবা বুঝতে পারে কেনো শরিফুল এরকম করছে। সে নিজের ভুল বুঝতে পারে। কিছু না বলে রিকশা নিয়ে চলে যায়।
শরিফুল হাটা শুরু করে, খুব প্রশান্তি লাগছে তার কাছে। ছটফট ভাবটা আর নেই। খুব ই ভালো লাগছে তার কাছে। অর্ধেক রাস্তা সে রিকশা করে এসেছে বাকি অর্ধেক হেটে যেতে হবে তার। দ্রুত পা চালায় সে…

শরিফুল খুব ভঁয় নিয়ে ক্লাস রুমের দরজায় পাঁশে আসে কিন্তু ক্লাসে স্যার নেই! ক্লাস শুরু হওয়ার সময় পার হয়ে প্রায় পনের মিনিট বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু স্যার এখনো ক্লাসে আসে নি! শরিফুল বিস্ময় নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করে। ত্যায়িবা’র দিকে তাকিয়ে দেখে তায়্যিবা মুচকি মুচকি হাসছে।
শরিফুল তার চোখ নিচে নামিয়ে নেয়।
আরো পাঁচ মিনিট পর স্যার ক্লাসে আসে, স্যার ক্লাসে ঢুকে প্রথমে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয় নিজের বিলম্ব হওয়ার জন্য।
স্যারের ভাষ্যমতে, রাস্তায় হঠাৎ গাড়ির টায়ার ব্লাস্ট হয়ে যায়। যার কারনে স্যার সঠিক সময়ে আসতে পারেনি।

স্যারের কথা শুনে শরিফুলে’র দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে,এই অশ্রু কৃতজ্ঞতার অশ্রু! মনিবের দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপনের অশ্রু! সবার আড়ালে শরিফুল তার চোখের জল মুছে ফেলে কিন্তু তায়্যিবা ঠিক ই দেখে ফেলে। তায়্যিবার মুখ দিয়ে আপনা আপনি ই বের হয়ে যায়,
আলহামদুলিল্লাহ্‌!

 

  • 7
    Shares

পাঠটিকে একটি রেটিং দিনঃ
খুব খারাপ, পাঠটিকে ১ রেটিং দিনখারাপ, পাঠটিকে ২ রেটিং দিনমোটামুটি, পাঠটিকে ৩ রেটিং দিনভাল, পাঠটিকে ৪ রেটিং দিনআসাধারন, পাঠটিকে ৫ রেটিং দিন (টি ভোট, গড়ে: এ ৫.০০)
Loading...

আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়



  • লেখক সম্পর্কেঃ শরিফুল ইসলাম

    ছোট্ট একজন লেখক। নিজের কষ্ট, ভাললাগা, ভালবাসাগুলো গল্প ও কবিতায় প্রকাশ করার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা. ..!!
    বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ 2018-05-03 07:03:20 তারিখ নিবন্ধিত হয়েছিলেন, এই পর্যন্ত প্রকাশিত লেখা সংখ্যা 30টি, মোট 1472 পয়েন্ট সংগ্রহ করে অবস্থানে আছেন।
    সংগঠন ও গোষ্ঠীঃ লেখক কোন সংগঠন বা গোষ্ঠী এর সদস্য নন

    আপনার ভাল লাগতে পারে

    simple-ad
    avatar
      
    smilegrinwinkmrgreenneutraltwistedarrowshockunamusedcooleviloopsrazzrollcryeeklolmadsadexclamationquestionideahmmbegwhewchucklesillyenvyshutmouth
    Photo and Image Files
     
     
     
    Audio and Video Files
     
     
     
    Other File Types
     
     
     

    You're currently offline