নিলাশা

আমি তখন ক্লাস ওয়ান এ পড়ি আমাদের বাড়ির সামনে একটা ক্ষেত আছে সেখানে আমরা অর্থাৎ আমি,আমার চাচাতো ভাই-বোন,পাশের বাড়ির সব সমবয়সি ছেলে মেয়ে সবাই বিকেলে প্রতিদিন খেলা করতাম।বেশিরভাগ সময় মাকে ফাঁকি দিয়ে দুপুরবেলা খেলতে যেতাম।সাধারণত বৃহস্পতিবার আমরা দুপুরে বাকিদিন গুলো বিকেলে খেলতাম শুক্রবার বাদে।শুক্রবার ফ্রি হিট ছিল সেদিন সারাদিন দিন মজা ছিল।যা হোক আসল ঘটনা বলি একদিন দুপুরবেলা আমি মায়ের সাথে শুয়েছিলাম।জানালা দিয়ে নিলাশা ডাকছিল সান সান এই সান।তখন মা ঘুমে আমি আস্তে করে উঠে নিলাশার সাথে খেলতে গেলাম।নিলাশা হলো আমাদের বাড়ির পাশের হুরিন চাচির মেয়ে।ও আমাদের সাথে খেলা করতো।যখন ক্ষেতে গেলাম ওর সাথে তখন কেউ দেখি আসে নি খেলতে আমি অবাক হলাম।সাধারণত আমরা যখন খেলি সবাই বাড়ির চারপাশের ছেলেমেয়েরা এবং আমার চাচাতো ভাই-বোনেরা খেলতে আসে।আমি জিজ্ঞেস করলাম বাকি সব কোথায় রে?নিলাশা বললো চল তুই আর আমি খেলি।আমার নিলাশার সাথে বাকি সবার মতো ভাব ছিল না।
সেদিন আমি স্কুলে যাই নি।দিনটি কি বার ছিল মনে নেই তবে বৃহস্পতিবার ছিল না।আমি বললাম তুই আর আমি আমরা দুজনে কি খেলবো!ধরাধরি খেলবো নিলাশা বললো।প্রথমে ও আমাকে দোড়াতে লাগলো আমি কিছুক্ষন দোড়ানোর পর নিলাশা আমায় আচমকা সামনে এসে ধরে ফেললো কিন্তু তখনো ও অনেক পিছনে ছিল আমি ২সেকেন্ড আগে পিছনে ফিরিয়ে দেখলাম।মুহুত্তে সামনে এলো কিভাবে আমি তখনো বুঝে নি।এবার আমার পালা ওকে ধরার।নিলাশা বললো আয় ধর,ধর,ধর।আমি খুব জোরে ওর পিছে ছুটতে লাগলাম।কিন্তু আশ্চর্য ও আস্তেই দোড়াচ্ছে বাট আমি তাকে ধরতে পারছিনা।আমি জিদ করে আরো জোড়ে ছূটতে থাকি।তখন সে(নিলাশা) লোকাল সড়কে উঠে যায় আমি ওর পিছে পিছে দোড়াচ্ছি।একসময় ওর ওর পিছু ছুটতে ছুটতে আমি হাঁপিয়ে যায়।নিলাশা আমাকে ছুটাতে ছুটাতে রেললাইনে নিয়ে আনলো।নিলাশা রেললাইনের মাঝে দাঁড়িয়ে ফিকি ফিকি হাসছে।আমি তখন হাটুর উপর হাত দিয়ে ক্লান্ত চোখে শুধু তাকিয়ে ছিলাম।আমাকে আর ও দোড়াও আমি আর ও খেলবো।কথাটি নিলাশা বললো।
তার কিছুক্ষন ৫-৯ সেকেন্ডে একটা ট্রেন এসে নিলাশা গায়ের উপর দিয়ে চলে গেলো আমি আহত আমি চিৎকার দিয়ে নিলাশা…
আমার মাথা ঘোরাচ্ছিল ট্রেন চলে গেলো কিন্তু নিলাশা ফিক ফিক করে হাসছে।তার কিছুই হয় নি।আমি সেন্সলেস হয়ে পড়ি।পরদিন বিকালে নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করি।আমার গায়ে খুব জ্রর আমি সবাইকে সবকিছু খুলে বলি।সবাই মানে আমার মা,বাবা,ভাই,চাচাতো ভাই বোন আমাদের বাড়ির সবাই।আমার বাবা বললো সারাদিন খেলাধুলা করলে এরকম হয়।তারপরেই
আমার চাচাতো বোন রোকসানা বললো নিলাশা তো ওর মায়ের সাথে ওদের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে গতকাল।রোকসানা আপু ওদের বাড়িতে গিয়ে শুনে নিলাশা ট্রেনের নিচে পড়ে আজ সকালে মারা গিয়েছে তাই ওর চাচি ব্যাগ গুছিয়ে তাদের বাড়ির সবাই তার গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে।
আমি তখন কথাটি শুনে ভয়ে কেঁদে দি।তারপর আমার বাবা আমাকে এলাকার মসজিদের বড় হুজুরের কাছে নিয়ে যায়।তিনি আমাকে সূরা পড়ে ফু দিলেন।এবং একটা তাবিজ দিলেন।আমি মাকে বললাম আমি নিলাশাকে একবার দেখতে যাব কিন্তু মা দিল না।
আমি জানি না কিভাবে মৃত্যুর পর নিলশা এসে খেললো আর কেনই বা আমার সাথে দেখা দিল।আমি আজ ও এর সূত্র খুজে পাই নি।
দিনটি ছিল আমার জীবনের স্মরণীয় এক বেদনাময় দিন।সেই দিনটি ঘিরে হররস কবিতাটি আবিষ্কৃত যাতে করে পাঠকের মনে আনন্দ,তৃপ্তি প্লাবিত হয়।
কবিতা:হররস।

ধবধবে সাদা,কুয়াশায় ভরা
অশরীরী আত্মা লাল নীল ধোঁয়া।
নিরিবিলি নিরিবিলি
মেঘের অশ্রুজল
আজ মাটির গায়ে পড়লো টল
শীতের কুয়াশা দোর ভেদ করে
ছুটে যায় নীলাদ্রের অশ্রুজল।
ফিরে আসে হৃদয়ের বিচ্ছুরিত রস
নিরিবিলি নিরিবিলি
অপলক চোখ সরে যায়,
নেড়ে দেয় ভঙ্গুর ভূবন।
কেড়ে নেয় স্মৃতি মাখা অশান্ত শ্রবণ।

সমাপ্ত।
বি:দ্র:গল্পটির সাথে কবিতাটি সংযুক্ত।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ