ভাত

সখিনার স্বামী মারা গেল অল্প বয়সে। তার দুই মেয়ে মিনা আর তিনা এতিম হয়ে পড়লো। তাদের দেখার মতো আর কেউ রইলো না। একমাত্র মা ছাড়া, দাদা দাদি, নানা নানি, কেউ বেঁচে নেই। বাবা আবুল ছিল দিন মজুর। রেখে যাওয়ার মতো সম্বল বলতে আছে মাত্র ভিটে সহ একটা কুড়ে ঘর। এই অসহায় অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কোন আত্মীয় স্বজন নেই। কি আর করা সখিনাকে ক্ষুধা নিবারনের জন্য কিছু একটা করতে তো হবে। তানা হলে মেয়ে দুটোকে বাঁচাবে কিভাবে? এই সব চিন্তা করে সে জমিদারের বাড়িতে কাজে লেগে গেল। সকালে যায়, বেলা শেষ হলে বাড়ি ফিরে আসে। বেশী মজুরী না ফেলে ও অন্তত মেয়ে দুটোর মুখে দু’মুটো অন্ন তো তুলে দিতে পারে। কোনমতে চলছে সখিনার দিনকাল।

এদিকে জমিদারের স্বভাব চরিত্র ভালো না। তার দুটো স্ত্রী থাকা সত্বেও সে পরনারীর দিকে কু’দৃষ্টিতে তাকায়। একের পর এক কাজের মেয়ে অদল বদল হয়, তার এই কু’স্বভাবের জন্য। বউ’রা ও ভয়ে কিছু বলে না। যদি ও এক আধটু বলে, তাহলে সেরেছে। ঘরের জিনিস পত্র ভাঙ্গচুর, বউদের মেরে রক্তাক্ত। এই ভয়ে দু’বউ মুখ সেলাই করে রেখেছে। বড় বউ একটু সহজ সরল স্বভাবের তাই স্বামীর অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।কিন্তু ছোট বউ এ যুগের মেয়ে তো তাই একটু রোমান্টিক ও চঞ্চল স্বভাবের। এজন্য সে চলে গেল আলেমের বাড়িতে। তারপর জমিদারের কু’স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে সব কথা খুলে বলল,এবং কোরান ও হাদিসের আলোকে এর একটা বিহিত করতে বলল। কিন্তু ডুপ্লিকেট আলেম কি বলে শুণেন,

ভাবী সাহেবা পুরুষেরা এমন হয়। এই নিয়ে টানা হেঁচড়া করা ভালো না। তাছাড়া স্বামী যেভাবে ইচ্ছা সে ভাবে চলবে। এই নিয়ে স্ত্রীলোকদের মাথা ঘামাতে নেই। করলে গুনা হবে।

ছোট স্ত্রী পরি বিবি, কি আর থেমে থাকে! কারণ কোরান হাদীস, আইন কানুন, সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান তার আছে। তাই কড়া ভাষায় বলে উঠল,
কি বললেন আলেম সাহেব!কোরানের কোন জায়গায় আল্লাহপাক উল্লেখ করেছেন, পুরুষেরা আকাম কু’কাম করতে পারবে? তাছাড়া স্বামীর ব্যভিচার সতী স্ত্রী মুখ বুঝে সহ্য করবে? এমন জঘন্য মিথ্যা বাক্য আপনি কিভাবে প্রয়োগ করলেন? আপনি যদি সত্যিকারের আলেম হতেন,তাহলে এমন মিথ্যা বলতে পারতেন না। “ডুপ্লিকেট” আলেম বিধায় বলেছেন। এজন্য আল্লাহপাক পবিত্র কোরানে এরশাদ করেছেন,

কারীদের মাঝে অধিকাংশই মুনাফিক,আপনি এর ব্যতিক্রম নয়। আপনাদের এই অন্যায় বিচারের জন্য পুরুষেরা পার পেয়ে যাচ্ছে, আর দিনে দিনে ব্যভিচারের সংখ্যা বাড়ছে।

আলেম সাহেব এবার ক্ষেপে উঠে বলেন,

ভাবী সাহেবা আপনি কিন্তু আমাকে সিরিয়াস ভাবে অপমান করছেন। স্বামীর আদেশ স্ত্রীর শিরেধার্য ভালো হোক আর মন্দ হোক।
তা মানছি,তবে একটা কথা আছে স্বামী যদি কোরান ও সুন্নাহ সম্পর্কিত কোন ভালো সঠিক কথা বলে থাকে, তা মানতে হবে। এর বাইরে হলে বর্জন করতে হবে। তাছাড়া স্বামীর অপকর্মের প্রতিবাদ করতে হবে। তানা হলে স্ত্রীকে ও সমান পাপের অংশীদার হতে হবে। এটা আমার কথা নয় কোরানের কথা। আপনি কিনা সব সত্যকে ঢেকে মিথ্যা….।
ছিঃছিঃএটা আপনার মোটে ও উচিৎ হয়নি।

এসব কড়া কথা বলে সে বাড়ি ফিরে আসল। এদিকে জমিদারের কু’দৃষ্টি পড়লো সখিনার উপর। তার মনে শান্তি নেই। সখিনার সঙ্গে….। মাঝরাতে সখিনার ঘরের দরজায় গিয়ে খ্যাক খ্যাক আওয়াজ করে ডাক দেয়,

সখিনা বানু ঘরে আছ? দরজা খোল।

সখিনা ভয়ে জড়োসড়ো এতরাতে জমিদার তার বাড়িতে, কি মনে করে? তার স্বভাব চরিত্র ভালো না। প্রায় অনেকে জানে। তবু ও জমিদার বলে কথা। কিছু একটা উত্তর তো দিতে হবে? তা না হলে কাজ থেকে তাড়িয়ে দিবে এই ভয়ে, সে আওয়াজ তুলল,

জমিদার সাহেব,

আপনি এত রাতে আমার বাড়িতে!কি মনে করে?
শুণলাম তোমার ছোট মেয়ের খুব জ্বর, তাই ঔষধ নিয়ে এলাম। দরজা খোল।

সখিনা বানু ভাবল, জমিদার হয়তো ভালো হয়ে গেছে।তাই তার মেয়ের জন্য ঔষধ নিয়ে এসেছে। অনেক ভেবে চিন্তে দরজা খুলে দিলো।
জমিদার ভিতরে ঢুকতেই সে আসন পেতে দিলো। তারপর সখিনা বানুর হাতে ঔষধ দিয়ে বলে,

মেয়েকে ঔষধ খাইয়ে এদিকে এসো?

সখিনা বানু ঠিক তাই করলো। মেয়েকে ঔষধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে জমিদারের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,

জমিদার সাহেব কি বলবেন, বলেন?

তিনি তার হাতে কিছু টাকা দিয়ে বলেন,

আজ থেকে তোমার পরিবারের সব দায়িত্ব আমি নিলাম। তুমি কোন চিন্তা কইরো না। আহারে আবুলটা অল্প বয়সে মরে গিয়ে তোমারে কত কষ্ট না দিলো,বেচারার জন্য খুব আফসোস হয়, এখন তোমাদের কে দেখবে? তাই এগিয়ে এলাম। তুমি এত দূরে কেন,আমার কাছে এসে বসো, আমি কি তোমার পর।

এই সব মিষ্টি কথা বলতে বলতে সে তার হাত চেপে ধরে তাকে জড়িয়ে ধরে তার সম্ভ্রম হানি করার জন্য প্রস্তুত হলো, তখনি সখিনা বানু তাকে ঝাপটা মেরে সরিয়ে দিয়ে দা হাতে নিয়ে বলে,

ঘরে দুইটা বউ থাকতে, পরনারীর দিকে কু’দৃষ্টিতে তাকাস ক্যান, এখন ও তোর স্বভাবের পরিবর্তন হয়নি? গরীর হয়েছি বলে ইজ্জত নিলামে দেব নাকি? জানিস তুই জেনাকারীর কোন ক্ষমা নেই (আল কোরান)।
এখন ও সময় আছে ভালো হয়ে যা। আর এক পা ও সামনে এগুবিনা। এক্ষণি বের হয়ে যা। তা না হলে এই দা দিয়ে তোর কল্লা কেটে ফেলব। এই সতী সখিনা বানু এক আল্লাহ ছাড়া লুচু জমিদার-টমিদার কাউকে ভয় পাইনা।সকাল হলে সবাইকে তোর এই কু’কীর্তির কথা বলব।

জমিদার কু’মতলব হাসিল করতে না পেরে, খুব ক্ষেপে গেল। তারপর কড়া ধমক দিয়ে বলে,

সখিনা বানু তুমি কাজটা ভালো করলে না। সকাল হলে দেখবে আমি তোমার কি অবস্থা করি।

এদিকে জমিদার কি করেছে দেখেন, সকাল হতে মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ফজরের আজানের মধুর সুর ভেসে উঠল। মুসল্লিরা এক গতিতে সবাই নামাজ পড়তে গেল। সঙ্গে জমিদার ও আছেন। মুসল্লিদের চাপে কিছু দিন আগে তিনি নামাজ ধরেছেন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। তিনি পুরো পাঁচ ওয়াক্ত কোন দিন ও পড়েন না। লোক দেখনোর জন্য দু’এক ওয়াক্ত পড়েন আর কি। ফজরের নামাজ তো পড়েনই না। কিন্তু আজ সাজ সকালে মসজিদে ঈমামের পিছনে লাইনে দাঁডিয়ে নামাজ পড়তে দেখে সবাই তো অবাক!মনে মনে সবাই ভাবল, জমিদার নামাজী হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি যে কু’মতলব নিয়ে মসজিদে এসেছেন, তা কে জানত ।নামাজ শেষ মুসল্লিরা সবাই বেরিয়ে পড়লো। সামনে দোকান সবাই চা খেতে বসলো। এমন সময় জমিদার বলে উঠল,

উপস্থিত সবাই বসেন, কেউ যাবেন না। আমার একটা কথা আছে তা শুণে তবেই যাবেন।

সবাই এক বাক্যে বলে উঠল’

জ্বি জমিদার সাহেব বলুন।

তার গাল কি আর থেমে থাকে। তিনি সতী সখিনা বানুকে অসতী বানিয়ে মিথ্যে বাক্য পেশ করলেন। জোরে জোরে বলেন, তার ঘর থেকে গত রাতে কিছু বেগানা পুরুষকে বের হতে দেখেন। তিনি এগিয়ে গিয়ে এদের আসার কারণ জানতে চাইলে, সখিনা বানু দা দিয়ে তার কল্লা কেটে ফেলার হুমকি দেয়। তিনি প্রাণের ভয়ে আর কিছু না বলে চলে আসেন। এখন সবার কাছে তিনি সখিনা বানুর ব্যভিচারের বিচার চান।

আলেম সহ কয়েক জন বলে উঠল,

নাউজুবিল্লাহ এ কি শুণছি, আবুল মরতে না মরতে বউটা এত নোংরা…।
ছিঃছিঃএর একটা বিহিত করা দরকার। যাও তোমরা আবুলের বউকে ডেকে নিয়ে এসো।

হুকুমে হাকিম নড়ে,অনুরুপ তাই হলো। কয়েকজন চলে গেল তার বাড়িতে। সখিনা বানু সকালের কাজ কর্ম শেষ করে রেডি হলো, জমিদারের দু’বউকে স্বামীর কু’কীর্তির কথা বলার জন্য। ঘর থেকে এক পা সামনে এগিয়ে দিলো, ঠিক তখনি লোকজন তার সামনে দাঁড়িয়ে বলে,

সখিনা বানু তোমার বিচার আছে। আলেম সহ সবাই তোমাকে যেতে বলেছে।
ক্যান,ক্যান।

জমিদারের এক চামচা তামাসা করে বলে,

ক্যান বুঝনা, পর পুরুষ নিয়ে রঙ্গ লীলা….।
আর ডাকলে বলবা, ক্যান ক্যান। চল তাড়াতাড়ি। নইলে ধরে নিয়ে যাবো।
এই চামচার বাচ্চা চামচা, আমাকে টাচ করবিনা। আমি বুঝতে পেরেছি এসব কে করছে,চল…।

সামনে সখিনা পেছনে জমিদারে চামচা সহ আরও ক’জন। সবাই আসন পেতে বসলো,এক পাশে সখিনা। সখিনাকে দেখে নষ্ট জগতের মানুষ গুলো রঙ্গ লীলায় মেতে উঠল। কেউ কেউ বলে উঠল,

স্বামী মরতে না মরতে এসব কি, হা হা হা….হা হি হি….।
এর কঠিন সাজা হওয়া দরকার।
আলেম সহ অনেকে সাপোর্ট করে বলে উঠল,
হুম ঠিক বলেছেন।

তখনি আলেম সাহেব তার ঘরে বেগানা পুরুষ যাতায়াত করেছে এবং জমিদার সাহেব ডাক দেয়াতে তাকে দা দিয়ে কেটে ফেলার হুমকি দেয়া জঘন্য অপরাধ বলে, সখিনা বানুকে দোষী সাব্যস্থ করলো। অপরাধের শাস্তি একশত দোররা ও এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন। জমিদারের দেয়া জবান বন্দীতে সখিনাকে কোন কথা না জিজ্ঞেস করে এক তরফা ভাবে বিচারের রায় দিলো। সখিনা তো অবাক! দোষ করলো কে?আর দোষী হলো কে?এমন অন্যায় রায় কি সহ্য করা যায়। সখিনা ক্ষেপে উঠে বলে,

আলেম সাহেব আপনি ও কি জমিদারের ঘুষ খেয়েছেন?
ঘুষ খেয়েছি মানে!
মানে বুঝেন নি না, এই তো বলছি শুণুন, গত রাতে আমার ঘরে কোন বেগানা পুরুষ ঢুকেনি, ঢুকেছে এই জমিদার রুপি অমানুষটি। শুধু তাই নয়, তার কু’প্রস্তাবে রাজী হয় নাই বলে, আমার নামে মিথ্যে রটনা রটিয়েছে। আর আপনারা এই লুচু স্বভাবের লোকটার কথা বিশ্বাস করে, যাছাই বাছাই না করে, আমার মুখের জবান বন্দী না শুণে, এক তরফা ভাবে রায় দিয়ে দিলেন। আপনি আলেম নয়, আলেম নামের কলংক।

আলেম সাহেব কি আর থেমে থাকে, তিনি ক্ষেপে উঠে বলেন,

কি আমাকে এত বড় অপমান! নষ্ট মহিলার মুখে এসব কথা মানায় না।যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা। এর কঠিন সাজা হওয়া দরকার।

দু’চারজন ছাড়া সবাই একবাক্যে বলে উঠল,

হুম আলেম সাহেব ঠিক বলেছেন।
অসহায় সখিনার পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। হায়রে!নিষ্ঠুর পৃথিবী,সতী নারীকে করে অসতী। এই হলো পুরুষ শাসিত সমাজের রীতিনীতি।অপরাধীকে সাজা না দিয়ে, নির্দোষীকে সাজা দিলো। ঠিক একশত দোররা ও এলাকা ছাড়া।

সতী সখিনা চিৎকার করে বলে,

আমার কোন দোষ নেই, সব দোষ ঐ জমিদারের, ও লুচ্চা, অমানুষ, সাজা যদি দিতে হয়, ওকে দাও, আমাকে ছেড়ে দাও।আমাকে আর মেরোনা।
অসহায় সখিনার আত্ন চিৎকারে আকাশ পাতাল কেঁপে উঠল, তবুও এই নিষ্ঠুর মানুষ গুলোর দিল নরম হলো না। আর হবে বা কেন, এদের মধ্যে অনেকে তো জমিদারের মতো লুচু স্বভাবের। তাই কেউ আসল সত্য জানার চেষ্টা করলো না। বরাবর একশত দোররা দেয়ার পর, অমানুষ গুলো ক্ষান্ত হলো। সখিনার প্রাণ যায় যায় ভাব। একশত দোররা চারটি খানি কথা। সে বহু কষ্টে বাড়ি ফিরে গেল।

এদিকে জমিদার বাড়ি ফিরে গেলে, ছোট বউ পরি বিবি আফসোস করে বলে,

হায় হায়! আপনি একি করলেন,শেষ পর্যন্ত সখিনাকে ও….।
এ আপনি কি করলেন, আমি সব শুণেছি সখিনা আপনার কু’প্রস্তাবে রাজী হয় নাই বিধায়, তাকে অসতী বানিয়ে এমন কঠিন সাজা দিলেন। আল্লাহপাক কখনো এ অন্যায় বিচার সহ্য করবেন না। বিশেষ করে সতী নারীর প্রার্থনা আল্লাহপাক কবুল করেন সর্বদা। আপনার পাপের বোঝা অনেক ভারী হয়ে গেছে। কখন যে তা ফুটে উঠে তা একমাত্র আল্লাহপাক জানেন।

জমিদার ক্ষেপে উঠে বলে,

আর একটা কথা বলবি তো, ঘর থেকে বের করে দেব।
বের করে দেয়া এত সহজ নয়। আমি বেঁচে থাকতে তোমাকে আর কোন নারীর জীবন নিয়ে ছিনিবিনি খেলতে দেব না। বর্তমানে মাননীয়া শেখ হাসিনা সরকার নারী নির্যাতন বন্ধের জন্য অনেক আইন পাশ করেছেন। শুণেছি জি ডি করতে ও টাকা লাগেনা। অন্যায় ভাবে আর একটা কথা বলেছো তো মরেছো। সঙ্গে সঙ্গে থানায় গিয়ে জি ডি করবো । এবার ভেবে দেখ ভালো হয়ে যাবে, না আগের মত কু’কীর্তি করবে?

এদিকে অসহায় সখিনা বানু কি আর করবে, মেয়ে দুটোকে নিয়ে শহরে পাড়ি জমাল। তার দু’সম্পর্কের এক ফুফাতো ভাইয়ের বাসায় গিয়ে উঠল। সে বউ নিয়ে থাকে। সি এন সির ড্রাইভার। বস্তিতে থাকে, কোনমতে ছোট্ট একটা ঘরে। এমতাবস্থায় সখিনা বানুকে কোথায় থাকতে দিবে, তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা….।
এদিকে তার করুণ কাহিনী শুণে ও তার দিলটা একেবারে নরম হয়ে গেল। তার বউটা ও ভালো তাই কোন কথা না বলে তাকে থাকতে দিলো। ক’দিন থাকার পর সখিনা বানু বলে,

ভাই ছাদেক আর ক’দিন তোদের বোঝা হয়ে থাকব।আমাকে একটা কাজ যোগাড় করে দে।
তুমি কাজ করবা বুবু?
হুম করমু।
ঠিক আছে আমি কথা বলে দেখি, ভালো কোন বাসায় কাজ পাওয়া যায় কি না?

ছাদেক এক শিল্প পতির বাসায় তার জন্য কাজ ঠিক করলো। মাসিক বেতন পাঁচ হাজার টাকা। সখিনা বানু মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে। শিল্পপতির স্ত্রী তার উপর খুব খুশি। তার খুব টেক কেয়ার করে। মেয়ে দুটোর খোঁজ খবর নেই। কিন্তু তার বড় ছেলে ডাক্তার। তার স্বভাব চরিত্র ভালো না। এই পর্যন্ত যত কাজের মেয়ে রেখেছে সবাইকে প্রেগন্যান্ট করে তবে ছেড়েছেন। আর না করে উপায় কি বলুন? ছেলের বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে, চাকরী, টাকা পয়সা, সব দিকে ফিট। বয়স চল্লিশ ছুঁই ছুঁই করছে, তবুও অবিভাবক বলছেন, এত অল্প বয়সে কিসের বিয়ে, আর একটু সেটেল হোক, তারপর বিয়ে। মানে আগে টাকার পাহাড় দু’চারটা বিল্ডিং তারপর বিয়ে। অথচ আল্লাহর হাবীব বলেছেন,ছেলে মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত ও কর্মক্ষম হলে সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দাও, তা না হলে বয়সের তাড়নায় তারা যদি কোন আকাম কু’কাম করে থাকে, তার সকল পাপের অংশীদার হবে অবিভাকক। কিন্তু কে শুণে কোরান হাদীসের কথা,বড় লোকেরা দৌড়ায় শুধু টাকার পিছনে, তাই ছেলে মেয়ের সময় মতো বিয়ে দেয়া হয় না,ঠিকমত টেক কেয়ার করে না। এই জন্য তারা নষ্ট জগতে চলে যায়।

এদিকে শিল্পপতির স্ত্রী সালমা খান ছেলের কু’কীর্তির বিচার না করে প্রতিবারই কাজের মেয়েকে দোষী সাব্যস্থ করে মারধর করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেন। কিন্তু সখিনা বানু সতী স্ত্রী তাই বুকে সাহস রেখে কাজ করে চলেছেন। একদিন সাজ সকালে ডাক্তার ছেলের ঘর গোছাতে গেলে, সে খপ করে তার হাত ধরে তাকে কাছে…।

সখিনা বানু ঝাপটা মেরে তাকে ফেলে দিয়ে বলে,

ছিঃছিঃ খালার বয়সী একজন মহিলার দিকে কু’দৃষ্টিতে তাকাতে আপনার লজ্জা করলো না। আপনারা এত খারাপ ক্যান। আমি এক্ষণি সব খালাম্মাকে বলে দেব।

তাদের উচ্চ বাক্য শুণে সালমা খান এগিয়ে আসলেন। তারপর কারণ জানতে চাইলে সে তার ছেলের কু’কীর্তির কথা ফট ফট করে বলে দিলো। ঘটনাটা সত্য কিনা তা জিজ্ঞেস করতে মায়ের মিথ্যাবাদী গুনধর ছেলে বলে উঠল,

মা ও মিথ্যে বলছে, আমি ওকে কিছু করিনি। উল্টো সে আমাকে জড়িয়ে ধরে….।
মা সত্য মিথ্যা যাছাই বাছাই না করে ছেলের কথা বিশ্বাস করে ধমক দিয়ে বলে,
এই হতছাড়ি, কলংকিনি, মিথ্যাবাদী তুই আমার ছেলেকে….।
তোর এত বড় সাহস, আমার ছেলের নামে মিথ্যে রটনা রটালি। এক্ষণি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যা।

সতী সখিনা আর থেমে থাকল না পালটা জবাব দিলো,

ছিঃছিঃ আপনাদের মতো বড় লোকেরা এত মিথ্যাবাদী ক্যান, ছেলের পাপকে ডাকতে শেষে কিনা আমাকে দোষী করলেন। আপনি না বললে ও আমি চলে যেতাম। কারণ এসব লুচু মিথ্যাবাদী লোকের বাসায় কাজ করার ইচ্ছা আমার নেই। আমি গরীব হতে পারি, কিন্তু লুচু ও মিথ্যাবাদী নয়। এই আমি চললাম।
সামনা সামনি কাজের মেয়ের হাতে এত বড় অপমান কি সহ্য করা যায়। জোর যার মুল্লুক তার। তিনি তার চুলের মুষ্টি ধরে গন পিটানি। মেরে রক্তাক্ত করে তবে বাসা থেকে বের করে দিলেন।

সখিনা বানু ছোট একটা বাসা ভাড়া নিলেন। সারাদিন পরিশ্রম শেষে মেয়ে দুটোকে বুকে জড়িয়ে ঘুমান। কিন্তু আজ সন্ধ্যা ঘনিয়ে গেল, এখনও মায়ের খবর নেই। ছোট মাছুম বাচ্চা দুটি চিন্তা যুক্ত হয়ে বসে রইল। এমন সময় দরজার কড়কড় শব্দ…।
মেয়ে দুটো বলে উঠল,

মা তুমি এসেছ?
হু মা দরজা খোল।

দরজা খুলে মেয়ে দুটো একি দেখল! মায়েরে শরীর রক্তে লাল হয়ে আছে। সারা শরীরে জখমের চিহ্ন।মেয়ে দুটো কেঁদে কেঁদে বলে,
মা তোমার এ অবস্থা কে করেছে?

আর বলিস না মা, ঐ বড় লোক জানোয়ারের দল। ওগো বিচার আল্লাহ যদি কোনদিন করে, মা আমারে এক গ্লাস পানি দে।
পানি খেয়ে সখিনা বানু শুয়ে পড়লো। প্রচণ্ড ব্যথা ও জ্বর, আর কত সহ্য করবে! গরীবের ডাকে বড় ডাক্তার আসবেন না। তাই পল্লি চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্যথা ও জ্বরের কিছু ঔষধ খেয়ে মোটামুটি ভাবে সখিনা বানু সুস্থ হয়ে উঠল। ঘরে কিছু টাকা জমানো ছিল, তা এখন শেষ হয়ে গেল। এখন উপায়! পেটের অন্নতো জোগাড় করতে হবে। তাই সখিনা বানু আবার কাজের সন্ধানে বের হলো। কয়েক জন বড় লোকের বাসায় গেল। কেউ কাজ দিলো না। সবার এক কথা, অবিভাবক লাগবে। কারণ একটাই, এ যুগের কাজের মেয়েদের বিশ্বাস নেই। চুরি চামারী করে পালিয়ে যেতে পারে।শত অণুনয়ের পরও সখিনা বানুকে কেউ বিশ্বাস করলো না।এদিকে ফুফাতো ভাইটার ঠিকানা তার কাছে নেই। আগের মতো অবিভাবক হয়ে, সে যে কাজ যোগাড় করে দেবে,তারও কোন সুযোগ নেই। শহরের কারবার, ঠিকানা ছাড়া কেউ কাউকে খুঁজে বের করতে পারে?পারে না।এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে সে বাসার দিকে রওয়ানা করলো।

কিছুদূর আসার পর তার সামনে পড়লো, একটা পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবন। খুব সুন্দর ও জাকজমক পূর্ণ সামনের বৈঠক খানায় বসে আছে এক হ্যান্ডমাস ভদ্র লোক। সুট, ট্রাই চোখে কালার পুল চশমা। সখিনা বানুকে আনমনা হয়ে হাটতে দেখে, তার চোখ, তার উপর কু’আছর করলো। তাছাড়া সখিনার বয়স এখন ও ফুরিয়ে যাইনি।ত্রিশ এর ভিতরে আছে। লোকটি হাত ঈশারায় তাকে ডাকল।সখিনা এগিয়ে গেল, লোকটি বলল,

বোন তুমি কি কোন বিপদে পড়েছ? অনেক্ষণ ধরে আনমনা হয়ে হাটতে দেখলাম। তাই ডাকলাম আর কি। তোমার কোন বিপদ….।
আমি আবার মানুষের বিপদ দেখলে থেমে থাকতে পারিনা, এগিয়ে যাই। বল বোন তোমার কি হয়েছে?

সখিনা বানু ভাবল, লোকটি যখন তাকে বোন বলে ডেকেছে, হয় তো ভালো স্বভাবের হতে পারে, তাই আপন ভাই ভেবে মনের সব কথা খুলে বলল।
সব কথা শুণার পর লোকটি ভাবে, আমি তো এমনি অসহায় নারী খুঁজছি,যার আগে পিছে কেউ থাকবে না। দেখি তাকে ফটানো যায় কিনা? কথা শেষে সখিনা বানু চলে যেতে উদ্যত হলো। তখনি লোকটি বলে উঠল,

বোন যাচ্ছ কোথায়? বস। তোমার দুঃখের কথা শুণে আমি আর থেমে থাকতে পারলাম না। ঐ যে বললাম আমি মানুষের বিপদে এগিয়ে যাই। তাই তোমার জন্য একটা কাজ ঠিক করেছি, তুমি যদি রাজী থাক আজ রাত থেকে কাজে লেগে যেতে পার।ভালো টাকা পাইবা।
বলুন কি কাজ?
গুলশানে আমার একটা হোটেল আছে। তোমার কাজ ঐখানে। খুব সহজ কাজ। গেস্ট আসলে তুমি তাদের একটু খাতির যত্ন করবা। তোমার ডিউটি রাতে, সকাল হলে বাসায় ফিরে আসতে পারবে।প্রতি রাতের জন্য তুমি পারিশ্রমিক পাইবা পাঁচ হাজার টাকা। খুব সুখে দিন কাটাইতে পারবে। বাসায় বাসায় হাড়ি পাতিল মেজে চেহারা নষ্ট করার চেয়ে এটাই তোমার জন্য উত্তম কাজ। এতে তোমার শরীর স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে। পাছে মোটা এমাউন্ট মাইনে, এর চেয়ে আর সুখের চাকরী কি হতে পারে বোন।
কি জঘন্য প্রস্তাব দেখেন,বোন ডেকে দেহ ব্যবসার চাকরী। সখিনা বানু ঠিক বুঝতে পেরেছে, তাই মনে মনে বলে, এতো দেখছি জমিদারের চেয়ে জঘন্য,মিষ্টি কথার আড়ালে লুকিয়ে আছে কু’কীর্তি। সে ভেবেছে আমি কিছু বুঝিনা। ছিঃছিঃ দেহের ব্যবসা। আল্লাহপাক এসব অমানুষদের তুমি বিচার কর না কেন? অসহায় নারীদের নিয়ে কি নোংরা….।

তাকে চুপ থাকতে দেখে লোকটি পুণরায় বলল,

বোন চুপ করে আছ কেন?চাকরীটা কি তুমি করবে? এমন সুখের চাকরী আর পাবেনা।

এক গাল ঘৃনার হাসি হেসে জবাব দিলো সখিনা বানু,

হু ভাই ঠিক বলেছেন। তো আমি একটু ভেবে দেখি।
ঠিক আছে বোন। এই নাও আমার কার্ড।
কার্ড লাগবোনা ভাই। আমি আপনার বাসা এমনিতে চিনি।

কোন মতে সে লোকটাকে এড়িয়ে বাসায় ফিরল। মেয়ে দুটো মাকে জড়িয়ে ধরে বলে,

মা খাবার এনেছ? আজ সারাদিন কিছু খাইনি। ক্ষুধায় পেট জইলা যাইতাছে।

মা কোন কথার জবাব না দিয়ে, মেয়ে দুটোকে জড়িয়ে ধরে খুব করে কাঁদলেন। তারপর মনে মনে বলে,

হায়রে!নিষ্ঠুর পৃথিবীর পুরুষ নরপশুর দল, এই তোদের ব্যবসা, নারীর দেহ নিলাম দিয়ে টাকা কামাচ্ছিস। যে নারী না হলে বংশ বিস্তার হতো না।যে নারী না হলে ভালোবাসা সৃষ্টি হতো না।যে নারী না হলে মা হতো না। প্রত্যেক নারী মায়ের জাতি। সেই মায়েদের দেহ, পর পুরুষের কাছে নিলাম দিয়ে ব্যবসা করতে তোদের একটু ও লজ্জা করছে না। এই নর পশুর দল, তোরা মানুষ নাকি জানোয়ার? তোদের ঘরে কি মা বোন নেই। আমি ক্ষুধার জ্বালায় মরে গেলেও আর এই মানুষ রুপি পশুদের কাছে যামুনা। না খেয়ে মরবো, তবু ও কু’কাম করুম না। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে বেঁচে না থাকাই ভালো।তাছাড়া নারীদের বডির কোন সেইফ নেই।আমি দু’মেয়ের মা হওয়ার পরও নর পশুরা আমার দিকে কু’দৃষ্টিতে তাকায়। আর আমার মেয়ে দুটোকে তো কিছুতেই সেইফে রাখা যাবেনা।এই মানুষরুপি অমানুষদের কারণে তাদের স্থান হবে কোন “পতিতালয়ে” নতুবা কোন “হোটেলে”।

এসব ভাবতে ভাবতে মেয়ে দুটোকে বুকে জড়িয়ে সখিনা বানু ঘুমিয়ে পড়লো।

ক্ষুধার জ্বালা বড় জ্বালা।মেয়ে দুটো খুব ভোরে জেগে উঠল। কেঁদে কেঁদে বলে,

মা ক্ষুধায় পেট ছোঁ ছোঁ করতাছে, আর সইতে পারছি না।কিছু খেতে দাও

মেয়ে দুটোর করুণ আকুতি ভরা কান্নার দৃশ্য দেখার পর মা শোকে পাথর হয়ে গেলেন। একটা প্রবাদ আছেনা, অল্প শোকে কাতর, অতি শোকে পাথর। ঠিক সখিনা বানুর অবস্থা ও তাই হলো। চোখের জল এখন আর নেই শুকিয়ে গেছে। ক্ষুধা নিবারনের মতো কিছুই তার ঘরে নেই, আছে শুধু সাদা পানি। কি আর করা, মা মেয়ে তিন জনে ঢগ ঢগ করে পানি খেয়ে নিলো।এভাবে কেটে গেল তিন দিন।মা পেটে পাথর চাপা দিলেও মেয়ে দুটো পারলো না।চুপি চুপি দু’বোন চলে গেল সামনের দোকানে।তারপর দোকানদারকে কেঁদে কেঁদে বলে,

চাচা আমাদেরকে কিছু খেতে দাও। তিন দিন ধরে কিছু খাই নাই।

দোকানদার অবুঝ শিশু দুটিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে বলে,

তোরা না খেলে আমার কি,তোর মায়ের থেকে টাকা পামু। আগে বাকী টাকা নিয়ে আয়, তারপর খাওন দিমু।

অবুঝ শিশু এসব কি বুঝে,তারা আবার ও কাকুতি মিনতি করে খাবার চাইল।দোকানদার এবার আর থেমে থাকলো না।রেগে গিয়ে কষে দিলো দু’চড় তারপর কড়া ধমক দিয়ে বলে,

বলেছি না বাকী টাকা না আনলে খাবার দুমু না । তবু ও ঘ্যান ঘ্যান করছিস ক্যান।যাও কইলাম, এখান থেকে।
হায়রে নর পশুর দল,দোকান ভর্তি লোকজন, এখানে অনেক ধনকুবের ও আছেন। কেউ পারলো না, পকেট থেকে ক’টাকা বের করে, এই অনাহারী মাছুম বাচ্চা দুটির মুখে খাবার তুলে দিতে।সবাই চেয়ে দেখল। প্রতিবাদ ও কেউ করলো না।

এদিকে মেয়ে দুটো কাঁদতে কাঁদতে বাসায় গেল।মা জিজ্ঞেস করলো,

তোরা কাঁদছিস ক্যান।
খাবার চাইতে দোকানদার চাচা আমাদেরকে মারলো। আর ও বলল, বাকী টাকা নিয়ে আয়, তই খাবার দুমু উঁহু উহুঁ উঁহু…..।

সখিনা বানুর ভিতরে বিদ্রোহের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল।মানুষ রুপি নর পশুদের মেরে রক্তাক্ত করার সাধ জাগল।কথায় বলে না, সাধ থাকলে ও সাধ্য নেই।অসহায় সখিনা বানু কি পারবে? এই বিত্তবান নরপশুদের সাথে পাল্লা দিয়ে উঠতে? পারবেনা। তাই সে সুইসাইড করার সিদ্ধান্ত নিলো।কিন্তু মেয়ে দুটোকে কে দেখবে?, তাদের কে তার সঙ্গে না নিয়ে গেলে তো,

তাদের স্থান হবে কোন “পতিতালয়ে”নয়ত কোন “হোটেলে”।

অসহায় নারীদের পেটের ক্ষুধা নিবারনের এ ছাড়া আর কোন পথ নেই। যেমনটি ঘটেছিল সখিনার জীবনে। সে কু’পথে যেতে রাজী হয় নাই বিধায়, মা মেয়ের পেটে ভাত জোটেনি। ক্ষুধার জ্বালায় মেয়ে দুটো মরতে বসেছে।এভাবে না মরে মা মেয়ে তিন জন এক সঙ্গে সুইসাইড করলে,

ইতিহাসের পাতায় লেখা হবে সখিনা বানু ” ভাতে’র “অভাবে পেটের ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য সুইসাইড করেছে।সকল যন্ত্রণার অবসান হবে। কিন্তু সুইসাইড করতে ও তো পয়সা লাগে।

তার একটা মাটির ব্যাংক ছিলো। তাতে কিছু খুচরা পয়সা জমানো ছিল।সখিনা বানু ফটাফট তা ভেঙ্গে হাটে গেল।তারপর আধা কেজি আতফ চাল,চিনি,দুধ,কীটনাশকের ছোট একটা শিশি কিনে বাসায় ফিরে আসলো। তারপর ভালো করে রেধে প্রথমে মেয়ে দুটোকে খাওয়ালো তারপর নিজে খেল। সবাই এক সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়লো।সকাল হলে বস্তির সবাই জেগে উঠল। সখিনা বানুর কোন সাড়া শব্দ নেই, দরজায় খিল দেয়া।দু’একজনের সন্দেহ হলো। আর ও কয়েক জনকে ডেকে নিয়ে আসল।সবাই দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকল। একি দেখল!মৃত অবস্থায় পড়ে আছে সখিনা বানু ও তার দু’মেয়ে, লোকজন এক গতিতে আসতে শুরু….।

কি বুঝেন জীবিত অবস্থায় কেউ দেখেনা অসহায় মানুষের সুখ দুঃখ,মরে গেলে আসে। এ হলো আমাদের সভ্যতার কৃষ্টিকালচার্ড।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ