এটাই তার বিচার

— ভাই,সামনে নামাই দিবেন! (মেয়েটা)
একপাশ করে গাড়ি রাখলো গাড়ি চালক।
— এই নিন ভাড়া ( ১০ টাকা এগিয়ে দিয়ে বলল মেয়েটা)
— ভাড়াতো ২০ ট্যাকা (চালক)
— কি যে বলেন? এখান থেকে এখানে ২০ টাকা কেমনে সম্ভব? তাছাড়া গাবুয়া থেকে মাইজদী বাজার ১০ টাকা ভাড়া।( মেয়েটি)
— আপনেতো মাইজদী বাজার থাইক্কাও আরেকটু আইছেন(চালক)
— নিরাময় হসপিটাল আর মাইজদী বাজার তো মাত্র ২মিনিট হেঁটে আসলে!( মেয়েটা)
— আপনে হাঁইটা আইতেন, গাড়ী কইরে আইলেন কেন?(চালক)
–সে জন্য বুঝি আপনি আরো ১০টা টাকা বেশি নিবেন? (মেয়েটা)
— দিতে হইবো, দেন(চালক)

মেয়েটি ব্যাগটা হাতড়ে আরো ১০ টাকা বের করে দিয়ে চলে গেলো!
দেখেই বুঝা যাচ্ছে বেশি টাকা ছিলোনা তার কাছে।
হয়তো আমার মত কোনো মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।
আমি স্কুলে থাকতে বাবা সপ্তাহে ১০০টাকা দিয়ে বলতো মা এ সপ্তাহ চলবা!!
কিন্তু স্কুলের যাওয়ার ভাড়াই ছিলো প্রতিদিন আসা যাওয়া ২০টাকা,৬দিনে ১২০টাকা লাগতো,তার উপর টিফিন খরচ।
মাঝে মাঝে কিছু চালক ১৫টাকা চাইতো।
৫টাকাইতো!
কিন্তু তখন এমন ন্যাকামো করতাম,দিতে চাইতামনা,কারণ ১০০টাকা দিয়ে সপ্তাহ চলাটা খুব কষ্টকর ছিলো।
তখন মেয়েটার মত চোখে মুখে চিন্তার ছাপ পড়তো আমার ও। সব মধ্যবিত্তদের ই প্রতিদিন এমন কোনো না কোনো সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়।
মেয়েটা ২০টা টাকা দিয়ে গেলো ঠিকই,,কিন্তু নিয়ে গিয়েছিলো কালো বিবর্ণ চেহারা।

দুদিন আগে কলেজে যাওয়ার সময় অটোতে বসে এমনটা দেখেছিলাম আমি।

দুদিন পর আজ আসার সময় খালি গাড়ি পাচ্ছিনা,অবশেষে একটা খালি গাড়ি পেয়েছি।
গাড়ি চালক ছিলো ২দিন আগের লোকটা,গাড়িতে আরোও কয়েকজন ছিলো!
মাঝপথে দুতিন জন লোক নেমে যায়,,
আমি আর আরেকটা মেয়ে ছিলাম আমাদের কলেজের।
একটু পর লোকটা প্রচন্ড রাগ নিয়ে পেছনে ফিরে আমাদের বলে,
— দেখছেন আপা একজনে ট্যাকা না দিয়াই চইলা গেলো! সোনাপুর থেইক্কা আনছি,২০ ট্যাকা। আমাগো মতো গরীবগো ঠকাইয়া গেলোগা!!( লোকটা)

আমি অনেক কষ্টে হাসি চেপে রাখছি,,লোকটা সামনে ফিরতেই আমি একগাল হেসে ফেললাম।
একটু পর আমি বললাম,
— মামা আপনিতো গতদুদিন আগে একটা মেয়ের কাছ থেকে জোর করে টাকা বেশি নিয়েছিলেন, আর আজ আপনাকে অন্যজন ঠকিয়ে চলে গেলো!!
হয়ে গেলোনা???
লোকটা আমার দিকে ঘুরে তাকিয়েছে অগ্নিমূর্তি হয়ে।।
আমাকে কিছু বলার ভাষা খুজে পাচ্ছিলোনা হয়তো।
অবশেষে গাড়ি একপাশ করে রেখে বলল
— আমি আর যামুনা নাইমা যান আপনেরা!!(চালক)
— কেনো যাবেননা,? এখনো অনেক পথ!(আমার সাথের জন)
— আমনেগো মত যাত্রী লাইগবোনা,নাইমা যান।(চালক)
আমি ব্যপারটা বুঝতে পারি,,নেমে যাই দুজনে।

— নামিয়ে দিয়েছেন ভালো! তবে কাউকে ঠকিয়ে কখনো সুখি বা ধনি হতে পারবেননা,,
কাউকে ঠকানো উপরওয়ালা সহ্য করেনা মামা।
এর কাছ থেকে ১০টাকা বেশি নিবেন,হয়তো তার একটু কষ্ট হবে, হেঁটে বাড়ি ফিরতে হবে। কিন্তু
আপনার অন্য কোনো দিক দিয়ে ১০০টাকা ক্ষয়ে যাবে,আপনাকে ঠকিয়ে চলে যাবে অন্য কেউ!

একথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলে ১০টাকা দিয়া চলে আসি।
লোকটা হয়তো আরো বেশি অগ্নিমূর্তি হয়েছিলো, আমি আর ফিরে তাকাবার প্রয়োজন মনে করিনি।
,বাকি পথটা হেঁটেই আসতে হয়।

গাড়িচালক গুলা এমন ই করে প্রতিদিন কত মানুষের সাথে,আর ঠিক কথা বলাও যায়না।।

মসজিদ মোড় থেকে মাইজদী বাজার বলে অটোতে উঠি, আর নামতে হয় মাইজদী বাজারেরও আগে।
কিন্তু ভাড়াগুলো ঠিকই নেয়,আর ঐদিন দুমিনিটের পথ বেশি আসায় মেয়েটা ১০টা টাকা বেশি দিতে হয়েছিলো .

দুমিনিটের পথ বেশি আসলে যদি১০টাকা বেশি দিতে হয় তবে দুমিনিটের পথ রেখে আমাদের যখন নামিয়ে দেওয়া হয় তখন আমরা কেনো ১০টাকা কম দিতে পারিনা??

হ্যাঁ কিছু মানুষও আছে যারা গরিব এই চালকদের ঠকায়,,কিন্তু আদৌ কি কেউ কাউকে ঠকায়?? নাকি নিজেই ঠকে যায়??
আসলেই কাউকে ঠকানো যায়না,ঠকালে ঐ মানুষটা সাময়িক কষ্ট করে কিন্তু সব কিছু ঠিকি থাকে তার।।
আর যে ঠকায় সে কি ধনি হয়?
তা ও সম্ভব না,,কারণ
ঐ যে উপরে বসে আছে একজন?
সে ঠিকি তার বিচার করে নেয়!!!!!!!


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ