নীল পরী

ওয়াহিদার সাথে আমার প্রথম দেখা হয় আমার কলেজ লাইফের প্রথম দিন।
(আমার প্রথম দিন বলার কারণ হচ্ছে,কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রায় দুই মাস পর সেদিন আমি কলেজে যাই)
,
অনেক দিন পর বন্ধুদের সাথে দেখা হওয়ায় সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম এবং একজন আরেক জনের সাথে ফাজলামো করতেছিলাম। আমাদের সাথে আমার দুজন মেয়ে বন্ধু ছিল,যারা আমার অনেক কাছের।তো সবাই মিলে আড্ডা দেওয়ার একপর্যায়ে আমি দেখতে পেলাম কলেজ গেইট দিয়ে এক নীল পরী প্রবেশ করতেছে।
মেয়েটির সারা গায়ে ছিল নীলে ভরপুর।মেয়েটির ছাতাটা পর্যন্ত ছিল নীল রঙের।
মেয়েটিকে দেখে আমার যায় যায় অবস্থা। হারিয়ে গেলাম কল্পনার জগতে।কিন্তু হারামী বন্ধুগুলো পাশে থাকায় শান্তিতে একটু কল্পনা ও করতাম পারলাম না।
,
অই হারামি অই দিকে তাকিয়ে কি ভাবতেছিস।(তাছলিমা)

তাছলিমার ডাকে কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরে এসে অবাক হলাম,কারণ আমার কল্পনার নীল পরী আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
অই হারামি পরিচিত হও এই হচ্ছে ওয়াহিদা, আর ওয়াহিদা এই তিনি হচ্ছেন আমাদের বান্দর সাহেব যিনি মাসে একবার কলেজে আসেন।(আমাকে দেখিয়ে মরিয়াম কথাটি বলল)
,
-হাই কেমন আসেন (ওয়াহিদা)
-জ্বি আমি ভাল আছি (আমি)
-আচ্ছা আমরা কি বন্ধু হতে পারি (আমি)
-কেন নয় অবশ্যই (ওয়াহিদা)
সেদিন সবাই মিলে অনেক আড্ডা দিলাম।আমাকে পার্টি পর্যন্ত দিতে হলো।
(কিন্তু আমার দুঃখ কে দেখে হারামীরা আমাকে ফকির বানিয়ে ছাড়লো।যাক বেপার না ওয়াহিদার সাথে তো প্রথম দিনি আমাকে ফ্রেন্ডশিপ করিয়ে দিল)
প্রথম দিনি বন্ধুত্ব হলো নাম্বার আদান প্রদান হলো,আমি তো অনেক খুশি।আমাকে আর পায় কে।
কলেজ শেষে বন্ধুদের বিদায় দিয়ে বাসায় আসলাম ঠিকি কিন্তু আমার মন পড়ে রইলো নীল পরীর কাছে।
ওর নীল ঠোটের সেই মিষ্টি হাসি যেন আমাকে ডাকছে ওর কাছে যাওয়ার জন্য। এক কথায় অর সেই মায়াবী হাসি আমাকে কোনো এক মায়াবি বন্ধনে আবদ্ধ করে ফেলেছে।
(সারাটা বিকাল ওয়াহিদার ভাবনায় কেটেছে তাই ছাদে আসলাম ওয়াহিদা কে ফোন দিব)
ওয়াহিদাকে ফোন দেওয়ার সাথে সাথে ফোন রিসিভ করলো
,
-হাই মিষ্টার বাদর সাহেব কেমন আছেন (ওয়াহিদা)
-জ্বি আমি ভাল,আপনি কেমন আছেন?(আমি)
-হুম ভালো,,আচ্ছা আপনি কি কাল থেকে প্রতিদিন কলেজে আসবেন?(ওয়াহিদা)
-অবশ্যই আসবো (আমি)
(কলেজে যাব তো বললাম কিন্তু আমার সকালের ঘুম কে তালাক দিব কি করে।না আমাকে দিতেই হবে না হলে,নীল পরী উড়াল দিবে। (আমি এতক্ষণ ভাবতেছিলাম)
-তাই আর দেরী না করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকাল ৮ টা হতেই এর্লাম এর শব্দে ঘুম ভেঙে গেল।
তাই তাড়াতাড়ি নাস্তা করে কলেজ এর দিকে পা বাড়ালাম।
(কলেজে গিয়ে দেখি) কলেজের গেইটই খুলে নি। কারণ নটা হবার আগেই আমি কলেজে হাজির।কোনো উপায় না পেয়ে একটা দোকানে গিয়ে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
১০টা হতে দেখতে পেলাম আমার পরী আগমন করতেছেন।
তাই তাড়াতাড়ি আমিও ওয়াহিদার কাছে আসলাম।
-হাই জাকারিয়া কখন আসছো (ওয়াহিদা)
-না আমি এই মাত্র আসলাম (আমি)
-তাহলে চলো অই দিকটাতে গিয়ে বসি(আমি)
দুজনে অনেক্ষন আড্ডা দেওয়ার পড় ক্লাসে গেলাম।
ওয়াহিদা বসছিল আমার পাশের বেঞ্চে।
সারাক্ষণ আমি ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হয়তো সে বুঝতে পারছিল, আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি কিন্তু কিছু বলে নি।
,
এভাবেই শুরু হয় আমাদের পথ চলা। আমি প্রতিদিন কলেজে যেতাম শুধু ওয়াহিদাকে দেখার জন্য।
ওর সাথে প্রতি রাতে ফোনে কথা না বললে আমার ঘুমি আসতো না।ওয়াহিদাকে আমি অনেক বেশি ভালবেসে পেলেছিলাম।
ওর সাথে আমার অনেক ভাল বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল।আমার সাথে ইচ্ছা করে ওয়াহিদা রাগ করতো আর আমি ওর রাগ ভাঙাতাম।
যুদিও ওয়াহিদার কাছে আমি ভাল বন্ধু ছিলাম, কিন্তু ওয়াহিদা ছিল আমার অনেক কিছু।
(আমাদের বন্ধুত্বের প্রায় এক বছর হয়ে গেছে)তাই আজ ভাবতেছি পাখি উড়াল দেওয়ার আগে তাকে খাচায় বন্দি করতে হবে।না হলে অন্যকেউ এসে আমার পাখি নিয়া যাবে।আর দেড়ি নয় যেই ভাবা সেই কাজ।
(পরের দিন কলেজে গিয়ে সবার সামনে)
-ওয়াহিদা তোমার সাথে আমার জরুরী কথা আছে (আমি)
-কি কথা, এখানেই বলো (ওয়াহিদা)
-কি করে বলবো, তোমাকে দেখলে আমার মনে কেমন কেমন করে,,সব সময় তোমার কথা মনে হয়।মনে হয় আমি তোমাকে ভালবাসি (আমি)
(আমার কথা শুনার পড় সবাই হাসি শুরু করলো, সাথে ওয়াহিদা ও,মনে হচ্ছে আমি কোনো মজার জোকস বলছি)
-এই তোমরা হাসতেছিস কেনো, আমি সতি্য ওয়াহিদাকে ভালবাসি (আমি)
-এই কিসের ভালবাসা, তুমি আমাকে ভালবাসো, আর আমি তোমাকে ভালবাসবো এটা ভাবলে কি করে।তোমার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করছি, এটাই যথেষ্ট (রাগী লোক নিয়ে ওয়াহিদা)
-আমি আর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার মনে হলো কেউ একজন আমার হাত দরে আছে।ফিছনে তাকিয়ে আমি অবাক। কারন ওয়াহিদা নিজে থেকে আমার হাত দরেছে।
-অই হাদারাম আমাকে ভালবাসো, আবার আমাকে রেখেই চলে যাচ্ছ (ওয়াহিদা)
-মানে এই সব কি বলতেছো (আমি)
-সত্যি বলতেছি, আমি ও তোমাকে অনেক বেশি ভালবাসি। তোমার জন্যই এই কলেজে ভর্তি হয়েছি(ওয়াহিদা)
-তাহলে তুমি কি আগে থেকে আমাকে ছিনতে (আমি)
– হুম, তাহলে পুরো ঘটনা শুনো,তোমার সাথে প্রথম দেখা হয় কফি শপে,তুমি মরিয়াম এর সাথে ঝগড়া করছিলে যার কারনে মরিয়াম তোমাকে দৌড়ান দেয়,এই সময় তুমি একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেয়েছিলা,আর সেই মেয়েটা হচ্ছি আমি।মরিয়াম এর সাথে দেখা করার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম,সেখানেই আমার মন চুরি করে নিয়েছিলে তুমি।
,,,(আমি অবাক হয়ে শুধু ওর কথা শুনতেছি)
তার পর মরিয়াম এর কাছ থেকে তোমার সম্পর্কে সব শুনে এরকম প্লান করি।
-তোমার জন্য এতো কিছু করলাম, আর তুমি আমাকে রেখে চলে যাচ্ছো (অভিমানী সুরে ওয়াহিদা)
-তাহলে আগে যে বললা আমাকে ভালবাসনা(আমি)
-অইগুলা এমনি বলছি,আমি ও তোমাকে অনেক বেশি ভালবাসি হাদারাম, বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো (ওয়াহিদা)
-অই অই কি করতেছো, আমার কাতুকুতু লাগতেছে ছাড়ো আমাকে (আমি)
-কি??দাড়াও তোমার কাতুকুতু ছুটাইতেছি,বলেই আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো।
,
কি আর করার, নির্যাতিত হওয়ার চেয়ে জড়িয়ে ধরা ভালো।
,
অনেক সুখেই চলতেছে আমাদের সম্পর্ক, মান অভিমান এর মধ্য দিয়ে। ওয়াহিদা যখনি রাগ করে তখন আমাকে অনেক কষ্টে রাগ ভাঙাতে হয়।পাগলীটা আমাকে অনেক বেশি ভালবাসে,যার কারনে সব সময় অভিমান করে।কারন প্রতিটা মানুষ তার প্রিয় মানুষটার উপর অভিমান করে।সে মনে করে তার প্রিয় মানুষ তার অভিমান ঠিকি ভাঙাবে।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ