ভালোবাসার অপূর্নতা

কিছু ভালোবাসা কখনো প্রকাশ পায় না। সুপ্ত থেকে যায় হৃদয়ের গহীনের কোন এক কোনে। আনমনে এককী কেঁদে উঠে তাকে ভেবে। আবার কিছুক্ষন পর সবকিছু ঠিক। অনেক টা ঘা এর মতো। মাঝে মাঝে ব্যাথা করে আআবার শুকিয়ে যায়।আমার ভালোবাসাটা ও ছিলো এমন একমুখী।

তাতে কষ্ট ছিলো না,ছিলো না কিছু পাওয়ার আশা। আজকে ওর ” গায়ে হলুদ “অনুষ্টানে এসে নিজেকে কেমন জানি সবার মাঝে থেকেও আমি একা হয়ে গেলাম। চোখের কোন এক কোনে, পানি জমেগেছে। তাই দূর থেকে দেখেই চলে আসলাম। আমার অশ্রুসিক্ত চোখ নিয়ে তার সামনে দাঁড়ানোর মতো সাহস ছিলো না, বলে।

ছোটবেলা থেকেই ওকে দেখতাম। ভারী মিষ্টি একটা মেয়ে, লাজুক স্বভাবের, ওর রাগ টা বড্ড বেশি আর তাই আমাকে ওর বেশি ভালো লাগতো। রূপের কোন কমতি ছিলো না, সাথে গুনেরও। তাই হয়তো আজও বলতে পারলাম না, সেই ছোট্ট (আবির) আজ পর্যন্ত তাকেই ভালোবেসে গেছে আর আগামী তেও বাসবে। আমি তো তার নাম টা বলতেই ভূলে গেছি। ওর নাম ছিলো (নীলিমা)। আমি ওকে নীল বলেই ডাকতাম।

প্রতিদিন স্কুলে ও যেতাম আধঘন্টা আগে। ওকে দেখবো বলে।কখনও কখনও তো ওর বাসার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম একসাথে স্কুলে যাবো বলে। অনেকবার চিরকুট ও লিখেছি, স্কুলের প্রতিটা বেঞ্চে আঁচর দিয়ে লিখেছি তার নামের পাশে আমার নাম। বুনেছি হাজারো স্বপ্ন তিলে তিলে। বোঝাতে চেয়েছি কিন্তুু ও কখনো বুঝে ওটে নি। আর বলতে পারনি এটা ভেবে যে, বন্ধুত্ব নামের সম্পর্কটা নষ্টের ভয়ে। ছুতোর ছলে ওর হাতের স্পর্শ নিতাম, জ্যামেতি আঁকতে পারি না বলে।

কলেজ জীবনটা ছিলো দুজনের পুরো আলাদা শহরে। কিন্তুু বন্ধুত্বের সম্পর্ক টা ছিলো মোটের কমে নি দূরুত্বের কারনে। ও এখন ম্যাজিস্ট্রেট আর আমি সামান্য স্কুল শিক্ষক। শুনলাম ওর হবু বর নাকি, একজন নামকরা ডাক্তার।

আজও পারলাম না সম্পর্কের বেড়াজাল থেকে বাড়াতে। ওর সুখেই আমার সুখ। তবে অপূর্নতা রইলো আমার জীবনে।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ