অনুশোচনা

ফারুক সাহেব একটা কোম্পানিতে চাকুরী করে। হিসাব সহকারী পদে দীর্ঘ ২০ বছর চাকুরী করলে ও এখন সব কিছু ডিজিটাল করায় তাকে এই পদের থেকে নিম্নস্তরে নামানো হয়, কারন কম্পিউটারের কিছুই বোঝেন না।

এই বয়সে তিনি আরো র্যাংক পাবেন, হলো তাঁর উলটোটা,এ নিয়ে তিনি খুব ব্যথিত।
ফারুক সাহেবের এক ছেলে এক মেয়ে শহরের একটা আ্যপার্টমেন্টে ভাড়া থাকে। ছেলের নাম ফারাজ(১০),মেয়ে নুহা(১৬), স্ত্রী ফাহিমা। মোটামুটি সুখী পরিবার।

নুহা ওর মা বাবার সাথে মাঝে মাঝেই ঝগড়া করে, ওর নাম কেনো নুহা রাখা হল, বাবা মায়ের নামের সাথে কেনো মিলিয়ে রাখা হলো না!

ফারুক সাহেব বাবায় ফিরেন রাত ৯টার দিক,
আজ হঠাৎ করে ফারুক সাহেব বাবায় আসছে না, সাড়ে ন’টার বেশি বেজে যায়। ফাহিমা বেহম খুব টেনশন করছে,..নুহা! নুহা! তোর বাবাকে একটা ফোন কর তো, আজ এতো লেট হচ্ছে কেনো?

_মা! তুমি খালি খালি টেনশন করছো, হয়ত বাবার কোনো কাজ বেশি করতে হচ্ছে।
~~নুহা আমার মন অন্য কিছু বলছে। আমি আজ স্বপ্ন ভালো দেখি নাই।
__উফ্ফ!  মা বললাম তো বাবার কিছুই হয় নাই, দেখ কিছুক্ষন পর চলে আসবে।
এমন সময় হঠাৎ করে ল্যান্ডফোন বেজে উঠল, ফাহিমা বেগম দৌড়ে ফোন উঠায়।
~~হ্যালো!
__এটা কি ফারুক সাথেবের বাসা?
~~ হ্যাঁ। আমি তাঁর স্ত্রী বলছি। কি হয়েছে ওনার?
__ও আচ্ছা! তাহলে এখনই পুরান ঢাকা এসে উনাকে নিয়ে যান..
~~উনি ওখানে কি করছেন?
__তা আমরা কি করে বলব?
~আচ্ছা উনি সুস্থ নাকি অসুস্থ?
__শরীরে কোনো ক্ষত-বিক্ষত নেই, তবে কথা বলছে না,তাই ঠিক মতো বলতে পারছি না।
~যাই হোক আমরা তো মিরপুর ১১ এ থাকি, এতো রাতে কি করে যাব?
~~সে আপনাদের ব্যাপার , আমরা বাসায় গিয়ে পৌছে দিয়ে আসব নাকি?
__তাহলে তো ভালই হয়, আসুন না প্লিজ। উপর-ওয়ালা আপনাকে উত্তম কিছু দিবে এর বিনিময়।
~আচ্ছা তাহলে আপনাদের বাসায় আজ রাত রেখে দিন, সকালে এসে নিয়ে যাব।
__আজব তো!চিনিনা জানিনা আমরা তাকে রাতে রেখে দিব?এক ঘন্টার মধ্যে নিয়ে যাবেন..

নুহা মায়ের এমন অনুরোধমূলক কথা শুনে বলছে,
_মা তুমি এ কেমন কথা বলছ?বাবা তাদের বাসায় গিয়ে উঠছে, আমাদেরকে জানিয়েছে এটাই তো বেশি!
তুমি আমার কাছে ফোনটা দাও…
__হ্যালো!সালামু-আলাইকুম, আপনি অ্যাড্রেস টা ঠিক মতো বলুন, আমি এসে বাবাকে নিয়ে যাব।

[nextpage title=”২য় পর্ব”]

এখন রাত ১০টা বাজে। ফাহিমা বেগম খুব টেনশনে করতেছে, এতো রাতে দুজন মেয়ে মানুষ যাবে..
_নুহা শোন! বলি কি কাল সকালেই যাব? শুনছি পুরান ঢাকায় নাকি বখাটের সংখ্যা বেশি, ওরা আমাদের কোন ক্ষতি করলে? আমার খুব ভয় লাগছে রে।
~মা তুমি পাগল হয়ে গেছো নাকি? একটা অজানা যায়গায় অচেনা পরিবারের কাছে বাবা সারারাত থাকবে? যদি বাবা অসুস্থ হয়? তারা কি সারারাত বাবার সেবা করবে?
ফাহিমা বেগম নুহার কথা শুনে রাজি হল, সামনে ফারাজের পিএসসি পরিক্ষা,এর জন্য রাত ১২টার আগে একদিন ও ঘুমায় না মানে ঘুমাতে দেয় না! ফারাজ মা আর নুহার সাথে যেতে চাইছে।
_ফাহিমা বেগমঃ ফারাজ তুই বাসায় থাক, একসাথে বাসার সবাই বের হয়ে বখাটেদের হাতে খুন হয়ে আসি, তুই কি এটা চাস?
-ফারাজঃ হ্যাঁ মা! বাঁচলে সবাই একসাথে বাঁচবো।
মা তোমার মাথায় কি শুধু খারাপ চিন্তাই আসে? আর ফারাজ এতো বুড়ো বুড়ো কথা বলা লাগবে না, মা যা বলছে তা শোন,তুই বাসায় থাক, আমি আর মা যাই। আর শোন আমরা বাহির থেকে লক করে যাই, তোর ঘুম আসলে ঘুমিয়ে পড়িস।
_নুহা ওই লোক টাকে আরেকটা ফোন করে দেখ না! ফাহিমা বেগম বলছে।
~কেনো মা?
_আমি একটু কথা বলব,
_হ্যালো!
~হ্যাঁ, আপনারা চলে আসছেন?
_না…, আমরা তো এখনো বাসায়।
~বলেন কি?আসবেন কখন?
_বলি কি আপনি একটু নিয়ে আসেন না! অথবা মিরপুর পর্যন্ত নিয়ে আসুন?
~আপনারা বুঝতে পারছেন না কেনো?  আমি যেতে পারব না! এসে নিয়ে যান…
~আচ্ছা তাহলে।
দেখলে তো মা বলছিলাম খালি খালি এদের কাছে অনুরোধ কর না।
ফাহিমা বেগম আর নুহা বাসা থেকে বের হলো তখন তখন রাত ১১টা বাজে। ঢাকা শহর তখন ও জমজমাট, গাড়ি পাওয়া গেলেও ভাড়াটা একটু বেশি।
_ফাহিমা বেগমের মনে ভয় কাজ করছে, নুহাকে নিয়েই যত ভয়! কারন নুহা খুব সুন্দরী, যে কোনো ছেলের সহজেই চোখে পড়বে।
~এই যে মামা!  পুরান ঢাকা যাবেন? নুহা বলল,
__না, আমি ওদিক যাব না!
-নুহা তুই রিকসাওয়ালাকে মামা বললি কেন?
__মা! আজকাল গাড়িওয়ালাদের মামা বলেই সম্বোধন করে!
-সবাই বলুক, তুই বলতে পারবি না!
__মানে কি, কেন মা?
-না,আমার কাছে ভাল্লাগেনা, নিষেধ করছি বলবি না!
__আচ্ছা বলব না।এখন চলো হেটে সামনে এগিয়ে দেখি রিকসা সিএনজি কিছু পাওয়া যায় কিনা….[nextpage title=”৩য় পর্ব”]

প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে হাটার পর একটা সিএনজি পেলো, নুহা সিএনজিকে ডাক দিলো,
_আপনি পুরান ঢাকার সূর্য হাসি কিন্ডারগার্টেনের ওখানে যাবেন?
~হ্যাঁ যাবো!
মা গাড়িতে উঠো, ফাহিমা বেগম সিএনজিতে উঠতে চাইছে না!
_মা উঠছো না কেনো?
~আমি সিএনজিতে যাব না।
_মা! এতক্ষন পরে একটা সিএনজি পেলাম আর তুমি বলছ যাবে না? কেনো যাবে না?
~সিএনজি বদ্ধ ভালো মতো আশ-পাশ দেখা যায় না, যদি আমাদের অন্য কোথাও নিয়ে যায় চিনতে পারব না, চিৎকার করলে সহজে কেউ শুনবে না। তাই আমরা রিকসায় যাব, যেনো সমস্যা হলে কেউ বুঝতে পারে।
_এসব কি বলছো মা? এমন কিচ্ছু হবে না,তুমি চলো…
~বলছি তো যাব না, এমন ভাব করছিস মনে হয় সব কিছুই চিনিস?
_চিনি না তবে আজকে চিনে যাব!
নুহা ফাহিমা বেগমকে রাজি করাতে না পেরে সিএনজি ড্রাইভারকে বিদায় দিয়ে দিল। এর পর ওরা আবার হাটতে শুরু করল!
হাটতে হাটতে মিরপুর ১০ এ চলে আসছে,,
নুহা খুব ক্লান্ত…. মনে মনে ওপাশ থেকে ফোন করা লোকটির প্রতি খুব রাগ করছে! এবং ভাবছে মানুষ যদি মানুষকে সাহায্য না করে তাহলে কে করবে সাহায্য?লোকটি ইচ্ছে করলে বাবাকে নিয়ে আসতে পারত!
_মা!আমার খুব খিদে পেয়েছে,চলো হোটেলে গিয়ে খেয়ে আসি।
~এসব কি বলিস নুহা? এখন খাওয়ার সময়? আগে চল তোর বাবাকে নিয়ে আসি।
_মা!তুমি তো আজকে আমার ফেভারিট খাবার রান্না করেছো ইলিম মাছ ভাজা আর চিংড়ি মাছের কোর্মা, বাবা আসে নি বলে খেতে পারলাম না, এতক্ষনে নিশ্চই ডাইজেস্ট হয়ে যেত।এখন বাবাকে বাসায় নিয়ে সবাই একসাথে খাব।
ফারুক সাহেব বাসায় না আসা পর্যন্ত রাতের খাবার কেউ খায় না! তাই ফাহিমা বেগম, নুহা রাতে খায় নাই!
_মা! তোমার ফোন টা একটু দাও,
~কেন?
_ওই হার্টলেস লোকটার সাথে একটু কথা বলব,
~হার্টলেস মানে কি?
_মা! হার্টলেস মানে হলো হৃদয়হীন।তুমি তোমার ছেলে ফারাজের কাছে ছোট-খাটো ইংলিশ শিখে নিও। বাবা এতো লিটারেট হয়ে কেন যে তোমাকে বিয়ে করল!
_নুহা! তুই কিন্তু আমাকে ছোট করছিস,তোর বাবা আমার পিছনে সাত বছর পর্যন্তু ঘুড়ছে তার পর আমি রাজি হয়েছি।
উফফ মা!ফান করে বলেছি তুমি রাগ করছো কেন? তুমি তো আমার সেরা মা।
হয়েছে আর ন্যাকামি করতে হবে না।
নুহা কখনো সন্ধার পর বাসা থেকে বের হয় নাই, তাই রাতটাকে খুব এনজয় করতেছে!
মা! আমার কাছে কিন্তু খুব ভালো লাগছে রাতে হাটতে!
_আমি চিন্তায় হতাশ হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে আর তোর কাছে খুব লাগছে তাই না?
নুহা!ওইযে একটা খালি রিকসা ডাক দে….[nextpage title=”চতুর্থ পর্ব”]

মা!আমি ডাক দিতে পারব না তুমি দাও…
আচ্ছা দিচ্ছি..
_আপনি পুরান ঢাকার সূর্য হাসি কিন্ডারগার্ডেনের ওখানে যাবেন?
~হ্যা যাব,উঠেন…
_ভাড়া কত?
~৪০০টাকা দিতে হবে!
_কি বলছেন, ৪০০ টাকা দিয়ে তো আমাদের গ্রামের বাড়ি যাওয়া যায়।২০০ টাকায় যাবেন?
~না, তাহলে আমি যাব না।
_নুহাঃ জেনুইন ভাড়া ১০০ টাকা আপনি সেখানে ৪০০টাকা কিভাবে চাচ্ছেন?  ৩০০ টাকা দিব চলেন..
রিকসাওয়ালা যেতে রাজি হল।
ফাহিমা বেগম বেশ চিন্তিত দেখে নুহা বলল…
~মা! এখন তো রিকসায় উঠছো, তারপর ও এতো টেনশন করছ কেন?
_জানিনা, কেন যেনো মনটাকে শান্ত করতে পারছি না। মনে হচ্ছে খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে…
~মা! মেজাজ টা গরম করবে না, সেই কখন থেকে ওসব ওর্থলেস কথাবার্তা বলে যাচ্ছ।
মা! এতো সুন্দর জোস্না রাত দেখে আমার একটা কবিতা রচনা মনে আসছে, তোমাকে শুনাব?
~আমার শুনতে ইচ্ছে করছে না, নুহা!তুই তো কখনো এতো কথা বলিস না? আজকে এতো কথা বলসিস কেন?
_জানিনা মা! কেন যেনো আজকে আরো অনেক কথাই বলতে ইচ্ছে করছে! তুমি শুনবে?
~এখন না বাসায় গিয়ে শুনব।
রিকসাওয়ালা জিঙ্গেস করলঃ আপনার এত রাতে কোথা থেকে আসলেন?
নুহাঃ যেখান থেকে আপনার রিকসায় উঠেছি সেখান থেকে আসছি।
নুহা কিংবা ফাহিমা বেগম আগে কখন ও পুরান ঢাকায় আসে নাই তাই সঠিক পথে যাচ্ছে কিনা তা ও বুঝতে পারছে না।
রিকসাওয়ালাকে নুহা বললঃ একি আপনি আমাদের কোন পথ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন?
রিকসাওয়ালাঃ ভয় নাই, এখান দিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি পৌছাতে পারবেন।
জানো মা! রিকসাওয়ালাকে এই কথাটি  অ্যাপ্রোক্সোমেটলি বলছিলাম,দেখছো কিভাবে সত্যি হয়ে গেল?
পৌছাতে আর কতক্ষণ লাগবে? ফাহিমা বেগম বলল।
_আর পাঁচ মিনিটের মতো লাগবে।[nextpage title=”৫ম পর্ব”]রিকসা থেকে নেমে নুহা ফোন করলঃ
_হ্যালো! আমরা কিন্ডারগার্ডেনের  এখানে দাড়িয়ে আছি, এখানে খুব নিস্তব্ধ বেশিক্ষন দাড়িয়ে থাকতে পারব না, বাবাকে নিয়ে আসুন।
~আমি নিয়ে যেতে পারব না, আপনি বাসায় এসে নিয়ে যান!
_আপনি কেমন মানুষ?  মানবতা বলতে কিছু বোঝেন না? আমরা এতদূর আসতে পারছি আর আপনি এখানে আসতে পারবেন না? আপনার বাসা চিনবো কি করে?
~সামনে ২মিনিট হেটে এগিয়ে দেখেন প্রজাপতি ভিলা নামে একটা বিল্ডিং ওখানের গেইটকিপারের কাছে বলবেন  নুহাশ এর বাসায় যাব তাহলেই তিনি বাসায় নিয়ে আসবে।
_ফাজলামি করছেন? আপনার নাম নুহাশ হয় কি করে?
~মানে?নাম আবার কোনো কারন নিয়ে হয় নাকি?
এ বলে নুহাশ ফোন কেটে দিল।
নুহা তুই কি শুরু করছিস? এখন চল সামনে এগিয়ে দেখি বাসা কেথায়,ফাহিমা বেগম বলল।_মা! তুমি খেয়াল করেছ?লোকটার নাম নুহাশ!
~হ্যাঁ,তাতে কি হয়েছে?
_আমার ভালোলাগছে না, ওই লোকটার নামের সাথে আমার নাম প্রায় মিলে যায়।
প্রজাপতি ভিলার গেইটকিপারের কাছে গিয়ে জিঙ্গেস করলঃ _নুহাশের বাসা কোথায়?
~আপনারা তাঁর কি লাগেন?
_কিছু লাগি না! আমার বাবা তাঁর বাসায় আছে তাই বাবাকে নিতে এসেছি।
গেইটকিপার একটি দীর্ঘশ্বাস দিলো এবং বললঃ হায়রে! কেউ আর নুহাশের খবর জানতে আসলো না!
_নুহাঃ মানে? আপনি কি বলছেন কিছু বুঝতে পারছি না?
~গেইটকিপারঃ আজ এগারো বছর ধরে এখানে চাকুরী করছি, আপনারাই প্রথম নুহাশকে খুজছেন বা বাসায় যেতে চাইছেন!
নুহা গেইটকিপারের কথা শুনে অবাক হয়ে গেল। কি বোঝাতে চাচ্ছে সম্পূর্ণ বুঝতে পারল না।
_ফাহিমা বেগমঃ সে যাই হোক, আপনি আমাদেরকে তাঁর বাসায় নিয়ে চলুন? আমার স্বামী তাঁর বাসায় অনেকক্ষণ ধরে আছে ওনাকে নিয়ে বাসায় যেতে হবে।
নুহাশের সম্পর্কে নুহা আরো কিছু জানতে চাইল কিন্তু গেইটকিপার আর কিছু বলতে চাইছে না!
নুহাশ নিচ তলা থাকে… রাত সাড়ে বারোটা বাজে দরজা পুরো খোলা! তাই নুহা,ফাহিমা বেগম নক না করেই রুমের ভিতরে ঢুকলো….
[nextpage title=”৬ষ্ঠ পর্ব”]টেবিলে কিছু খাবার রাখা, ফারুক সাহেব খাটে ঘুমান। নুহাশ চেয়ারে বসা।
নুহাশ ওদেরকে বসতে বলল। ফাহিমা বেগম বসল। নুহাশ দুটো রুম নিয়ে থাকে, একটি রুমে খাট এবং টেবিল অন্য রুমে বইয়ের সেল্ফ এ ভর্তি। নুহা না বসে সরাসরি অন্য রুমে ঢুকলো, এতো বই দেখে সত্যিই অবাক হলো, ভাবতে লাগলো, ইশ!যদি আমার ও এমন একটা বইয়ের আলাদা রুম থাকতো! নুহা এতো বই দেখে কোনটা রেখে কোনটা পড়বে বুঝতে পারছে না,কারন এখানের প্রায় বই-ই নুহার পছন্দ। নুহাশ চেয়ার থেকে উঠছে না, বসে বসেই নুহাকে বলছে তোমার ওখান থেকে বেশি পছন্দের বই গুলো তুমি নিতে পার।
ইশশ লোকটা কত্ত ভালো, শুধু শুধু আমি ভূল বুঝে কত বকাবকিই না করেছি,নুহা বলল।
নুহা পাঁচটি বই সিলেক্ট করে। বই গুলো নিয়ে অন্য রুমে আসে। ফাহিমা বেগমের পাশে বসে ফিসফিস করে বললঃমা! _হ্যা, বল। ~জিঙ্গেস করো তো? তার সাথে কে কে থাকে?
ফাহিমা বেগমঃ তুমি কি একা একাই থাক?
নুহাশঃ হ্যা, একাই থাকি।
নুহাঃ আপনার ফ্যামিলির মেম্বার্স গ্রামে থাকে বুঝি?
নুহাশঃ আমার তেমন কেউ নেই, শুধু বাবা আছে, তা ও না থাকার মতো।
নুহাঃ বৃদ্ধ অসুস্থ নাকি?
নুহাশঃ আমার জন্মের সময় মা মারা যায়, বাবা বিরাট ব্যবসায়ী, তাই আমাকে বেশি সময় দিতে পারত না, একজন কেয়ারটেকারের কাছেই পালিত হয়েছি। হঠাৎ করে একদিন স্টেয়ার্স থেকে পড়ে পা ভেঙে যায় সেই থেকে আমি পঙ্গু।
নুহাঃ ওহ্, এতো খুব দুঃখের বিষয়!তো আপনার বাবা এখন কোথায়?
নুহাশঃ বাবা আমেরিকা থাকে, শুনেছি ওখানে নাকি বিয়ে করেছে ছেলে মেয়ে সবই আছে, তাই আজ ২০ বছর ধরে আমার খবর নেয় না! এই যে দুটো রুম দেখছেন, এই রুম দুটোর ভাড়া দিতে হয় না, বাবা কিনে দিয়েছে আমার জন্য, এতেই তাঁর দায়িত্ব শেষ! কথা গুলো বলতে বলতে নুহাশের চোখে পানি এসে পড়েছে, কিছুক্ষনের জন্য সবাই নিরব হয়ে গেলো…

পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন…


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ