হঠাৎ দেখা

স্টেশন চত্বরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাতই থমকে দাঁড়ালাম। বলতে পারো, কোথায়? কিসের দেখা আমার চলন্ত পথকে রুখে দিল, দিল আমাকে স্থবির করে? নাহ! হয়তো ভুলে গেছ, আবার হয়তো আজো ঐ দিনটি মনের কোনে স্মৃতির পাতা খামচে পরে আছে।

কিন্তু আমি ভুলি নি, আমার স্মৃতির মণিকোঠায় এ যে একেবারে গেঁথে গেছে; যে গাঁথনি খুলে তাড়ানোর সাধ্যি কারো নেই।

হুম, সেদিনের সেই কৃষ্ণচূড়া ফুলের স্মৃতিমোড়ানো গাছটাই আমাকে ক্ষণিকের জন্যে অন্য জগতে নিয়ে গিয়েছিল।

যেদিন তোমার সাথে আমার অপরিচিতের বেশে হঠাৎ দেখা, সেদিন ছিল রবিবার। তোমার পরনে ছিল লাল রঙের শার্ট। আমার মনের আকাশে তখন ও কোন রঙের আঁচ লাগে নি, তার ছাপ আমার পোশাকে স্পষ্ট, আমি পরেছিলাম সাদা । তবে সেদিনের পর সে রঙহীন পোশাকখানিও পরিপূর্ণতার আভাসে রঙ্গিন হয়ে উঠেছিল, আর আমার ভালো লাগার রঙের তালিকায় নীল রঙের পাশে লাল রঙটি খুব প্রগাঢ় রূপে স্থান করে নিয়েছিল।

স্টেশনে অপেক্ষমাণ সকল যাত্রীদ্বয়ের দৃষ্টি ট্রেন লাইনের দিকে, কখন ট্রেন আসবে, কখন ট্রেন আসবে, কখন সে ট্রেন তাদেরকে স্ব স্ব গন্তব্যে পৌঁছে দিবে ? ??…… কেবল, তুমি আর আমিই হয়তো মনের অজান্তেই দুজন দুজনকে দেখার অপেক্ষায় অপেক্ষমান ছিলাম।

আমরা দুজনই এসে দাঁড়িয়েছিলাম কিভবে যেন একই ছায়াতলে, সেই কৃষ্ণচূড়া গাছটার তলায়। হঠাৎ ই খেয়াল করলাম ফুলের পাপড়ি জেন রক্তবর্ণ হয়ে উপরের গাছ থেকে নিচে নেমে তোমার গাঁয়ের শার্টের রঙে লেপটে আছে।

আমরা দুজন দুজনকে আড়চোখে এমন ভাবে দেখছিলাম যেন, আমরা আমাদের অপরিচিতের মাঝে খুব পরিচিত কাউকে খুজছিলাম। কেউ আমরা মুখে কোন কথাই বলছিলাম না, কিন্তু আমাদের চোখের ভাষা এমন ছিল, যা সকল মুখ দিয়ে বলা কথাকে হার মানায়। হয়তো ঐ অল্পকিছু সময়ের মাঝেই আমরা আমাদের নিজেদের সত্ত্বাকে একজন আরএকজনের মাঝে আবিস্কার করে ফেলেছিলাম।

মিনিট দশেক পর,
তখন ঘড়িতে সময় সাতটা বেজে চল্লিশ। অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ট্রেন এসে থামল স্টেশনে। সবাই যে যার মতন ছুটতে শুরু করলো, শুধু আমরাই ঠাই দাঁড়িয়ে, দেখে মনে হচ্ছিলো, আমরা যেন আমদের গন্তব্যের নাগাল পেয়ে গিয়েছি।

অপরিচিতের ভিরে যখন মানুষ যখন তাঁর চিরচেনা, বহু প্রত্যাশিত মুখ খানির সন্ধান পায় তখন হয়তো তাই ঘটে। কি জানি, অন্তত আমারত তাই মনে হয় কারন, আমাদের বেলায় তো তাই ঘটেছিল।

তবুও কথায় বলে না, আনন্দের সময় গুলো নাকি চোখের পলকে কেটে যায়, তখন আবার বাস্তবতার সাথে যুদ্ধ করতে হয়, ঠিক তেমনি আমাদের সুখি সময় টা ও বেশিক্ষণ থেমে ছিল না, হঠাৎ ই ট্রেনের শব্দে আমরা সম্বিত ফিরে পেলাম।

অতঃপর বাস্তবতার খাতিরে, গন্তব্যের ভিন্নতায় , দুজন দুদিকে পা বারালাম; কিন্তু স্মৃতি গুলো হয়ে রইল অমর।

তবে বেশ হতো, যদি সময়টাকে বন্দী করে রাখা যেত কোন এক সুখী ফ্রেমে।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ