অলীক ভয়

হলরুমে পিন পতন নীরবতা ।

কেবলমাত্র এই দিনটিই স্কুল হলরুমের সব থেকে নিস্তব্ধ দিন। আজ বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষনার দিন ।হাসানের নিজেরটির সাথে আশেপাশে বসা সকলের হৃদপিন্ডের ধুক ধুক শব্দ শুনতে পারছে ।পাশে বসা ছেলেটির হাতে রুমাল দেখতে পেল ।”কান্নার পূর্ব প্রস্তুতি,” হাসান মনে মনে ভাবল ।

হালো,হ্যালো

সকলের দৃষ্টি একসাথে স্টেজে দাড়ানো অর্ধ টেকো মাথার মধ্য বয়সী এক স্যারের ওপর পড়ল । তিনি মাইক টেস্ট করছিলেন ।হাসানের কেনো যেন এই স্যারকে মোটেও ভাল লাগে না । কুত্‍সীত ভাবে সুন্দর হাসি দেয়ার ব্যর্খ চেষ্টা করে স্যার বললেন,”সম্মানিত অভিভাবকগণ এখন নবম শ্রেণীর ফলাফল ঘোষনা করছি । প্রথমেই বলতে হচ্ছে যে, বিগত দশ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে অতিদুঃখ জনক ভাবে এ বছর ১00% এর জায়গায় ৯৯% শিক্ষার্থী ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হচ্ছে । যেই একজনের জন্য স্কুলের রেকর্ড ভেঙে গেল সে হল এই হতভাগা ।”হাসানকে হাত দিয়ে দেখিয়ে জোর গলায় বললেন,

এই সেই হাসান ,স্কুলের কলঙ্ক।

স্বাভাবিক ভাবেই জনতার উত্‍সুক দৃষ্টি কলঙ্ককে খুজে পেতে দেরি করল না । কিছুতেই নিজ কানকে বিশ্বাস করতে পারছেনা হাসান। আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দ্বিগুণ জোরে স্যার বললেন,

কলঙ্ক কলঙ্ক, এই সেই কলঙ্ক।

হাসান দাড়িয়ে চিত্‍কার দিয়ে বলল,

না না আমি ফেল করিনি, আমি কলঙ্ক হতে পারি না !

হাসান ছুটে বেড়িয়ে গেল সেখান থেকে ।যাবার সময় শুধু বিকট এক অট্টহাসির সাথে কলঙ্ক,কলঙ্ক ডাকই শুনতে পেল । চরম লজ্জা আর অপমান মাথায় নিয়ে দৌড়াচ্ছে সে ।হঠাত্‍ কিছু বোঝার আগেই মুখ থুবরে পরতে হল তাকে ।

কিরে আদুভাই মজা লাগে!?

কন্ঠ চিনতে পারল হাসান। বজলু ,বজলু ওকে ল্যাঙ মেরে ফেলে দিয়েছে । কোনো পাল্টা উত্তর না দিয়েই বজলুও তার সাঙ্গপাঙ্গদের পাশ কাটিয়ে উঠে দৌড় দিল হাসান । দৌড়োচ্ছে তো দৌড়োচ্ছে পথ যেন আর শেষ হয়না । পা দুটো অসার হয়ে আসছে সব যেন কেমন ঘোলাটে লাগছে । বজলু ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের “ফেল্টু ফেল্টু ” ডাক কানে এসে কাটারমত বিঁধছে । দৌড়োতে দৌড়োতে প্রায় মাঠের শেষ প্রান্তে এসে পরেছে । কিন্তু  পরমূহুর্তের দৃশ্য হাসানের গতি আটকে দিল । সামনে সেই স্যার । তার পাশে বজলু ও তার সাঙ্গপাঙ্গ, পিছনে সকল অভিভাবক । “ধর ধর এই সেই কলঙ্ক” “কিরে ফেল্টু মজা লাগে ?” “আমি ফেল্টু না আমি ফেল্টু না” হাসান পিছন ঘুরে ওদের থেকে দৌড়ানো শুরু করল। তারপরই গুলির শব্দ । ক্রস ফায়ার !!!। হাসান আর্তনাদ করে উঠল,”আমাকে গুলি করোনা , আমাকে গুলি করোনা , আমি তো গুলি খাবার মত অপরাধ করিনি !!” আকাশ , বাতাস,পাতাল গাছের কাঁঠাল সব যেন এক হয়ে আসছে ।হাসান নিজেকে জিগ্গেস করল,

এটাই কি মৃত্যু ?

আ আ আ আ । বিকট চিত্‍কার দিয়ে হাসান উঠে বসল । সাত সেকেন্ডের মত লাগল শরতের আকাশের মত সব ব্যাপার পরিষ্কার হতে । সে যে নিহত নয়, আহত নয়,এমনকি কলঙ্কও নয়,নিজ ঘরে বিছানার ওপরে বেশ আরামেই আছে । মনে মনে এটা ভেবে হাসান এক স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ল ।”সত্যিই কি আমি বাস্তবে আছি?” হাতে চিমটি কেটে খুঁত খুঁতে মনে জেগে ওঠা আশঙ্খাকে ভুল প্রমাণিত করল সে………..


নামের কার্টেসীঃ শান্তনু শুভ্র


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ