‘ডেফিনেশন অফ লাভ’

আচ্ছা,
ভালোবাসা কাকে বলে?
কিভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় একে?
হোয়াট ডু ইউ থিংক?

আই থিংক:
বাবা ঘরে ফিরার আগেই খাবারের থালা, বাটি সাজিয়ে বসে মায়ের অপেক্ষার নাম ভালোবাসা।
কিছু কিনে সেটা যতটুকুই হোক ভাই-বোন দুজনে মিলে ভাগাভাগি করে খাওয়ার নাম ভালোবাসা।
হঠাত্ই ঘরে ঢুকে বোনের চুলের ব্যান্ড খুলে নিয়ে ‘কিরে কী অবস্থা?’ এটা বলার নাম ভালোবাসা।
মা-বাবা কোন কিছু নিয়ে একটু বকা-ঝকার পর চুপিচুপি রুমে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে নীরবে চোখের জল ফেলার নাম ভালোবাসা।
বোনের বাবার কাছে নালিশ দেয়ার পরক্ষণে এসেই মাকে, ‘মা, দাদা খাইছে’ এটা জিজ্ঞেস করার নাম ভালোবাসা।
হালকা পুড়ে যাওয়া, লবণ মরিচ কম বেশি হওয়ার পরেও ‘আচ্ছা, আমার সমস্যা নাই’ বলে খাওয়ার শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার নাম ভালোবাসা।
অযথাই বোনকে সব পোস্টে পচানোর নাম ভালোবাসা।
টাকা তেমন না থাকা সত্বেও নিজের জমানো টাকা দিয়ে ভাই-বোনের জন্যে যেমনই হোক কিছু কিনে গিফট করার নাম ভালোবাসা।
ভাই কোথা থেকে হঠাতই দৌড়ে এসে কোলের উপর শুয়ে ‘ঐ, আমার মাথার চুলগুলো টেনে দে না; নায় তোরে আজ নড়তে দিমু না’- বলার নাম ভালোবাসা।
সারাদিন কাজের শেষে বাড়ি ফিরে পরিবারের সবাই একসাথে গোল হয়ে বসে খাওয়ার নাম ভালোবাসা।
হঠাতই ছোট ভাই বোনদের ফোন রিসিভ করে ‘কিরে দিদি, ঢাকায় এসে তো পুরাই ভুলে গেলি?’- কথাগুলো শুনার নাম ভালোবাসা।
বাড়ি গেলে সব ভাই বোন একসাথে জরো হয়ে ‘কিরে দিদি, আমার জন্য কি অানলি? নাকি ভুলেই গেলি? সবসময় ওরেই দেস, আমি কই?’ এসব ছোট ছোট আবদারের নাম ভালোবাসা।
রাত জেগে গল্প করে এক খাটে জায়গা না হবার পরেও গাদাগাদি করে সব ভাই বোন মিলে ঘুমানোর নাম ভালোবাসা।
ক্লাস ছুটির পর পুকুর পারে সন্ধ্যে পর্যন্ত বসে থেকে এক ফ্রেন্ড আরেক ফ্রেন্ডকে নিয়ে গল্প করতে করতে বাড়ি ফেরার নাম ভালোবাসা।
অহেতুক এসে চোখ মেরে ‘কিরে হারামি/মামু/খালাম্মা/খালুআব্বু/শালা/ভিদিক/আপু/ফইণ্ণী/সুইটি/কিউটি/ডার্লিং কেমন চলে দিনকাল?, তলে তলে টেম্পু চালাও আর আমরা কইলে হরতাল’- বলার নাম ভালোবাসা।
একবন্ধু আরেকবন্ধুর সাথে কোনো কারণ বশত কথা কাটাকাটি হলে পরে অন্যের থেকে তার খোঁজটা নেয়ার নাম ভালোবাসা।
এক বন্ধু অন্য বন্ধুর চেহারা না দেখেও হাজার মাইল দূর থেকেও ‘ও হয়তো ভালো নেই সামহাউ’ এটা অনুভব করতে পারার নাম ভালোবাসা।
যতযাই হয়ে যাক না কেনো, বন্ধুর বিপদে নিজ থেকে এসে, ‘কিরে, কি সমস্যা?’ -বলতে পারার নাম ভালোবাসা।
কোনো বন্ধু বিপথে যাচ্ছে দেখে এসে, তাকে দরকার পড়লে দু একটা চড় থাপ্পড় দিয়ে ‘তোরে যদি আর নেক্সট টাইম এমন দেখি, তো তোর খবর আছে’ -বলার নাম ভালোবাসা।
‘কিরে তোর নাকি শুনলাম ব্রেকআপ হইছে? আচ্ছা ব্যাপার না; এই উপলক্ষে আমাদের একটা ট্রিট দিয়ে দেতো এখন; দেখবি আজকেই আরেকটা পাইয়া গেছস!’
মাঝরাতে এসে ‘আপু চলো স্নাপ করি?’ বেশিসময় চুপ থাকলে ‘আপু তোমার কি মাথা ধরছে? চল তেল লাগাই দেই’ রাত জেগে এসব আবদারের নাম ভালোবাসা।
কিংবা ক্লাসে স্যার/ম্যামদের কোন কারণে রুড বিহেভ করার পর যাবার পথে ডেকে এনে ‘বেশি মন খারাপ হইছিল? তোমাদের ভালোর জন্যেইতো বলি’- বলার নাম ভালোবাসা।
ক্লাসে ম্যাম/স্যারদের ‘আরে, আমার তো কতগুলি সন্তান, এই যে আপনারা/তোমরাইতো আমার সন্তান’- বলার নাম ভালোবাসা।
বয়স্ক একজন মানুষ কাজ করছে দেখে নিজে এগিয়ে এসে ‘আপনি যান তো এখান থেকে’ -বলার নাম ভালোবাসা।
ঠাম্মার আদর করে এসে ‘পান খাবি বোইন? আমার পানটা একটু বানায় দে না, তোর হাতেরটা স্বাদ বেশি’- বলার নাম ভালোবাসা।
দাদুর আকস্মিক হাতটা টেনে নিয়ে নিজের দাঁড়িতে একটু ঘসা দিয়ে, ‘কিরে, আরাম না?’ বলে হেসে উঠার নাম ভালোবাসা।
দিদিমার বারবার দেখতে যাবার পরেও ফোন দিলে ‘তোর তো দিদিমারে দেখতে মনই চায় না’ – বলার নাম ভালোবাসা।
মামার মামীকে ‘এই যে দেখ, আমাদের বাড়ির কাজের বেটি রহিমা’ বলে ভাগ্নিকে খেপিয়ে তার থেকে লাঠির তাড়া খাওয়ার নাম ভালোবাসা।
মামী জানে সে এই বিশ বাইস বছরের ভাগ্নিকে কোলে তুলতে পারবে না তবুও সেই বৃথা চেষ্টাটার নাম ভালোবাসা।
গরীব দুঃখি কারো কষ্টে কেউ না সত্ত্বেও চোখে জল আসার নাম ও ভালোবাসা।
রিক্সা দিয়ে যাবার পথে উঁচু ব্রিজ দেখে উনার কষ্ট হবে ভেবে নিজে থেকে নেমে কিছুটা পথ হেঁটে যাওয়াটা এটার নাম ভালোবাসা।
একটা পথ-শিশুকে নিয়ে একসাথে বসিয়ে পরম যত্নে খাওয়ানোর নাম ভালোবাসা।
দুপুরের তপ্ত রোদে শ্রমিকদলের একসাথে সাড়ি বেঁধে বসে হাসিমুখে একই প্লেটে খাবার খাওয়ার নাম ভালোবাসা।
বস্তিতে জায়গা সল্পতা থাকা সত্বেও একজন অন্য জনের সাথে একটা চাদর ভাগাভাগি করে রাতটা কাটানোর নাম ভালোবাসা।
‘আমার সাথেও তোমার এখন ফর্মালিটি করা লাগবে?’- বলার নাম ভালোবাসা।
শত মান অভিমান সত্বেও ‘আচ্ছা, ঠিক আছে আমার সাথে কথা বলতে হবে না। তুমি খেয়ে নিও শুধু এখন, তাহলেই হবে’ এটা বলার নাম ভালোবাসা।
দিনকাল যেমনই যাক দিন শেষে এসে ‘আরে কি হইছে? আমরা আমরাইতো’ এটা বলার নাম ভালোবাসা।

কোন শব্দের আড়ম্বর নয়; নয় কোন লোক দেখানো অতিরঞ্জণ। প্রতিদিনের জীবনের বুঝে বা না বুঝে, জেনে বা না জেনে করা কাজগুলোর মাঝেই হয়তো প্রকাশ পায় আমাদের ভালবাসা যার জন্য থাকে না কোন পূর্ব প্রস্তুতি কিংবা ফিরতি কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা।

 

সময়: রাত ১০টা টু ১.৩০
তারিখ: ২৪-১১-১৭


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ