জাল

নদীর নাম মায়াবতী। নামে অনেক মায়া থাকলেও বাস্তবিকপক্ষে একে নদী না বলে খাল বললেই বেশী মানানসই মনে হয়। নদীর স্রোত বহুকাল আগেই হাল ছেড়ে দিয়েছে। হাটু সমান পানি মানুষ হেঁটেই পার হয়ে যায়। নদীর একপারে মানিক তার সদ্য আবিষ্কৃত জাল দ্বারা গভীর মনোযোগে মাছ ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনটা বাঁশের কঞ্চি এক সাথে জোড়া লাগিয়ে তাতে এক টুকরো জাল পেঁচিয়ে এক প্রকার কাঠামো দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু খুব বেশী যে তাতে সুবিধা হচ্ছে তা তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছেনা। তবে যার শুকোতে দেয়া জালের এক পাশ কেটে নিয়ে এ কর্ম করছে সে তার পরিনাম কি হতে পারে আপাতত তার মাথায় নেই। অনেক চেষ্টার পরেও যখন দু-তিনটা ছোট সাইজের পুটি ছাড়া কিছুই ধরতে পারলোনা তখন জাল এক ঝোপে লুকিয়ে রেখে বাড়ির দিকে রওনা দিলো।

-এই মানিক, দাড়া।

আইলের মাঝ খান দিয়ে দৌড়ে ছোটন আসছে। মানিকের কাছে এসেই হাপাতে হাপাতে বলতে লাগলো, খবর শুনেছিস? রুস্তম খাঁর জাল কাইটা নিয়া গেছে কে জানি।

রুস্তম খাঁ বলা চলে এই এলাকার ত্রাস। তার সাথে সবাই মাথা নিচু কিরে কথা বলে। পারতপক্ষে খুব বেশী প্রয়োজন না হলে সাধারন কেউ তারা ছায়ার ১ মাইলের ভিতরেও আসতে চায়না। মানিক নিজেও বুঝেনি সে রুস্তম খাঁ এর জাল কেটে এনেছে।

বুঝলি রুস্তম খাঁ তো সকাল থেকেই মাথা খারাপ কইরা বইসা রইছে। ওপারের আর্জু শেখের লোকের কাজ মনে কইরা এখন মানুষ জড় করতাছে। মনে হয় খুব ঝামেলা হইবোরে। আর্জু শেখ রুস্তম খাঁর বলা চলে জাত শত্রু। কারনে অকারনে একে অন্যের ক্ষতি করা এদের একটা শখে পরিনত হয়ে গেছে।
এবার মানিক কিছুটা অবাক হলো। সে বড়জড় এক হাত জাল কেটে এনেছিলো। এই এক হাত জালের জন্য এত ঝামেলা!

তুই বাসায় যা আর সবাইরে কইস আজকা জানি কেউ না বাইর হয়। আমি গেলাম। দৌড়াতে দৌড়াতে যে পথে এসেছিলো আবার সে পথেই ছোটন উল্কার বেগে ছুটে বের হয়ে গেলো। এত গরম খবর সবাইকে না দেয়া পর্যন্ত হয়তো আজ সে শান্তি পাবেনা।

মনের ভেতর একধরনের চাপা অশান্তি নিয়েই বাড়ি ফিরলো সে।

পরের দিন সকালে ঝোপ থেকে জালটা বের করে আবার মাছ মারতে গেলো মানিক। কিছুদূর এগিয়ে যাবার পর নদীর পার থেকে চাপা গোঙানীর আওয়াজ শোনা গেলো। মানিক কাছে গিয়ে দেখলো আর্জু শেখ পরে আছে আর পুরো শার্টে রক্তের ছোপ লেগে আছে। প্রচন্ড ব্যথায় কুকড়ে আছে তার শরীর। মাথার বা পাশটা পুরো থেঁতলে গেছে। সামান্য এক জালের জন্য অকারনে খাওয়া মারটা অনেক বেশী হয়ে গেছে তার পক্ষে। হঠাৎ পায়ের শব্দ পেয়ে আর্জু শেখ কোনরকমে চোখ খুলে তাকালো। ১০-১২ বছরের এক ছেলে দাঁড়িয়ে আছে তার দিকে চেয়ে। ছেলেটার হাতে ধরে রাখা জালটার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইলো সে।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ