গিটারের টুং টাং

আজ হাসানের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন।ও খুবই উত্তেজিত এবং আনন্দিত। সকাল সকাল তৈরী হয়ে গেল ও। ব্যাগ গুছিয়ে রওনা দিলো,সাথে নিলো ওর অনেক প্রিয় গিটারটা। এই জিনিসটা ছাড়া একদম চলতে পারে না ও, কেমন যেনো ফাকাঁ ফাকাঁ লাগে ওর কাছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট দিয়ে ঢুকতেই কে যেন একটা ওকে থাপ্পড় দিলো।মুখ ঘুরিয়ে দেখতেই দেখতে পেলো যে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে তার সামনে,মেয়েটির চোখে মুখে একটা করুন অভিব্যক্তি।ঝাড়া ১মিনিট সে তাকিয়ে থাকল মেয়েটির দিকে। তারপর দেখতে পেল অদূরে কিছু ছেলেমেয়ে দাড়িয়ে আছে।ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে। এই সময় মেয়েটি বলল,”সরি আসলে ভাইয়া আপুদের কথায় তোমাকে মেরেছি,তুমি প্লিজ মাইন্ড করো না”। ও কিছু বলে ওঠার আগেই ওর ডাক পড়ল।তাদের সামনে যেতেই তাকে নানা রকম প্রশ্ন করা শুরু করল।কিছুক্ষন পর এক আপু জিগ্যেস করল,”এই তুই গিটার বাজাতে পারিস”?কি অদ্ভূত প্রশ্ন মনে মনে ভাবল হাসান,মুখে বলল,”পারি”।”চল অডিটোরিয়ামে চল,গিটার বাজিয়ে সন্তুষ্ট না করতে পারলে তোর খবর আছে”।

ওরা সবাই অডিটোরিয়ামে বসে আছে,সবার মুখে মুখে হাসানের প্রশংসা,ঝাড়া এক ঘন্টা ওদের গিটার বাজিয়ে শুনিয়েছে ও।সবাই খুশি,কিন্তু হাসানের মনে অন্যচিন্তা। সে শুধু ঐ মেয়েটিকে বার বার দেখছে।কি যেনো খুব সুন্দর একটা অনুভূতি ছাপিয়ে যাচ্ছে তাকে।যে করেই হোক মেয়েটির সাথে কথা বলতে হবে। ক্যান্টিনে দাড়িয়ে আছে হাসান,উদ্দেশ্য মেয়েটির সাথে কথা বলা।কিছুক্ষন পর মেয়েটি আসতে দেখল ও।ওকে দেখেই মিষ্টি করে একটা হাসি দিল মেয়েটি।কাছে এসে আরেকবার দুঃখ প্রকাশ করল সকালের ঘটনার জন্য,এইদিকে হাসান একেবারে জমে বরফ,কি আশ্চর্য হার্টবিট এত বেড়ে গেলো কেনো,মেয়েটির নামটা জিগ্যেস করতেই যেন তার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার জোগাড়। মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে মেয়েটি জানাল,তার নাম নীলা।

সেই থেকে শুরু,ছয় মাস ব্যাপী বন্ধুত্ব পূর্ন সম্পর্কের পর তারা একটা নতূন সম্পর্কে আবদ্ধ হয় আর তা হল ভালোলাগার, ভালোবাসার।তারা নিজেরা একটা জগত তৈরী করে নেয়,সেখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য আর ও প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে ভালোবাসার স্পর্শে।সেখানে কার ও জায়গা নেই শুধুমাত্র হাসানের গিটারটা ছাড়া। এই নিয়ে হাসান আর নীলার মধ্যে খুনসুটিও হয়।আবার তার রাগ ভাঙ্গাতে হাসান সেই গিটারের বাজনাই ব্যবহার করে।মাঝে মাঝে নীলার খুব অদ্ভূত লাগে,এই গিটার যেন তার সতীন,আবার হাসানের এই প্রচন্ড ভালোবাসার জিনিসটার প্রতি তার ও আছে এক অদ্ভূত মমতা। এই ভাবে দিন কাটতে লাগল।

ক্যাম্পাসে এক বড় ভাই,নাম ফজলু অনেক ক্ষমতাবান।উঠতে বসতে পিছনে ২০,২৫ জন সবসময়ই থাকে,ডোন্ট কেয়ার কিসিমের পোলা।এই পর্যন্ত ১০ জনের সাথে তার প্রনয়গঠিত ব্যপার স্যপার ছিল।প্রথম দিন নীলা কে দেখেই প্রেমে পড়ে যায়।বারবার প্রস্তাব দেয় সে নীলাকে।কিন্তু নীলা পাত্তা দেয় না।আবার ভয়ে সরাসরি কিছু বলতেও পারে না।সবসময় ফজলুর কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ায়।তারপর একদিন খুজঁতে খুজঁতে ফজলু নীলার বাসাটা পেয়ে যায়,অনেক অত্যাচারের পর হাসানের মুখ থেকে নীলার বাসার নাম্বার খুঁজে পায় সে।বাসায় কলিং দিতেই নীলা দরজা খুলে দেয়।আজ ওর জন্মদিন।ও ভেবেছিল হাসান এলো বুঝি।কিন্তু দরজা খুলতেই ভয়ে ওর মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে ওঠে……..

ক্যাম্পাসের গোল চত্বরে সবসময় একটি ছেলেকে বসে থাকতে দেখা যায়।ছেলেটির মাথার চুল উষ্কখুষ্ক,ছেড়া জামা-জুতা।ছেলেটির হাতে একটা গিটার,মাঝেমধ্যেই টুং টাং আওয়াজ হচ্ছে তার থেকে…..


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ