‘জয়ী একটা মেয়ের নাম’

পশ্চিমের বারান্দার দরজাটা খোলা। দরজাটার ফাঁক দিয়ে চঞ্চলা শীতল বাতাস প্রবেশ করছে আর সে বাতাস স্পর্শ করছে জয়ীর চুলগুলোকে; উড়িয়ে যেন আরো এলো করে দিচ্ছে। কিন্তু এই বাতাস কি পারবে জয়ীর ভেতরকার দুমড়ে মুচড়ে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া আমিটাকে আর একটিবার দুলিয়ে তুলতে?
পারবে কি সারাদিন পুতুল খেলায় ডুবে থাকা জয়ীর হঠাতই বুড়িয়ে যাওয়া মনটাকে আবার খুকীতে পরিনত করতে?

না, নাহ! পারবে না কারণ জয়ী যে একটা মেয়ে!
হঠাতই জয়ীর চোখ আটকে গেলো বারান্দার ফাঁকে। দেখলো একদল কর্মব্যস্ত যুবক বিরামহীনভাবে ছুটে চলছে; তাদের পায়ের যেন কোনো ক্লান্তি নেই। কিন্তু জয়ীর তো কেবলই অবসর। ওরতো ঘরের কাজে মুখ গুঁজেই এভাবে সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর শেষে বিকেল অতঃপর সন্ধা- এভাবেই দিন পেরুচ্ছে।

আচ্ছা, ওর কী ইচ্ছে করতে পারে না, শুধু বারান্দার ফাঁক দিয়ে না দেখে আরো কিছুটা কাছ থেকে এই ব্যস্ততম পৃথিবীটাকে দেখতে?
না, নাহ! থাকতে পারে না ইচ্ছে কারণ জয়ী যে একটা মেয়ে!

বাসার নিচ থেকে হরহামেশাই জয়ীর কানে হাসি ঠাট্টায় ঠাসা, প্রাণোচ্ছল কিছু আওয়াজ ভেসে আসে।
আচ্ছা, ওর কী সেই প্রাণোচ্ছলতার ভিড়ে নিজেকে হারাতে ইচ্ছে হতে পারে না?
না, নাহ! ওর যে এই ইচ্ছে থাকতে নেই; কারণ জয়ী যে একটা মেয়ে!

বাসার কোন আলোচনা বা সিদ্ধান্ত জয়ী দরজার আড়ালে শোনে। আচ্ছা, ওর কী আগ্রহ জন্মাতে পারে না নিজের মতামতের ডেফিনেশনটা জানার?
না, নাহ! পারে না জন্মাতে কারণ জয়ী যে একটা মেয়ে!

জয়ীর বন্ধুমহল যখন উচ্চতর ডিগ্রি নিতে ব্যস্ত। আচ্ছা, তখনও কি ও মনে লালন করা স্বপ্নটাকে বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখতে পারে না?
না, নাহ! পারে না দেখতে স্বপ্ন কারণ জয়ী যে একটা মেয়ে!

জয়ী তার প্রিয় মানুষটার গা হালকা গরম হলে সারারাত জেগে কাটিয়ে দিতে পারে সেবা করে।
আচ্ছা, ও কি ওর খারাপ সময় গুলোতে অন্তত একটুখানি মেন্টাল সাপোর্ট পাবে সে আশাটুকুও রাখতে পারে না?
না, নাহ! পারে না রাখতে আশা কারণ জয়ী যে একটা মেয়ে!

প্রিয় মানুষটার জন্য মুখরোচক খাবার বানানোর জন্যে জয়ী সারাদিন রান্না ঘরে মুখ গুঁজে পরে থাকে।
আচ্ছা, ও কি অন্তত একদিন সকাল বেলার এক কাপ চা পাবার কথা চিন্তা করতে পারে না?
না, নাহ! পারে না করতে চিন্তা কারণ জয়ী যে একটা মেয়ে!

যে মানুষটা তার বাবা-মায়ের পরে অন্যতম আশ্রয়, তার কাছে যেতেই জয়ীর সব থেকে বেশি ভয়!
আচ্ছা, তারপরেও কি জয়ী একবারের জন্যেও বিচ্ছেদের কথা মাথায় আনতে পারে না?
না, নাহ! পারে না কারণ জয়ী যে একটা মেয়ে!

যে ঘর জয়ীর স্বর্গ পুরীতে রূপ নেবার কথা ছিল, সে ঘর থেকে ওকে হতে হয় ক্ষনে ক্ষনে বিতাড়িত!
আচ্ছা, তার পরেও কি জয়ী তার ছেড়ে আসা ঘরে, তার শুরুর নীড়ে ফিরে যাবার দাবি রাখতে পারে না?
না, নাহ! পারে না দাবি রাখতে, কারণ জয়ী যে একটা মেয়ে!


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ