আজ সম্রাটের মন খারাপ

আজ এই রোদ্রউজ্জল দিন এ বর্ষার কালো মেঘ যেন ঘিরে ধরেছে সম্রাটকে।। হঠাৎ করে যেন মনটা খারাপ হয়েছে তার।। তার বন্ধুরা কিছু ই বুঝে উঠার ও বলল,” আজ তবে উঠি।।” তার এক বন্ধু কমল গান যার নেশা বলল, ” বয় না একটা গান ধরি।” সম্রাট বলল,” নারে আজ ভাল লাগে না। ” শেষে জোর করাতে বলল,” ওকে ধর তাহলে।” বন্ধুরা শুরু করল,” আজ এই বৃষ্টি ভেজা রাতে তুমি নেই বলে…………” তখন তার মনে তার মনে পরে গেল ৫ বছর আগের কথা…….

এমন এক দিনে যখন গান ধরে ছিল, তখন সে প্রথম দেখেছিল চিতিকে ।। দেখতেই যেন সব থমকে গেল………… এই গরমে যেন তার শরীর ছুঁয়ে গেল মৃদু হাওয়া।। সে কি অবস্থায় ছিল তা বলে বুঝানো যাবে না।। তার এই রোমান্টিকতা অভির ডাকে ভাঙ্গল।।তার ভাল বন্ধুরা হল – কমল,অভি,বিল্লু,ইফতি, রাজু।। কেউ এ খেয়াল করল না এই ঘটনা।।তারা বুঝল পরের দিন থেকে……টিং টিং টিং….. সম্রাট এর ফোন বাজে।।রিচিভ করার পর অপর পাশ থেকে….

অভি: কই রে তুই?
সম্রাট: ক্লাসে।।
অভি: কেন!!!!
সম্রাট : ক্লাস করব।।

অভি মনে মনে ভাবল কি হল এটা যে প্রতিদিন আমাদের ক্লাস থেকে বের করে আড্ডা দিতে নিয়ে যায় সে কিনা ক্লাসে।। অবাক করার এ কথা………. নিজেদের সব রেকর্ড ভেঙ্গে এল ক্লাস করতে।। একি সম্রাট সবার আগে এসে গেছে।।অভির কিছুটা সন্ধেহ হল।।তাই সে লক্ষ্য করল সম্রাট এর দৃষ্টিপানে।।ওমা সম্রাট ত স্যার কে দেখছে না তবে কাকে দেখছে!!! যার জন্য এই বরিং বাংলা ক্লাস করতে এসেছে……… অভি আরেকটু মাথা গলিয়ে দিয়ে দেখে এত নতুন মেয়েটা……. কিজানি নাম মনে করার চেষ্টা করে অভি……… মনে মনে ভাবে তাহলে এই ব্যাপার চাদু….তাপর সে একটা গুতো দিল সম্রাট কে…..

অভি: সুন্দর না মেয়েটা?
সম্রাট : হুম( মনের অজান্তে) তারপর হকচকিয়ে উঠে বলে কোন মেয়ে ক্লাস এ মনোযোগ দে।।

আবার সম্রাট তাকিয়ে থাকল তার ক্রাশ এর দিকে।। অভি তাকে প্রেম সাগরে ভাসতে দিয়ে ক্লাস এ মনোযোগী হল………..
ক্লাস শেষের ঘন্টা বাজলে সম্রাট তার চেতনা ফিরে পেল।। দেখল তাকে দেখে অভি, রাজু আর বিল্লু হাসছে…… একটু লজ্জা পেয়েছিল।। তারপর দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল লাল জামার পরা মেয়েটা তার লাল টকটকে ঠোট দিয়ে একটু হেসে বেরিয়ে গেল।।।

এটা দেখে সম্রাট মনে মনে হাসল যেন সে ঈদের চাঁদ হাতে পেল।। সত্যিই সুন্দরী ছিল সেই মেয়েটা।।যে দিন ওই মেয়েটা তার পটলচেরা চোখ দিয়ে তাকিয়ে ছিল সম্রাট এর দিকে সে ত পাগল হয়ে গিয়েছিল তার প্রেমে।। ৮ দিন প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে ঠায় না পেয়ে শেষে গিয়ে বলল তার বন্ধুদের।

বন্ধুরা বলল, “বাদ দে, প্রেম তোর জন্য না।” ওর মন উদাস হয়ে গেল।। তারপর নিজ বাড়িতে চলে গেল।। সারারাত মেয়েটার কথা ভাবল।। পরের দিন কলেজে এসে মেয়েটা যে বেঞ্চে বসে তার ঠিক পাসের বেঞ্চে বসল শুধু নামটা জানার জন্য।। শেষে শুনল মেয়েটা নাম নাকি চিতি।। তারপর ক্লাস থেকে বের হয়ে গেল আর অভিকে বলল তার নাকি কাজ আছে।। কিন্তু সম্রাট গিয়েছিল কলেজের পিওন এর কাছে তাকে ৫০০ টাকা দিল আর বলল যাতে মেয়েটার সব খবর নিয়ে দেয়।।পিওন বলল,”বাবাজি চিন্তা কইরেন না, কাইল সব খবর পাইয়া যাইবেন ।। ” নিচিন্ত মনে ঘরে ফিরল।।

পরের দিন পিওন তারে সব খবর দিল।। সম্রাট আরো খবর পেল ও নাকি বাবুল স্যার এর কাছে ইংরেজী পরে এটা শুনে ত মহা খুশি ও।। ও সব বন্ধু দের বিকালে আসতে বলল মাঠে।। তার পর সবাইরে লেখাপড়া নিয়ে বিশাল লেকচার দিয়ে বাবুল স্যার এর কাছে পরার কারণ বুঝাল। কেউ আসল কারণটা বুঝল না।। তারপর শুরু হল তার প্রেম যাত্রা।। চোখ বলে মনের কথা।। আস্তে আস্তে মেয়ে তার প্রতি দুর্বল হতে লাগল।।এভাবে চলল প্রায় ১ মাস।। কিন্তু যেন প্রেম আর আগায় এ না।।অভি,রাজু,বিল্লু কেউ তার এই কথা জানতে পারল না।। আসল ঘটনা ঘটল যখন এই কথা মেয়ের বড় ভাই জানল(নাম: আবিদ, বাজে ছেলে + ক্যাডার)………….. …[nextpage title=”পর্ব ২”]আসলে আবিদ জানত না, জেনেছে সম্রাট এর ভুল এর কারণে।।ওইদিন চিতি কে নিতে আবিদ এসেছিল সে দেখল একটা ছেলে(সম্রাট) চিতির দিকে তাকাছিল আর হাসছিল।। এটা ও সহ্য করল না।। তারপরের দিন মাঠে রাজু আর বিল্লু আর সম্রাট আড্ডা দিচ্ছিল।। ঠিক তখন উদয় হল আবিদ।। সবার সাথে কথা বলতে লাগল।।যখন বলল ও চিতির ভাই তখন সম্রাট তাকে খুশি করতে ব্যস্ত হল।। এটা দেখে বিল্লু আর রাজু মুচকি হেসে চলে গেল।। কিন্তু আসল ঘটনা বুঝা গেল পরের দিন……….. সবাই বসে আছে গ্যালারীতে আর তখন আসল সম্রাট।। তার মাথায় আর হাতে ব্যান্ডেজ ছিল।।আমরা ভাবলাম দূর্ঘটনা।। আসল ঘটনা শুনার পর যেন মাথায় বাজ ভেঙ্গে পরল।। ও বলল কাল চিতির ভাই কথায় কথায় তাদের পাড়ায় নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে।। তখন রাজু বলল,

” ও তোকে মারল কেন?তুই ত কালকের আগে ওকে চিনতি ও না!!”

এর উত্তরে যা বলেছিল সম্রাট তা আরো লোমহর্ষক ………. ও নাকি চিতি পিছেনে লাইন মারে আর চিতি তাতে সায় ও দিচ্ছে।।সবাই তা খেপে গেল তার উপর ওরা বলে,”তুই লাইন মারতেচছ আমাদের জানালি না!!!”

সম্রাট : তোরা যে প্রথম দিন হেসে উড়াই দিলি তাই আর বলি নাই।
রাজু: এটা যদি অভি জানে আবিদ রে শেষ করে ফেলবে।।
সম্রাট :তাহলে???
রাজু: অভিরে আগে বুঝাইতে হবে।।

অভি সবসময় তার ক্ষমতা কথা বলে কিন্তু আমারা ভাবতাম চাপা।ওই ঘটনার পর বুজলাম ও চাপা মারে না।। সব কথা ওরে বলার পর অভি কারে যেন কল দিল।।

অভি:এই তোরা আবিদরেরে ধইরা আন।

৩০ মিনিট পর……………
২০ জনের মত ছেলে বাইক নিয়ে আসল তারা কলার ধরে নামাল তারে।।

আবিদ: অভি ভাই, মাফ কইরা দেন….জানি না উনি যে আপনার বন্ধু।।
অভি: আবিদের কলার ধরে, আজ তুই শেষ।।
সম্রাট : অভি ছেড়ে দে।।

অভি ওর মোবাইল আর ২০০০ টাকা নিয়ে ওরে ছেড়েদিল।।সম্রাট এর পকেট থেকে ১৫০০টাকা খরচ হল তাদের খাওয়াতে।। সম্রাট সেই দিন বুঝল প্রেমে খরচা প্রচুর।। যাক এই ঝামেলা শেষ হওয়াতে সম্রাট যেন হাঁপ ছেরে বাচল।।
যাক আবিদের ঝামেলাটা শেষ হাওয়াতে রাতে যেন ঘুমটা ভালই হলো সম্রাটের।।কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে গেল সে।।কিন্তু ওইদিন সে ভয় পেয়ে জাগে নি বা খারাপ স্বপ্ন ও দেখে নি।। তবে কেন জেগেছে তা ওই জানে।। তবে পূর্ণিমার আলো যা জানালার ফাঁক দিয়ে এসে তার মুখে পরেছিল তাতে তার ঠোটের কোণায় দেখা গিয়েছিল একবিন্দু হাসি। এববার সে তার স্বপ্নটা মনে করার চেষ্টা করতে লাগল- ” চিতি রাস্তা ধরে আসছে, বইছে মৃদু হাওয়া…. আর হাওয়া তার এলো কেশ উড়ে…..তখন হাতে গোলাপ নিয়ে উপস্থিত সম্রাট…….. চিতি মুচকি হেসে বলল, “কিছু কি বলতে চাও?”

সম্রাট : আমতা আমতা করে।।
চিতি: যা বলার তাড়াতাড়ি বল।।
সম্রাট : আমি তোমাকে………………..ঠিক তখন এ স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।সম্রাট ভাবল,” বাহ্, কি স্বপ্ন ছিল।”
এভাবে কেটেগেল আরো ১৫ দিন সম্রাট আর এগুতে পারছে না।।কিন্তু পরিবর্তন ঘটল তার মাঝে।। ক্লাস ঠিক মত না করলেও লেখাপড়ায়য় বরাবর ই ভাল ছিল ও।।স্যাররা ও ভাল জানে ও কে।। হঠাৎ কি হল ওর যে ও অমনোযোগী হতে লাগল।। ক্লাস টেস্ট এ সহজ জিনিস ভুল করতে লাগল।।বিষয়টা নজরে পড়লো রাজু আর বিল্লুর।। ওরা ভাবল কিছু করা দরকার।। যেই ভাবা সেই কাজ ক্লাসে গেল আর ক্লাস শেষে চিতিকে বলল-
বিল্লু: তোমার কি সম্রাটকে ভাল লাগে?
চিতি নিশ্চল চুপ করে থাকল।।
রাজু: ও তোমার জন্য depression এ চলে।আগে টপার ছিল আর এবার ফেল করবে।।
চিতি: ও ত আমাকে এটা নিয়ে কিছু বলে নাই।।আর রাকিব শুনলে ও না কিছু করে ফেলে।।
বিল্লু: তুমি কি ভাব ওই টা বল।।
চিতি: আমাকে একটু ভাবতে দাও।।

তারপর চিতি একটু চিন্তিত মনে চলে গেল।।
পরের দিন ফলাফল দিল ফাইনাল এর সম্রাট ছাড়া সবার রেজাল্ট ভাল।।এটা চিতির মনে দাগ কাটল।।আসল ঘটনা ঘটল 2nd October অর্থাত সম্রাট এর birthday পার্টিতে…….[nextpage title=”পর্ব ৩”] Birthday পার্টিতে সবার সাথে চিতি কেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সম্রাট।। আসবে সে কথা ভাবে নি।। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এল সম্রাট এর স্বপ্ন কণ্যা যার জন্য সে আজ দিশেহারা।। এই সময় রাজু আর বিল্লু একজন একজনের দিকে তাকিয়ে হাসে আর মনে মনে ভাবে যাক কথাগুলো কাজে দিয়েছে।।আজ সম্রাট এর চোখে মুখে অন্যরকম একটা খুশির ঝলক।। কেক কাটার পর রাজু ওকে বলল,” যা মনের কথা বলে ফেল।”
সম্রাট :অনেকদিন ধরে একটা কথা বলব ভাবছিলাম…….
চিতি: বলো।
সম্রাট : I love you…..
চিতি পুরাই হকচকিয়ে উঠল।। মনে মনে যদি না বলি তাইলে suicide করে ফেলবে।।
চিতি: আমার ও তোমাকে ভাল লাগে কিন্তু তুমি যদি ভাল রেজাল্ট না কর তাহলে কিভাবে হবে??
সবাই বলবে আমি তোমার জীবন শেষ করে দিয়েছি।।আমি এই অপবাদ নিতে পারব না।
সম্রাট : আর যদি রেজাল্ট ভাল হয়।
চিতি: আগে ভাল করে দেখাও।।
তারপর কিছুক্ষণ নীরব ছিল দুজন।।
তারপর চিতি চলে গেল।।তারপর সম্রাট কিছুটা চিন্তিত ছিল।।
চিতির কথাগুলো প্রতিক্রিয়া দেখাগেল পরের দিন থেকে।। ও লেখাপড়ায় আবার মনোযোগী হল।।আড্ডা ত বন্ধ করে দিল।।ওকে প্রাইভেট ছাড়া বাইরে দেখা যেত না।।এভাবে ৬ মাস কেটে গেল অর্ধবাষিক পরীক্ষা ও শেষ হল।।এরপর এল রেজাল্ট।। সম্রাট এর রেজাল্ট দেখে সবাই অবাক।।আবার টপ।। ওই দিন ও যে কি খুশি ছিল বলার বাইরে।।ও চিতি কে ওই দিন সবার সামনে propose করল।।আর ও accept করে নিল।। এর পর ও জীবন নিয়ে অনেক serious হল যেটা কেউ কল্পনা ও করে নি…..
যখন থেকে চিতি সম্রাটের জীবনে এসেছে সফলতা তার জীবনের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।। তার অধ্যবসায় দেখার মত ছিল।।যে ছেলের কোনো রুটিন ছিল না সে আজ রুটিনবাঁধা হয়ে গেল।।চিতি যেন তার জীবনে এক পথপ্রদর্শক হয়ে আর তাকে নিয়ে গেল সফলতার রাস্তায়।। ওদের দেখে মনে হয় ওরা “made for each other”. প্রেম যেন ওদের জীবনকে রঙ্গিন করে দিল।।ওদের প্রেমটা অন্যদের মত ছিল না যে ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলে কথা বা পার্কে বসে থাকা।।ওরা যা কথা বলত তাতে ছিল ভালবাসা।। তাদের ভালবাসায় কোনো ভেজাল ছিল বা ছিল না কৃত্রিম কিছু।।যা ছিল দুইটা মনের মিলন।।একেবারে যেন সমসত্ব মিশ্রণ।। যাক এভাবেই চলে H.S.C. পরীক্ষা।। কিন্তু সম্রাট আর দুজন ছিল চিন্তামুক্ত।। পরীক্ষারর সময় অন্য সবাই প্রেমের কথা ভুলে পড়ায় মগ্ন থাকে সেখানে ওদের সব আগের মতই ছিল।।একটার পর একটা ভাল পরীক্ষা দিল দুজনে।।তার পর দুজনের আর তিন মাস দেখা হল না।।দেখা হল রেজাল্টের দিন……ওদের ভালবাসা ছিল সেই আগের মতই।। ২ টায় রেজাল্ট হাতে পাওয়া গেল।।চিতি G.P.A.-5 পেলেও পেল না সম্রাট ওর ছিল G.P.A.-4.67 মনটা খারাপ হয়ে গেল।।কিন্তু চিতি তাকে বলল মন খারেপের কিছু নাই ভাল করে admission test দাও যাতে ভাল কোনো university তে ভর্তি হতে পার।। ২ মাস কঠোর লেখাপড়া করল সে।তার পর admission test শুরু হল।।তার পরিশ্রম এর ফল সে পেল একটা public versity তে চান্স পেল।।আজ ৪ মাস পর বন্ধুরা একত্রিত হয়েছে সেই গ্যালারীতে।। চিতি ও আসবে।। ঠিক তখনই দেখল ওই পাশ থেকে দৌড়ে আসছিল রাজু…….. সবাই চমকে তার দিকে তাকাল।।হঠাৎ ও এভাবে আসছে কেন তার হাতে ছিল একটা কাগজ…….

[nextpage title=”শেষ পর্ব”]সবার দৃষ্টি রাজুর হাতের দিকে।। সবার সামনে এসে দাড়াল সরাজু নামের সেই বিষণ্ণ মুর্তি।।তার মুখে কোনো কথা নেই, শুধু হাত বাড়িয়ে চিঠি টা সম্রাটের হাতে দিল।। সম্রাট চিঠিটা নিল আর মনে মনে পরতে লাগল।।কিছুক্ষণ পর ওর চোখ বেয়ে ঝরতে লাগল পানি।। এটা দেখে ত সবাই অবাক।।তখন চিঠিটা ওর হাত থেকে নিয়ে পরতে শুরু করল অভি।।চিঠিতে লেখা ছিল-

“প্রিয় সম্রাট

আমাদের সম্পর্ক এর কথা আমার বাবা জেনে গেছে।।তাই উনি আমাকে নিয়ে ঢাকা চলে যাচ্ছে।। আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব।।তুমি ভাল করে নিজের career গড়।।আমি চাই তুমি অনেক বড় হও।।
ইতি তোমার ভালবাসা “

সম্রাট তখন কান্না শুরু করল।।ওর বন্ধুরা ওকে অনেক বুঝাল কিন্তু ও কিছু বলল না।। চোখ মুছে চলে গেল। এর পর ও কে দেখা যায় নাই।।প্রায় ১৪ দিন পর ওকে দেখা গেল।। চোখের নিচে দাগ পড়ে গেছে।। কি হাল করে ফেলেছে নিজের।।ওকে নিয়ে সবাই চিন্তায় পরে গেল।। এভাবে চলতে দিলে ত ছেলেটা শেষ হয়ে যাবে।।তাই রাজু ওকে বুঝাতে লাগল।।ও বলল,” তুই এভাবে করলে পড়বি কিভাবে? না পড়লে কিভাবে চিতির সামনে যাবি যখনি ও সামনে আসবে।।বাকিটা তোর ইচ্ছা।।” তখন সম্রাট নিজে ঠিক রাখার চেষ্টা করল কিন্তু বারবার চিতি কথা মনে পরে যায়।। তবুও ও নিজেরে ঠিক করল।।ও নিজেকে আবার আগের মত করতে অনেক সময় লাগল।।এতে ওকে অনেক সাহায্য করল তার বন্ধুরা।।আজ সম্রাট ৪র্থ বর্ষে।। ফলাফল ও ভাল।।Interny থেকে এসেছে।।ওর ভাবনা শেষ হতে হতে ওর বন্ধুদের গান শেষ হয়ে গেল।।ও ভাবল সব আগের মত আছে নেই শুধু চিতি……………….

কথাটা ভেবে সবাইকে বিদায় দিয়ে উঠে গেল সম্রাট।।তখন রাজু তার মুখে হাত দিয়ে ভাবতে লাগল আসলে চিঠিটা কিভাবে পেল সে…..সাড়ে তিন বছর আগে যখন তারা সবাই একত্র হয়ার কথা ওই দিন আসার সময় ট্রাক চাপা পরেছিল চিতি…… ঘটনাস্থলে মারা যায় সে যার প্রতক্ষদর্শি ছিল রাজু।। ও প্রথমে সম্রাট কে বলবে ভেবে বলে নি…..আর চিতির বাবা মায়ের কাছে একটা অনুরোধ করেছিল যাতে সম্রাট সত্যটা জানতে না পারে….আসলে চিতি তার বাবাকে সম্রাট এর কথা বলেছিল… উনি রাজি ও হয়েছিল….কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস…… চিতি চলে গেছে না ফেরার দেশে….সম্রাট আছে অপেক্ষায় আর রাজু চাপা দিয়ে রেখেছে এক চরম সত্য কে।।ও ভাবল,”যে সত্য বন্ধুর জীবন শেষ করে দিবি তা প্রকাশ না পাওয়া ই ভাল।।একথা ভাবতে ভাবতে রাজু উঠে চলে যায়… তার চোখের কণায় ছিল একবিন্দু পানি……এভাবে বন্ধুর জন্য মিথ্যা বলল সত্যের ভক্ত ছেলেটা রাজু।।।।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ