দুরন্তপনার পিছনের গল্প

ধুলো জমে গেছে ডায়েরিটায়। ডায়েরিটা খুলতেই পুরোনো একটা গন্ধ..কারেন্টবিহীন সন্ধ্যাটা। মোমের আলোয় বারান্দায় বসে ডায়েরিটা পড়তে লাগলাম।

” সেই মেয়েটা… অনেকটা পথ হেঁটে আসা সেই মেয়ে। স্বপ্নচারী..তার কাছে ভালো থাকা মানেই ছিল স্বপ্ন দেখা। ভালোবাসতো নিজেকে নিয়ে ভাবতে। ভাবনার জগৎটা ছিল বড্ড রঙ্গিন।

ছোটবেলা কেটেছে ঘুড়ি উড়িয়ে, ফড়িং ধরে, প্রজাপতির পিছনে দৌড়িয়ে, আবার কখনও বা গাছে চড়ে। কখনও বা বাবার একটা অাঙ্গুলে ধরে হেঁটে যাওয়া সেই মেয়ে । আজও হাঁটে… জীবন নাকি থেমে থাকে না তাই। পথিক?? নাহ্… পথিক বলা যায় না। তবে হাঁটতে ভালবাসে। কতটুকু পথ হাঁটলে তবেই তাকে পথিক বলা যায়?

ছোটবেলা থেকেই কিছুটা আনমনা। ভালবাসত আনমনে আকাশ দেখতে। রাতটা তার বড্ড বেশিই আপন ছিল। কোন কোন রাত তার কেঁটে যেত বারান্দায় বসে গ্রিলের ভেতর দিয়ে গাছের ফাঁকে চাঁদ দেখে। অস্তিত্ব সন্ধানী। ভাবনার জগৎ-এ বিচরন করা মেয়েটা স্বপ্ন দেখত সকালটা শুরু হবে কুয়াশার চাঁদরে গা ঢেকে এক কাপ চা হাতে ভোরের সূর্য দেখে। দুপুরটা হয়তবা এক চিলতে হাসি। আর রাত…????

গভীর রাত.. নদীতে একটা নৌকা বাঁধা। আনমনে বসে ভাবছে সে। হিম শীতল বাতাস। চেয়ে আছে আকাশের দিকে অপলক দৃষ্টিতে। ঝিঁ ঝিঁ পোকাগুলো ডাকছে। চারদিক নিস্তব্ধ। চাঁদের আলোটা মুখে এসে পড়ছে। নদীর মাঝখানটায় বাঁধা নৌকোটা।

অগোছালো ছিল মেয়েটা। আবার সেই অগোছালো মেয়েটাই কোন এক সময় হারিয়ে যায় অন্যজগতে। কখনও কখনও নিজেকে নতুন করে ভাবতে থাকে। বৃষ্টি ভেজা সেই সন্ধ্যেটা… নীল শাড়ি, কপালে একটা টিপ,কাঁচের চুড়ি, চোখে গাঢ় করে কাজল আর চুলে একগুচ্ছ নীলকন্ঠ গোঁজা। সন্ধ্যাটা সেদিন তার জন্যই হয়তবা এতটা সুন্দর হয়ে উঠেছিল। গা বেয়ে পড়া প্রতিটা পানির ফোঁটাই হয়তবা তার সৌন্দর্যকে হার মানিয়েছিল।

নিজেকে ভালোবাসা মেয়েটা নিজের মধ্যেই নিজেকে খুঁজে পেত অন্যভাবে। হারিকেনের আলোয় দেখা নিজেকে। হুম… অসম্ভব সুন্দর নাকি লাগে? চোখের পাপড়ির সৌন্দর্য নাকি সে এই হারিকেনের আলোতেই খুঁজে পেয়েছিল। হারিকেনের আলোয় নিজেকে একটা জোনাকি মনে হয়। অন্ধকারে মিট মিট করে জ্বলে ওঠা জোনাকি।

যাযাবর -যার চোখে মুখে অন্য পৃথিবী। মৃদু আলোতে বাঁচতে শেখা সেই মেয়ে। হেঁটে যাচ্ছে আজও। এ পথের শেষ কোথায় কে জানে?

বাতাস বইছে। কয়েকটা শুকনো পাতা বারান্দায় এসে জমেছে। মোমবাতির আলোটাও কমে যাচ্ছে। ঝড় হবে হয়ত। আনমনা আমি…..


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ