বিকলাঙ্গ চড়ুই ও যৌনতত্ত্ব

কিছুদিন আগে একটা অনলাইন নিউজ পোর্টাল “বাংলা নিউজ” একটা নিউজে চোখ আটকালো, শীরোনামটা এমন “চড়ুই মাংসে যৌনতা বৃদ্ধি ভিত্তিহীন” সাথে ধূসর আর বাদামি রং এর সুন্দর একটা চড়ুই এর ছবি। ভিত্তিহীন তো পড়ার দরকার কি? ভিত্তি থাকলে না হয় ফারহানের কাজে আসতো। এই সমস্ত ব্যাপারে তার থেকে আগ্রহী লোক আমি আর দেখি নাই। শুধু আগ্রহী বলাটা ভুল সে প্রত্যেকটা পদ্ধতি হাতে কলমে যাচাইও করে দেখে। কেন যেন মনে হচ্ছে ফারহান যদি এই নিউজ পড়েও, একটা ছোট্ট চড়ুই ধরে বাসায় গিয়ে ভাবিকে দিয়ে রান্না করিয়ে খেয়ে পরের দিন সকালে কনফার্ম করবে- ধুর! আসলেই বোগাস।

হাতে তেমন কাজ ছিল না, একটু পড়েই দেখি কি আছে। একটা অংশ হুবহু তুলে দিলাম-

” বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রখ্যাত পাখি গবেষক ও লেখক ইনাম আল হক বলেন, ‘চড়ুইয়ের মাংসে মানুষের যৌনতা বৃদ্ধির কোনো সম্পর্কই নেই। এটি নিতান্তই ভুল ধারণা। চড়ুইয়ের মাংসে মুরগিসহ অন্যান্য পাখির মাংসের মতোই উপাদান রয়েছে। এখানে নেই শারীরিক যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো উপাদানও’।
‘পুরুষ চড়ুই পাখিটিকে যৌন সঙ্গমের সময় বারবার স্ত্রী চড়ুইয়ের ওপরে উঠতে দেখা যায় বলে কিছু মুর্খ মানুষের ধারণা এমন যে, পুরুষ চড়ুইটির যৌন ক্ষমতা অনেক। তাই তার মাংস খেলেও উপকার পাওয়া যাবে। আসলে এসব ধারণা পুরোপুরি ভুল’।
‘পুরুষ চড়ুইয়ের এমন ঘন ঘন আচরণের একমাত্র কারণ- সে যৌনকর্মে অদক্ষ। চড়ুই ছোট প্রাণি বলে তাদের শরীরের যৌনতার স্থানে ছোট ছিদ্র অবস্থিত। তাই পুরুষটিকে ওই ছিদ্রে লক্ষ্য স্থাপনের জন্য বহুবার বহু সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। প্রকৃতিগতভাবেই তারা এমন’।”

আমার প্রিয় পাখি চড়ুই। ছোট্ট একটা পাখি। পুরোটা শরীর ধূসর আর বাদামি সাথে সাদা আর কালোর ছোপ ছোপ। সারাক্ষন চিড়িক চিড়িক শব্দ করে উড়াউড়ি করতে থাকে এদিক-অদিক-সবদিক। স্থির থাকে না কোথাও। আর খুব ধারালো নজর। শহর গ্রাম সবখানেই এদের দেখা যায়। শহরের প্রতিকুল পরিবেশেও মানিয়ে নেয় নিজেদের। এরা বোধহয় মানুষদের খুব পছন্দ করে, যেখানে মানুষ নেই এদের সেখানে দেখা যায় না।

সেদিন দুপুরে অফিস থেকে বের হয়ে টংয়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। সাত-আটটা চড়ুই দোকানের পাশেই রাস্তায় পড়ে থাকা বিস্কিট চানাচুড়ের গুড়াগুলি খাচ্ছিল। যেই কেউ যায় ওদিক সব গুলো একসাথে ফূড়ূৎ। একটা চড়ুই বেশি চোখে পরছিল, ওটার একটা পা ভাংগা। হাটতে পারছিল না। অন্য গুলোর তুলনায় বেশ স্লো। খাওয়ার সুযোগও পাচ্ছিল না তেমন। আমার কেমন মায়া লেগে গেল। কেক এর প্যাকেট থেকে এক পিস নিয়ে ভেংগে ভুংগে ওদিকে একটু উচঁতে রেখে দিয়ে আসলাম। চড়ুইটা চিড়িক চিড়িক শব্দ করে ওইদিকে ঊড়াল দিল, সাথে বাকি সবগুলোও।
আমি দেখছিলাম আর চা খাচ্ছিলাম। হঠাৎ করেই ভাবনায় আবার ফারহানের আগমন। ল্যাংড়া চড়ুইয়ের ভাংগা পাটা ফারহান চিবিয়ে খাচ্ছে কট মট শব্দ করে। মুখ থেকে কালো মতন ঝোল গড়িয়ে পড়ছে। তার বউ খুশিতে মুচকি মুচকি হাসছে আর মুখ লুকাচ্ছে।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ