নিষিদ্ধযাত্রা

অন্ধকার কখনো কখনো সঠিক পথ দেখায়, আর আলো এড়িয়ে যেতে হয়। যেমন বাসটা অন্ধকার শুঁকে শুঁকে পথ চলছে। বরং আলোর ঝলকানি দেখলেই হার্ডব্রেক কষে আমাদের ঘুম ভেঙ্গেচুরে দিচ্ছে। তারপর সবাই আবার ঘুমিয়ে পড়ছে। বাস ছুটছে। এমনিতেই আমার ঘুম আসছে না। একেবারে সামনের সারিতে বসলে অনেকের হ্যলুজিনেশন হয়। মনে হয়, গাড়ি খুব জোরে চলছে। এই বুঝি লেগে গেল অন্য গাড়ির সাথে। আতংকে আমার বুক এক একবার ধড়ফড় করে ওঠে। আমি দম বন্ধ করে চেয়ে থাকি। বাস ছুটছে। জানালা দিয়ে তাকালে ওপাশে দেখা যায়- গাঢ় কালো রাত্রি ঝুলে আছে। এ ভ্রমণ নিছক শূন্যতার দিকে যাত্রা ভেবে বসে কেউ কেউ। পাশের যাত্রী কনুইয়ের খোঁচায় আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো, চেয়ে দেখি- সামনে হেডলাইটের আলোয় একজন মানুষ হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছে।

এটা ডোরলক ট্রাভেল, বোকার হদ্দ।

সহযাত্রীর কণ্ঠ রাস্তায় হাত তুলে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা শুনতে পাওয়ার কারণ নেই। তবু পাশের জন আমার দিকে তাকিয়ে বলে গেলেন : ‘শেষ পর্যন্ত দেখবেন, সরে যাবে। বোকারা হাতের খুব ভালো যত্ন নেয়। কিন্তু লোকটা সরলো না। বাম হাত তুলে দাঁড়িয়ে রইলো। বাসটা যাওয়ার সময় তার উত্তোলিত হাত ধাক্কায় ছিড়ে গেল। ছিটকে পড়লো রাস্তার একপাশে। ঘুরে পেছনে চেয়ে দেখি, সে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে! তার ছিন্ন কনুই থেকে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে রক্ত। তবু সে আগের মত হস্তবিহীন কনুই উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাস ছুটছে।
‘বোকাদের পরিনতি হয় নির্মম।’ –যেন ঘটনাটা এতটুকু দুঃখিত করেনি তাঁকে, এমন তাচ্ছিল্যের স্বরে পাশের যাত্রীটি বললো। তাঁকে খুব কঠিন কিছু একটা বলা যায় কিনা, আমি সেটা ভাবছিলাম। পেছনের সারির একজন তখন বিষণ্ন স্বরে বলল, ‘সে আসলে একজন বিপ্লবী।’

কথাটা শুনে আমরা- বাসে না ঘুমিয়ে থাকা সবাই খুব চমকে উঠলাম।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ