mr1(শেষ পর্ব)

mr1 নি:শব্দে ল্যাবরেটরি থেকে বেরিয়ে একগ্লাস জল নিয়ে ঘরে ফিরল।মনু ডাক্তার এবার চোখ বন্ধ করে ভাবলেন,

তবেকি mr1 মাইন্ড রিড করতে পারে? ধরা যাক মাইন্ড রিড করতে পারে কিন্তু আগুন জ্বালানোর ব্যাখ্যা কি? এই সাউন্ড কোন স্বাভাবিক গলার না, তবে এই সাউন্ডের উৎস কি? ফুসফুস থেকে আগত ধ্বনি থেকে এমন শব্দ হয় না। তবেকি এই প্রাণীর শব্দের উৎস অন্য কোন অঙ্গ? তাহলে সেটা কি?

চোখ খুলে প্রাণীটির হাত থেকে গ্লাস নিয়ে এক নিঃশ্বাসে জল খেয়ে নিলেন। এবার mr1 এর চোখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললেন “কাঁচের বাক্সে আবার শুয়ে পড়”। সে সোজা ওই বাক্সে গিয়ে শুয়ে পড়ল। সাথে সাথে মনু ডাক্তার বাক্সের ঢাকনা বন্ধ করে দিল।

এবার তিনি থার্মোমিটারে দেখলেন ওই বাক্সের তাপমাত্রা কমছে ক্রমশ। কি হচ্ছে কি এইসব? তিনি লাল বাটনটায় চেপে ধরে বাক্সে পাওয়ার সাপ্লাই বন্ধ করে দিলেন। কিন্তু তাতে লাভ তো হলই না উলটো নলগুলো দিয়ে অত্যধিক পাওয়ার বাক্সে প্রবেশ করতে শুরু করল, ফলে নলের গা থেকে ধোয়া বের হতে শুরু করল। কিন্তু থার্মোমিটার রিড দিচ্ছে উলটো, ক্রমশ শূন্য ডিগ্রী হয়ে যাচ্ছে। বাক্সের ভেতর থেকে গুম গুম আওয়াজ আসছে। সেই আওয়াজ ক্রমশ বাড়ছে। থার্মোমিটারে তাপমাত্রা জিরো হওয়ার মুহূর্ত পরেই থার্মোমিটার ফেটে টুকরো টুকরো হয়ে ল্যাবরেটরিতে ছড়িয়ে গেল। গমগম আওয়াজে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মনু ডাক্তার দুকান চেপে বসে পড়লেন।

কত সময় এমন হল জানা নেই। এক সময় সব নিরব হয়ে গেল।

মনু ডাক্তার তাঁর সেই বিধ্বস্ত কাঁচের বাক্সের কাছে ফিরে গিয়ে দেখলেন বাক্সটা আগের মত ঝাপসা। কাঁপা হাতে তিনি আবার সবুজ বাটন চাপলেন আর সাথে সাথে বাক্সের ঢাকনা ঝনঝন করে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেল এবং পাওয়ার সাপ্লাই নল গুলো ধুলোর মত গুড়ো হয়ে মেঝেতে ঝড়ে পড়ে গেল। বাক্সটা খালি। হঠাৎ ল্যাবরেটরির দরজায় খট করে একটা আওয়াজ হল। মনু ডাক্তার ওইদিকে তাকাতেই চমকে উঠে দেখলেন আগুনের পাশে বতাস যেমন আলোর পথ পরিবর্তন করার ফলে বিপরীত দিকের আলোর প্রতিসরণ ঘটে, ঠিক একটা বড় জায়গা জুড়ে এমনটাই ঘটছে।

মনু ডাক্তার ওই অঞ্চলটার দিকে এগিয়ে গিয়ে হাত দিয়ে স্পর্শ করতেই মনেহল অনেকগুলো দড়ি তাঁর হাত বেধে সজোরে ভেতর থেকে টানছে। তিনি তাঁর সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলেন কিন্তু পারলেন না। ক্রমশ সেই অঞ্চলটা তাঁকে গ্রাস করে নিল।

এরপর মনু ডাক্তারের আর কোন খোজ বা তার সেই স্বপ্নের আবিষ্কার সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। তিনি কি ভিন্ন কোন জগতে যাওয়ার পথ আবিষ্কার করলেন, নাকি ভিন্ন কোন জগৎই আবিষ্কার করলেন তার কিছুই এরপর জানা যায়নি।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ