mr1 (প্রথম পর্ব)

মনোরঞ্জন কৈবল্য গৌরপ্রসাদ মিত্তির। ডাক নাম মনু ডাক্তার। স্বভাবে শান্তশিষ্ট আর গম্ভীর। বেশভূষায় এখনো আদি হিন্দুয়ানীর ছাপ বর্তমান। কিন্তু তিনি অঘোষিত একজন বিজ্ঞানী। এই নিয়ে তিনি দশটা বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে গবেষণায় সাফল্যের সাথে ফলাফল পেয়েছেন। তিনি এইসব গবেষণার ফলাফল বাইরে কাউকে এখনো শোনাননি কারণ তার ইচ্ছা তিনি এমন কিছু আবিষ্কার করবেন যা হবে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সব বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের গন্ডির বাইরে।

গত ছয় মাস তিনি তার ল্যাবরেটরিকে তার থাকার একমাত্র ঘর করে ফেলেছেন। এক কাজের মহিলা এসে রান্না করে দিয়েই চলে যান। মনু ডাক্তার তার কাজে এতই ব্যস্ত থাকেন যে মাঝে মাঝে তার খাওয়া ভাত হাড়িতেই থেকে যায় ফলে এই ছয় মাসে তার স্বাস্থ্যের ভালোই অবনতি হয়েছে।

আজ তার সেই সাধনার শেষদিন। তার সামনে একটা কাঁচের সাত ফুট লম্বা, চার ফুট চওড়া, আড়াই ফুট উচ্চতার একটি বাক্স। বাক্সের গায়ে জমে থাকা বাষ্পের কারণে ভেতরের বস্তুটি দেখা যাচ্ছেনা ঠিকই তবে মনু ডাক্তারের চোখ দেখে ঠিক বুঝা যাচ্ছে বাক্সটাতে এমন কিছু আছে যা মনু ডাক্তারের এতদিনের স্বপ্ন ছিলো।বাক্সটার গায়ে কিছু বৈদ্যুতিক তার জড়ানো, একপাশে একটা থার্মোমিটার আর বক্সটার চার দিকে কতগুলো নল লাগানো, প্রতিটা নলের পাশে ক্যালকুলেটর বাটনের মত অনকগুলো বাটন, আলাদা একটা বোর্ডে বিভিন্ন রঙের তিনটা বাটন। এম্নিতে দেখে বক্সটার বিশেষত্ব বুঝা যায়না।

তিনি এবার ঘড়ির দিকে তাকালেন। সকাল সাতটা বেজে তেত্রিশ মিনিট। একটু অপেক্ষা করে আবার ঘড়ি দেখলেন এবার সময় সাতটা বেজে ছত্রিশ মিনিট। ঠিক এমন সমন সাইরেন বেজে উঠলো সেই বাক্সটা থেকে আর তখনই মনু ডাক্তার উঠে গিয়ে সবুজ বাটনটা চেপে ধরলো। এবার সাইরেন বন্ধ হয়ে গিয়ে কাচের বাক্সটার উপরের ঢাকনা খুলে গেলো আর ভেতর থেকে উঠে বসলো তাঁরই মত অন্য একজন মানুষ।

এখন অব্ধি মনু ডাক্তার তার মস্তিষ্কে যত জ্ঞান সঞ্চিত করেছেন তার প্রায় সম্পূর্ণটি তিনি এই নতুন লোকটাতে সঞ্চার করেছেন ফলে তার বুদ্ধিমত্তা মনু ডাক্তার থেকে কোন অংশে কম নয়। বলা যায় নতুন প্রানীটি আপাত অর্থে একজন বিজ্ঞানী।

বৃদ্ধ মনু ডাক্তারের চোখে মুখে অত্যধিক সুখের একটা শিহরণ বয়ে গেল। এতদিনে তাঁর পরিশ্রম বাস্তবে রূপ নিল। তিনি এই নতুন প্রাণীর নাম দিলেন mr1। এই প্রাণীকে তিনি এমন ভাবে তৈরি করলেন যার কোষ বিভাজন এখানেই থেমে গেছে এবং কোষগুলো তাদের কাজ অক্ষুণ্ণ রেখে টিকে থাকতে সক্ষম। ফলহেতু প্রাণীটি চিরযৌবন এবং অমরত্ব প্রাপ্ত শুরুতেই। শুধু একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর এই পাত্রে শুইয়ে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চার করতে হবে। তাতেই সে দিব্যি মানুষের মত কাজ করবে।

mr1 বাক্স থেকে বের হয়ে মনু ডাক্তারের চোখের দিকে তাঁকিয়ে থাকলো অপলক ভাবে। অস্বস্তি লাগছিলো মনু ডাক্তারের কিন্তু অন্য চিন্তা খেলে গেল মনু ডাক্তারের মাথায় mr1 কি কোন কাজের আদেশের জন্য অপেক্ষা করছে? কি কাজ দেওয়া যায়? আপাতত সহজ কাজ দেওয়া হোক, আদিম মানুষ আগুন জ্বালানোর নিয়ম জানত না, যদিও ডাক্তার তাঁর সম্পূর্ণ জ্ঞান এই প্রাণীতে সঞ্চার করেছেন তবুও সহজ দিয়ে শুরু হোক পরীক্ষা। কিন্তু কি আশ্চর্য!  প্রাণীটিকে বলার আগেই একটা বুনসেন বার্নার হাতে নিয়ে মুখে একটা বিকৃত শব্দ করাতেই বার্নারে আগুন জ্বলে উঠল। ঘটনাটা এমন ভাবে ঘটল যে মনু ডাক্তার রীতিমত হকচকিয়ে গেল। পরমূহুর্তে আবার সেই প্রাণীটি মনু ডাক্তারের দিকে চেয়ে থাকলো আগেরবারের মত অপলক ভাবে। মনু ডাক্তারের মুখের হাসি মিলিয়ে গিয়ে ভয়ের ছাপ পড়লো স্পষ্ট ভাবে, ঘামে ভিজে যাচ্ছে তাঁর সারা শরীর। গলা শুকিয়ে গেল তাঁর। ভয়ে ঢোক গেলার চেষ্টা করলেন কিন্তু পারলেন না।

পরের পর্বঃ https://www.bunon.org/2408


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ