এক প্যাকেট আলুজ চিপস

ইহা একটি ধ্বংসাত্মক প্রেমের গল্প।নিজ দায়িত্ব নিয়ে পড়বেন

-স্যার আজকে অংক আর করবো না।

(আকাশের চান্দ হাতে পাওয়ার মতো খুশি হয়ে বললাম )

-তাহলে আজকে উঠি। কিন্তু কন্যার মনে অন্য কিছু ছিল সে বলল

-স্যার বায়োলজি পড়ি আজকে।

-কিন্তু আমার তো তোমাকে বায়োলজি পড়ানোর কথা না –

তো কি হইছে, আমার জেনেটিক্স অধ্যায় এ প্রব্লেম আছে। কথাটা বলে যে হাসি দিলো তাতে মনে হলো এইটা দুনিয়ার সব চেয়ে হাসির কথা। কন্যার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম তার মনে রোমানা পেইন্ট লাগছে। কিন্তু তার গোল গোল চশমার নিচের গোল আলুর ন্যায় চোখ দেখে শুধু আলুজ চিপস এর কথাই মনে পড়া সম্ভব।কিন্তু আমার দরকার মাছালা চিপস। আর তার বেনী করা চুল দেখে শুধু সাপের কথাই মনে পড়ল। তাই তাকে বললাম —

-আমার ভাবির মামির চাচা কসম দিছে যেন আমি কাউকে বায়োলজি না পড়াই। এইটা বলেই দিলাম দোড়। এরপর টিউশানিটা আমার চির শত্রু তানভীরকে দিয়ে দিলাম।পোলাটা অবাক আর আমি তার হেন অবস্থার কথা চিন্তা করছিলাম।

ঘটনার দুই বছর পর পাশ করে বের হলাম তারো দুই বছর পর বাপের হোটেল ছেড়ে নিজের হোটেলে গেলাম,আই মিন নিজের পায়ে দাঁড়ালাম। জীবনে এত কিছু হইল কিন্তু প্রেমিকা জুটলো না।যৌবনের প্রদীপ শেষের দিকে ছিলো তাই আর বেশী দেরি করলে হইতো বংশের প্রদীপ জালাইতে পারবো না।তাই বিবাহের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলাম। বিয়ে বাড়িতে নাকি ললনাদের আনাগোনা বেশি তাই বন্ধু রনির বিয়েতে নিজের বিয়েটার সুরাহা করার জন্য পরিপাটি হয়ে গেলাম।শালা রনি ছিল ক্লাসের সব চেয়ে ভোঁদাই পোলা কিন্তু বিয়ে করছে একটা পরী।কেউ একজন সত্যি বলেছে “ক্লাসের সবচেয়ে চুপচাপ ছেলেটাই সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে পায়” হঠাত অতিব রূপসীকে আমার দিকে আসতে দেখে প্রথমে অবাক হলেও পরে খুশিতে তিরিং বিড়িং করতেছিলাম। ছাগল করা হাসি দিয়ে বলল

-কেমন আছেন ভাইয়া। তার হাসিতে এমনিতেই দিল ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে কিন্তু তার মুখে ভাই ডাক শুনে মনে হচ্ছিল কনো আচারওয়ালা আমার দিলে ইচ্ছে মত লবন মরিচ দিয়ে দিলভত্তা বানাচ্ছিল।

-এই যে,চিন্তে পারছেন????আমি জোহরা -রক্তাক্ত প্রান্তর এর জোহরা? ????? -আপনার স্টুডেন্ট।কি কসম জানি বলে গেলেন এর পর তো পুরা লাপাতা। কিন্তু এই মাইয়া সেই মাইয়া !!!!!!! কেমতে মমিন কেমতে??? কই গেলো তার চশমা?এই মেয়ের চোখ তো পুরা হরিণীর, চোখ আলু তো নাই। হায়রে ভাগ্য!!!!! তখন যদি জানিতাম আলুজ চিপসই আমার মাছালা চিপস। আর সাপের বেনীর অপর পাশেই আছে মেঘকালো ঝরনাধারা। অবাক হওয়ার কিছুটা বাকি ছিলো কিন্তু সেইটা পুরন হইল তানভীরকে তার অতিপাশে দেখে।

-থ্যাংকস দোস্ত। তুই সেইদিন টিউশনটা দিছিলি দেইখাঈ আজ আমরা একসাথে।

-ও।

-সামনের মাসে আমাদের বিয়ে।আপনি কিন্তু অবশ্যই আসবেন।

আনোয়ার হোসেনের ডান বুকে হার্ট এটাক হয় কেন আজকে বুঝলাম। আর কিছু বলতে পারলাম না।নিজেই নিজেকে বাশ দিলাম!!!!!!! নিজের মাছালা চিপস শত্রুর হাতে তুলে দিলাম????? কি আর করা বের হয়ে এক প্যাকেট আলুজ খাইতে খাইতে বাশ খাওয়ার ব্যাথা ভুলার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। নাহ সস দিয়ে আলুজ চিপস খারাপ না।


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ