পাঁচটি কবিতা

অভিশাপ

তুমি না বুঝেই করেছো অপমান
আমি বুঝেও করিনি প্রতিবাদ
দেখে নিও
এর পরিণাম হবে ভয়াবহ

সেদিন বুঝবে তোমার প্রতিটি অক্ষর কতোটা যন্ত্রণাদায়ক ছিল
আমার প্রতিটি সময়ের জন্য

আমি কখনোই ভুলবো না
ভুললে যদি তুমি ভুলে যাও
যদি ঈশ্বর ভুলে যায় !

হিসেব একদিন সবাইকেই দিতে হবে
কি আগে কি পরে
আমিও দেখে নেবো হিসেবের খাতায়
কে জিততে পারে

তবে সেদিন আমি হাসবো না
আমি কারোর হারে সুখ পেতে শিখিনি
সে শিক্ষা আমার নেই

আমি অভিশাপ দিতেও জানিনা
আমি অমানুষ নই
তবে আমি ঠিকই সে দিনটির অপেক্ষায় থাকবো
কারণ আমি মহামানবীও নই !

০৫/১২/’১৭
ঢাকা

অনুভূতি

এতটা ঘৃণা এতদিন কোথায় ছিল আমার !

যে কোনোদিন কাউকে ঘৃণা করেনি
আজ তার কাছে জানতে চেয়ো ঘৃণার সংজ্ঞা কি
কতটা রাস্তা পেরুলে কাউকে ঘৃণা করা যায়

কত আগ্নেয়গিরি ফুটলে
কতটা লাভার স্রোতে
ঘৃণা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়

সে জেনেছে বটে
দেরিতে হলেও
সে আজ ঘৃণা করতে শিখেছে

ঘৃণার ওপরেও যদি কিছু থাকে
অনুভূতি যাবে
পৌঁছুবে চরম সীমায়

যাক যাক যাক !

ভালোবাসায় নয় ,
ঘৃণায় সব তলিয়ে যাক !

০৩/০১/’১৮
ঢাকা

আত্মবিশ্বাস

কেউ আমার পাশে না থাকুক
আমিতো আমার পাশে ছিলাম

আমার চির কষ্টের রাতগুলোয়
নীরবে কান্নার সময়গুলোয়
আমার আঙুলই মুছেছে আমার ভেজা চোখ

হাসতে আমায় সবাই দেখেছে
কাঁদতে দেখেনি কেউ
আমায় কাঁদতে কেবল আমিই দেখি

আর কেউ না জানুক
আমিতো জানি
আমায় আমি কত ভালোবাসি

শুধু আমি জানি
আমি কত ভালো, আমি কত খারাপ
আমি কতটা নিষ্ঠুর নিজের প্রতি

যে নিজেকে আয়নায় দেখার আগে
নিজের সমালোচনা করে
একশোবার না না সহস্র !

আর কেউ না দেখুক
আমিতো দেখি আমি কতটা শক্ত
আমি কতটুকু নরম

আজ জানি বলেই
কিছু যায় আসেনা অন্যের কথায়
আর কেউ থাকুক কিংবা না থাকুক
আমিতো আছিই আমার হিসেবের খাতায় !

ইচ্ছা

আমার বর্তমান অস্তিত্বের শেষ তখনই হবে
যখন কেউ আমাকে পুরোপুরি চিনতে পারবে

আমি পুনরায় জন্ম নেবো
তবে এবার নারী হয়ে নয়

যাতে কোনোদিন কেউ আমাকে অবলা বলে পরিহাস না করে
যাতে কেউ কোনোদিন দূর্বল ভেবে মন্তব্য করার সাহস না করে

রূপের মাপকাঠিতে যাতে বিচার না হয়
ধর্মের নামে যেন সংখ্যালঘু না হতে হয়

পৃথিবীর আদিম সভ্যতার মত
আমিও মানবশিশু হয়ে জন্মাবো

আর আমি ‘ মা ‘ হবোনা
আমি ‘ মানুষ ‘ হবো ।

২৮/১২/’১৭
ঢাকা

সর্বনাশ

কিছু মানুষের চামড়ার আড়ালে রক্তখেকোর বাস

রক্ত এদের খাবার
রক্ত এদের লক্ষ্য
রক্ত এদের স্বপ্ন

কত রক্ত ঝরে কত আগুন জ্বলে
খালি চোখে দেখা না গেলেও
প্রায় প্রতি বুকেই চুষে খাওয়া ক্ষতের দেখা মেলে

আমায় একটা বুক দেখাও যে বুকে কোনো দাগ নেই
যে বুকে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই
কষ্টের কোনো স্মৃতি নেই

নেই নেই …
কোথাও কিছু নেই
রক্তখেকোরা কেড়ে নিয়েছে সব

নখের আঁচড়ের বিষাক্ত গন্ধ উড়ে বেড়ায় ক্রমাগত
বন্ধ হবেনা আর এই উল্লাস

চাইলেও শেষ করা যায়নি তাদের
চামড়ার আড়ালে করে গেছে সর্বনাশ …


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ