ওমর ফারুক জীবন- এর কবিতাগুচ্ছ

এল- মাতাদোর

এইসব পুঞ্জিভূত সন্ধ্যার পর নেমে এলে
আলকাতরার ঝাঁঝালো
আঁধারে ঝাঁক বেঁধে ঘাতক ষাঁড় !

মুদ্রার অপর পিঠে
তবু চাঁদ ওঠে,

উত্তেজনা ও কল্পিত লাল পার হয়ে যেতে যেতে
আঁধারের ষাঁড়,
ঘাতক রাত্রির কোথাও চিৎকার দিয়ে ওঠে জোছনা–

এল-মাতাদোর! এল-মাতাদোর!

রাতভর চিবুতে চিবুতে জাবর কাটা শেষে
দু’পাটি দাঁতের ক্লান্তির কাছে মরে গেলে সব স্বাদ
পরিশ্রান্ত চোয়ালের নিকট এসে পড়ে থাকে
রক্তশূন্য ভোর…

দূর বিমূর্ততা

দূর- এক বিমূর্ততা–একপাল অশ্বের দৌড়, হর্ষোল্লাস !
ক্ষুরধার শানের উপর দিয়ে অনায়াসে হেঁটে পার হচ্ছে ম্যাজিশিয়ান,
তাকিয়ে থাকতে থাকতে কুঞ্চিত ভ্রু থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে
আর দূর থেকে দূরে চাষ হচ্ছে নুপু্রের ; নুপুর ও নিস্তব্ধতার বাগান,
সেখানে হাওয়ার গান–নাচ ও প্রস্ফুটিত কাচের স্বচ্ছ পাঁপড়ি ঝরে পড়তে পড়তে
আয়না ও তার নৃত্যকলায় আভ্যন্তরীণ রক্তপাতে ভেসে যাচ্ছে ;
তারও দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্নিগ্ধ তুহিন–হিমালয়ের চুড়ার তুষার
ভাবতে পারো দূর থেকে দূরে- সু-উচ্চ পাইন ঢেকে দিয়ে যাচ্ছে নীহারে
ম্যাপলের বনে একা বেঞ্চি স্নোফলের স্তুপে ডুবে গেলে
তখন একা একা কার মুখ ভাবো তুমি নিমগ্ন ফায়ারপ্ল্যাসে ?

প্রসূ

সারারাত একটি আস্তাবল ও আলম্ব চাবুকের নিচে যে আঁধার,
তার বেদনা থেকে অগুণতি সাপের মোচড় আর যন্ত্রনার যে প্রসূ
এই সেই আঁতুড় ঘর ভোরের প্রসূতি ;
এই সেই প্রসবিনী অশ্বের অহঙ্কার দোদূল্যমান কেশর
স্বর্গীয় হাওয়ার প্রসাধনে দুলে দুলে উঠছে আর ছড়িয়ে পড়ছে
তার স্নিগ্ধ হ্রেষা ও রৌদ্রের ক্ষুরধ্বনি ,
যে অশ্বা প্রসবমাত্রই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে যায়
মাতৃত্বের গভীর মমতায় চেয়ে থাকে দূর- থেকে দূরে প্রতিকুল মেঘের দিকে
এই সেই দূর- অশ্বের ঘোড়দৌড়
মুহুর্তের ধুলার ধাঁধা,মূঢ় সকাল আর দৃষ্টিকে ছাড়িয়ে এই তার অদৃষ্ট
তাকে নিয়ে যাচ্ছে ভুমিষ্ট অশ্ব শাবকের ধীরে ধীরে দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর
ক্রমশ গতিশীল একটা রেসে’র দিকে
তারপর শৃঙ্খলাবদ্ধ একটা আস্তাবলের কাছে নিয়ে গিয়ে বলবে
বিশ্রাম কর হে অশ্ব ,হে অশ্বা ফের সন্তান সম্ভবা হয়ে ওঠো
আর সমস্ত রাত্রির রিরংসা থেকে ছড়িয়ে পড়ুক শীৎকারের আনন্দ !
ফের গর্ভিনী জননীর মত জন্ম দাও প্রতিটি সকাল
তার চিঁহি ছড়িয়ে পড়ুক রৌদ্রে,প্রান্তরে,আসমুদ্র উত্তুঙ্গ ঢেউয়ের বাদক দলে ,
ঘোড়সওয়ার পাহাড়ের রেকাবিতে
ফের বাজুক মায়ামৃদঙ্গ–কাড়ানাকাড়া দুপুরাচ্ছন্ন ধুন্ধুমার বিকেলের ঘোর,
সমস্ত ঘোড়দৌঁড় শেষে নিঃশ্বাসটুকু পড়ে এলে তাকে জলপান করতে দিও,
হে সন্ধ্যাবধি , তমসাচ্ছন্ন রাত্রির চাবুক ও শাসন …

ছায়ার ক্যারাভান

আমাদের এই ছায়ার ক্যারাভান
ছোটবড় দৃশ্যের আকৃতি
শুধু বয়ে নিয়ে যায়
বিপুল অনুভুতি ,

উদায়াস্তের ভিতর বিন্দু হয়ে দেখে যাও শুধু ;

নিরঙ্কুশ ভোর,ভোরের উদ্ভাসে ভিজে যাচ্ছে দৃশ্যায়ন
সুস্থির ক্যামেরার জুম
ধীরে ধীরে রোদ উঠছে,মেঘ জমছে
আর একপশলা বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে
নিস্তব্ধতার হাহাকারে নিমজ্জিত দুপুরের সন্দর্ভ
ফির রচিত হচ্ছে পিঙ্গল আভা ছড়িয়ে অন্য এক স্নিগ্ধ বিকেল

এবার অন্ধ হয়ে যাও– ছড় হাতে তুলে নাও
ঝড়ো বেহালাবাদক !
তারপর সুরের গোধূলিতে ভিজে উঠুক –সেজে উঠুক
রক্তাক্ত হৃদয়ের ইকেবানা
.

Published in কবিতা16 Likes

পাঠটিকে একটি রেটিং দিনঃ
খুব খারাপ, পাঠটিকে ১ রেটিং দিনখারাপ, পাঠটিকে ২ রেটিং দিনমোটামুটি, পাঠটিকে ৩ রেটিং দিনভাল, পাঠটিকে ৪ রেটিং দিনআসাধারন, পাঠটিকে ৫ রেটিং দিন (টি ভোট, গড়ে: এ ৫.০০)
Loading...

আমাদের উৎসাহিত করুনঃ
বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে বুননকে সাহায্য করুনঃ

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়



  • লেখক পরিচিতিঃ ওমর ফারুক জীবন

    জন্মস্থানঃ চট্টগ্রাম, প্রকাশনাসমূহঃ সুন্দর তোমাকে কি নামে ডাকি(২০০৪), নীল তৃষ্ণার জল, রোদের গ্রীবা(২০১৪), রাত্রির চষ্ণু বেয়ে ফুটেছে এই ভোর(২০১৪), চুম্বনতীর্থে(২০১৫), বাতাসের উৎকন্ঠা(২০১৬), বর্ণিল মাছ ও ব্যালেরিনা(২০১৭)
    বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ 2017-10-21 16:36:46 তারিখ নিবন্ধিত হয়েছিলেন, এই পর্যন্ত প্রকাশিত লেখা সংখ্যা 1টি, মোট সংগ্রহ -30 পয়েন্ট

    আপনার ভাল লাগতে পারে

    1
    মতামত ও আলোচনা

    avatar
    1 আলোচনা
    0 আলোচনায় উত্তরগুলো
    0 অনুসরন করেছেন
     
    সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া
    আলোচিত মতামত
    1 মতামত প্রদানকারী
    শাশ্বত ভৌমিক সাম্প্রতিক মতামত প্রদানকারী
    শাশ্বত ভৌমিক
    সদস্য

    ভাই কখন যে পড়া শেষ হইছে বলতে ও পারি নাই।।