হিংস্র

কারো কাছে কিছু আশা না রেখেও যখন তার থেকে কিছু পাওয়া যায় তো তখন অনেক আনন্দিত হই আমরা, আবার ওভাবেই যদি বার বার পেতে থাকি তখন হয় তাকে নাহয় নিজেকে ধংস করার আগ পর্যন্ত থামি না…

 স্বাভাবিকগত যখন কেউ জুয়ার আড্ডায় বসে তখন তার মনে কি থাকে? পকেটের পঞ্চাশ ডলার দ্বিগুন হবে নাকি শূন্য হয়ে ফিরতে হবে বাড়ি…!!!

আমার জানা মতে একটি ছেলে অমিত। ক্যাসিনো তে যাওয়ার অনেক শখ ছিলো বলেই একদিন সন্ধ্যায় তার বন্ধু জেমস কে নিয়ে চলে গেলো ক্যাসিনো।

ক্যাসিনোটার জাঁকজমক দেখে সে আর দের করেনি… একধারে একটা কাউন্টারে জুয়ার টোকেন কেনাবেচা হচ্ছে। অমিত তার পকেট থেকে পঞ্চাশ ডলার বের করলো আর বলল- কিছু না জিততে পারলেও আপসোস নেই, একবার অন্তত দেখে তো গেলাম ।

এবার খেলা শুরু হলো। খেলা চলছে । হারজিত হচ্ছে । কিন্তু অমিত হারেনি এখনো ।

দুই/তিনটা বেট এই অমিত তার পঞ্চাশ ডলার একহাজার ডলারে তগদির করে ফেললো । এবার তার লোভ বাড়তে থাকলো, আর দুই বেট খেলতেই তার ডলার দ্বিগুন হয়ে গেলো।

দু’হাজার ডলারের চেয়ে বেশি সে জিতেছে । এবার একটা ড্রিংক চাই আমি, বলেই খেলা থেকে উঠলো অমিত। ব্র্যান্ডি এলো দুজনের জন্য। দেয়ালে হেলান দিয়ে চুমুক দিতে দিতে জেমস অমিত কে বলল-

অনেক তো জিতেছো, এবার চলে এসো এখান থেকে বেড়িয়ে যাই।

না- এখন আমি বেরিয়ে যেতে পারিনা, মাত্রই তো শুরু…।

আমি অনুনয় করে বলছি, তোমার ভেতরে কি যেনো একটা জেগে উঠেছে অমিত…!!!

অধৈর্যের সুরে বলল অমিত- কি বাজে বকছো…!!!

শুনো অমিত, একটা পুরনো গল্প । ভারতের এক ইংরেজ অফিসার একবার একটা বাঘের বাচ্চা পুষেছিলেন । শুধু দুধ খাওয়ানো হতো ওটাকে । বেড়াল বাচ্চার মতই শান্তশিষ্ট হয়ে উঠেছিলো ওটা । একদিন অফিসারটি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চেয়ারে বসে। একটা হাত তার ঝুলে পড়েছিল নিচের দিকে। বাঘটি ততদিনে বেশ বড়সড় পুরোদস্তর বাঘ হয়ে গেছে। কিন্তু তখন পর্যন্ত সে ছিলো খুবই অনুগত ও বিশ্বস্ত । প্রভুর সামনে মেঝেতে শুয়ে আদর করে তার হাতটি চেটে দিচ্ছিলো । হঠাৎ ডোরাকাটা প্রানীটির ক্রুব্ধ গর্জনে জেগে উঠলেন অফিসারটি । কি ব্যাপার ? ব্যাপার যে কি তা তখনি বুঝতে পারলেন ভদ্রলোক । বাঘের কর্কশ জিহ্বার টানে তার এক হাতের চামড়া ছড়ে গিয়ে এক ফোটা রক্ত বেরিয়ে পড়েছে । মাত্র এক ফোটা রক্ত, কিন্তু তার স্বাদ পেয়েছে বাঘটি । ওই এক ফোটা রক্ত তার আদরের পোষা জীবনটাকে মুহূর্তের মধ্যে রূপান্তরিত করেছে একটি হিংস্র শিকারী পশুতে । তীক্ষ্ণ নখরযুক্ত থাবা বিস্তার করে সে ঝাপিয়ে পরতে উদ্যত হয়েছে প্রভুর উপর । মুহূর্তের মধ্যে অফিসারটি পাশের টেবিলে রাখা পিস্তলটি তুলে বাঘটার ঠিক মাঝখানটায় গুলি করে নিজের প্রান বাঁচালেন ।

শুনলাম তোমার গল্প। কিন্তু এর মাধ্যমে তুমি কি বলতে চাইলে তা তো বুঝলাম না…!!!

অমিত, কিছু মানুষ ওই বাঘের মতো, একবার রক্তের স্বাদ পেলে নিজে ধংস হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত সেই রক্তের স্বাদ ভুলতে পারে না । তোমার চোখে আমি এইমাত্র ওই বাঘটিকে দেখেছি…।।

 

অল্পতে সন্তুষ্ট থাকার ক্ষমতা নিয়ে কেউ-ই জন্মায় না ।

প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যিই মানুষের মধ্যে “আরো চাই” প্রবনতা ঢুকিয়ে দেয় । যদিও চেষ্টা করলে এই প্রবনতা থেকে নিজেকে দূরে রাখা সম্ভব……


আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ