নামহীন ।। আল-আমীন আপেল

বর্ষার শেষের দিক। ভর

মিষ্টি দুদিন ধরে খোঁজ নিচ্ছে না রিয়াদের। ফোন অফ। প্রথমে রিয়াদ ভাবলো পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত মনে হয়। কিন্তু, খানিক বাদে মনে হলো পরীক্ষা তিন দিন আগে শেষ হয়েছে। ব্যাপারটা কেমন কেমন ঠেকছে রিয়াদের কাছে।

গায়ে রেইনকোর্ট। মাথার উপর নীলরঙা ছাতা। বাড়ি থেকে বের হলো রিয়াদ। সোনালু ফুলের গাছটা থেকে একছড়া সোনালু তুলে নিলো। ভিজে নাজেহাল হয়ে গেছে ফুল। তবুও নিল। কারণ, মিষ্টির প্রিয় ফুল।

রিয়াদের এলাকার নাম কানুনগোটলা।
সংস্কৃতি পণ্ডিত প্রকাশচন্দ্র চৌধুরীর বাড়ি। উত্তরে ডিমলা কালী মন্দির। ১৮৯০ সালের তৈরী। বেশ নামকরা। সেটার গাঁয়েও বৃষ্টি পড়ছে। মন্দিরের চূড়ায় কবুতরগুলি আয়েশ করে বৃষ্টিবিলাস করছে।

জে.বি সেন রোডে হাটতে শুরু করলো রিয়াদ। বৃষ্টির জন্য আস্তে আস্তে হাটছে সে। কয়েক পা এগিয়ে দেখা হলো রিপনের সাথে। রিপন কেরকাটা। ধর্ম খ্রিষ্টান। তবে বন্ধুত্বে ওসব খাটে না। বেশ দোস্তি দুজনে। বিপদে-আপদে ওকেই পাশে পাওয়া যায়। বাকিসব সালা স্বার্থপর!
আজ মাস তিনপর দেখা। এতে রিয়াদের খুশি হবার কথা। কিন্তু, হলো না। কারণ, মিষ্টির নিষেধ। রিপনের স্বভাব ভালো লাগে না ওর।
হাজার হোক বন্ধু তো। তাই থামলো।

-কেমন আছিস রিপন?
-আছি এক রকম। বাদলার দিনে আর ভালো! কাজে যেতে পাচ্ছি না। থাক সে কথা।
তুই আছিস কেমন?
-আছি। মনটা ভালো নাই।
-হুম, জানি তো। মিষ্টি তো ওসমানের সাথে ভেগেছে পরশু ভোর রাতে।
– তাই নাকি? তুই দেখেছিস?
-না, সেলিমের কাছে শুনলাম।
-নিজ চোখে তো আর দেখিস নি। ব্যাটা কবি একটা ফাউল, তুই তারচে’ বড় ফাউল। মিষ্টি ঠিক-ই বলে তোরা নিচু মনের মানুষ। তোদের মন মানসিকতা এমন কেন?
-তুই থাম। অনেক বলছিস। আমি ভুল শুনতে পারি। কিন্তু, সেলিম তো আর ভুল দেখে নি। বিশ্বাস না হলে নিজে গিয়ে দেখে আয়। মিষ্টি বাড়ি নেই। যা দেখ গে!
-দূর হ সালা!

কিছুই অনুভব হচ্ছে না রিপনের কথায়। এটা যে ওর ফাজলামি সে ভালো করেই জানে রিয়াদ।

বৃষ্টির গতি যেনো হঠাতেই বেড়ে গেলো।

রিয়াদকে এমনি এক শ্রাবণ দুপুরে একরাশ বকুলফুল দিয়ে প্রপোজ করেছিলো মিষ্টি। মাহিগঞ্জ কলেজে রিয়াদ তখন প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে। বর্ষা উপলক্ষে কলেজ থেকে একটা দেয়ালিকা বের করা হলো। সেখানে রিয়াদের একটা কবিতা ছাপা হলো। সেই কবিতার প্রেমে পড়ে প্রপোজটা করা।

-তোমার কবিতার উৎস হতে চাই..
বলেই একরাশ বকুল রিয়াদের হাতে ধরিয়ে দিলো। রিয়াদ তো রীতিমতো অবাক। ভীষণ রকম সুন্দর, মায়াবী একটা মেয়ে ছিলো মিষ্টি।
ওর সাহসিকতা মুগ্ধ করে রিয়াদকে। কিছুক্ষণের জন্য চুপ হয়ে থাকে দুজনে। কলেজের দোতালায়। বৃষ্টি বলে বেশি জন আসে নি ক্লাশে। বাহিরে তখন ভীষণ রকম শ্রাবণ। এদিকে রোমান্টিক মুহূর্ত!

-হুম, বাড়িয়ে দাও তোমার হাত..
-হুম, বাড়িয়ে দিলাম। ছাড়বে না তো কখনো?
-না, তুমি ছাড়তে চাইলেও না।
-ছাড়বো না। ভালোবাসি.. ভালোবাসি..
-ভালোবাসি আমিও।

সেদিন থেকে রিয়াদের বুকের বাঁপাশটা মিষ্টির নামে বরাদ্দ। ভীষণ রকম ভালোবাসা। ভালো লাগা। ভালো থাকা। উড়াল উড়াল সময় দুজনের।

মাঝে একবার কি নিয়ে দুজনে খুব মান অভিমান। কথা কওয়া নাই। খোঁজ নেয়া নাই। দুজনেই অশান্তির আগুনে পোড়ে। অনুভূতিগুলোকে পোড়ায়। অনিদ্রায় কাটে। রুপোলী চাদঁটাও যেনো জেনে গেছে ওদের খবর। মন খারাপ করে অনেকদিন জোছনা ছড়ায় না চাঁদটাও।

পহেলা বৈশাখ। সবাই কলেজে এসেছে। বাহারি সাজে। পান্তা-ইলিশ আয়োজন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আছে। মিষ্টি হলুূদরঙা শাড়ি পড়েছে। রিয়াদের ভীষণ প্রিয় হলুূদ শাড়ি। তাই হয় তো পড়েছে। সব অভিমান েভঙে কথা বললো মিষ্টি-ই।

-রিয়াদ, আজকাল কালোই পড়া হয় বুঝি?
-হুম, বাহিরে যতটা কালো ভিতরে তারচে’
বেশি। নিকষ কালো। যেখানে আলো
পৌছায় না।
-মিথ্যে বললে, ইট-পাথরে গড়া এ শহরের
মানুষগুলি বেঈমানী করতে পারে। কিন্তু,
সূর্যের আলো! এটা কখনোই বেঈমানী করে
না। রাতেও না। এই যে দেখো, তোমার
কালো পাঞ্জাবিটাতেও আলো পড়ছে।
-বাহ! সুন্দর করে কথা বলে শিখে গেছো দেখছি।
-হুম, বুঝতে হবে তো কার প্রেমিকা!
–হা, হা।
-হাসি থামাও। কি রকম প্রেমিক তুমি? আমার খোঁজ নিয়েছো এতদিন একবারো?
-আর কালো পড়ো ভালো। তাই বলে আজও পড়বে?
-ভুল হয়ে গেছে। পাল্টে আসছি। তুমি দশ মিনিট অপেক্ষা করো।
-বলেই বাইসাইকেলটা নিয়ে ছুটলো।

মিষ্টি অবাক। এটা কেমন হলো!
-ঐ পাগল! সাবধানে যাও। আস্তে আস্তে।
রিয়াদ শুধু মুখ ফিরিয়ে একটু হাসলো।

মিষ্টি সবার সাথে একটু গল্প করছে। আগে অবশ্য রিয়াদ অন্যছেলেদের সাথে মিষ্টির কথা বলাতে রাগ করতো। এখন করে না।
‘ওরাও তো বন্ধু।’ ওকে এমনি করে বুঝিয়েছে মিষ্টি।

পনেরো মিনিটের মাথায় ফিরলো রিয়াদ। এ আর তেমন দেরি কই? দেশে ‘কিছুক্ষণের মধ্যে ‘ বলে যখন একঘন্টা দেরি করা জায়েজ। তখন এটা কোন দেরিই না!

বিশেষ, বিকাশ আর ওসমানের সাথে বসে গল্প করছে। ওসমানকে সহ্য হয় না রিয়াদের পুরা পাংকু টাইপের খালি মেয়েদের পিছু নেয়। একটা বিষয় অবাক লাগে রিয়াদের কাছে। ছেলেগুলি সব ওর ডেপার্টমেন্টের। আর মিষ্টি ইতিহাসের ছাত্রী। এত ভাব জমায় কেন ওসমানরা ওর সাথে? ক্যাম্পাসে কি আর মেয়ে নাই! যতসব!

রিয়াদকে দেখে ছুটে এলো মিষ্টি।
‘চলো একটা সেল্ফি তুলি। ‘ বলে কয়েকটা ক্লিক করলো মিষ্টি। সেল্ফিবাজি শেষে পান্তা উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সব মিলিয়ে ভালো একটা দিন কাটিয়েছিলো দুজনে।

আজকাল কেমন জানি হয়ে গেছে। রসকস নাই কথায়। কথায় কথায় সাহিত্যচর্চা, ইতিহাসচর্চা নিয়ে খোটা। ‘

–পেয়ারা স্যার, রামকৃষ্ণ সোমানী বাবু, কৃষ্ণা রানী দেব্যা- এসব বুড়ো মানুষের সাথে কিসের এত যোগ তোমার? কিসের এত ইতিহাস ঘাটা? ইতিহাসে পড়ি আমি, আর গবেষণা করো তুমি? যতসব পাগলামি!

-অফ যাও। তুমি ঘাটো না বলেই আমি ঘাটি। কারণ, এনারা আমাদের গর্ব। মাহিগঞ্জের গর্ব।
-তুমি থাকো তোমার গর্ব নিয়ে। বিয়ে নিয়ে কিছু ভাবো। কদিন বাদে মাস্টার্স শেষ। বাবা ছেলে দেখছে।
-তো কি হইছে? দেখুক। সমস্যা কি?
-ও তুমি আমাকে পেতে চাও না সারাজীবনের জন্যে? এ তোমার ভালোবাসা?
–একটা চাকরি বুঝি ভালোবাসার পরিমাপক?
-দার্শনিকতা রাখো। সিরিয়াস হও। তোমার বন্ধু ওসমান চাকরি পেলো আর তুমি ঘাস কাটো।
-হা হা। ঘুষ দিয়ে চাকরি আমি করবো না ওর মতো।
–চাকরি তো চাকরি। এত ভাব নাও কেন?.. তুমি থাকো আমি চললাম।
–বলেই রাগ নিয়ে ফিরে গেলো মিষ্টি।
থামানোর চেষ্টা করলো না রিয়াদ। থামালে হিতে বিপরীত হবে।

রিয়াদ জীবন নিয়ে ভাবে। ভাবে মিষ্টিকে নিয়েও। রিয়াদ একটু গম্ভীর। তাই সবাইকে সব বলে না। মিষ্টিকেও না।

পরিবারের বড় ছেলে রিয়াদ। মাথার উপর দুইটা বোন। বিয়ের বয়স হচ্ছে ওদের। আর ভাইটা বুকের ওপর। মানে একবারে ছোট। বাবা কৃষক আর মা গৃহিণী। অভাবের সংসারের রাণী। সংসারের আয়ের কাঠিটা তাই রিয়াদের উপরেই। এ কথা কোনদিন জানতে পারে নি মিষ্টি। তেমন আগ্রহ করে শুনতেও চায় নি। চাইলে হয়তো জানতে পারতো। ইচ্ছে করলে মঙ্গলগ্রহের খবরও মানুষ জানে।
প্রতি সন্ধ্যা থেকে রাত্তির বারোটা কোথায় থাকে, কি করে রিয়াদ, কোনোদিন জানতে পারে নি। জানতো শুধু বাড়ির লোক আর বন্ধু রিপন।

রোজ সন্ধ্যা যখন দেয়ালের ঘড়িতে ছয়টার কাটা ছঁুয়ে যায় তখন বেরিয়ে পড়ে রিয়াদ।
জাহাজকোম্পানি মোড়ের ‘মনি লাইব্রেরী’ তে কাজ করে রাত আটটা পর্যন্ত। তারপর গুপ্তপাড়ায় দুটো টিউশনী করিয়ে বাড়ি ফেরে। ক্লান্ত শরীরে। ঘড়ি কাটার তো বিরক্তি নেই। তা ঠিকঠাক রাত বারোটা বাজে দেওয়ালঘড়িটায়। ঠিকঠাক থাকে না শুধু বাড়িটা। মাস শেষে টাকা পায় বলেই সমস্যা রিয়াদের। একবারে টাকাগুলি মায়ের হাতে তুলে দেয় প্রতিমাসে। তবুও মাসের পনেরো দিন না যেতেই টাকা শেষ। বোনদের পড়ার খরচ, বাড়ির নিত্য খরচ। সব মিলিয়ে ফুরিয়ে যায় টাকা। ধার করেও কুলাতে পারে না রিয়াদ। মা অন্য বাড়িতে কাজে যেতে চায়। কিন্তু, সেটা কড়া করে নিষেধ করেছে রিয়াদ। বাবা তো সব সময় কাজও করতে পারে না। বয়স বাড়ছে। সংসারে অশান্তি তাই লেগেই থাকে। এসব শুনলে কি মিষ্টির মনে মায়া হতো? কোনোদিন কি অমনি করে বকতে পারতো?..পারতো না নিশ্চয়ই।

রিয়াদ তাই চাকরির কথাও ভাবে। একটা কোম্পানিতে আলাপ হয়ে আছে মাস্টার্সটা শেষ হলেই জয়েন্ট। হাজার কুড়ি সেলারি। তখন আর এত অভাব থাকবে না। মিষ্টির মান তখন ঠিক ভাঙবে।

এসব কথা ভাবতে ভাবতে যে কখন মঠভাঙা দিঘি হাতের বামে রেখে শেঠিয়ার মোড় চলে এসেছে খেয়াল করে নি। মোড় থেকে পুবদিকে হাটছে রিয়াদ। পথ যেনো আজ ফুরাতে চাচ্ছে না।

হাতের ডানে ‘নিরঞ্জন মিষ্টিমুখ’। এ অঞ্চলের বিখ্যাত মিষ্টি দোকান। নিবারণচন্দ্রের ছেলের দোকান বলে কথা। মাহিগঞ্জে মিষ্টি-ব্যবসা তো তারাই শুরু করেছিলো। রংপুরে এসে যদি কেউ নিরঞ্জনের মিষ্টি না খায়, তার রংপুর আসাটাই বৃথা।
প্রথম ওদের বাড়িতে যাচ্ছে রিয়াদ। হবু শশুর পেশায় কসাই। স্বভাবেও। রিয়াদ মিষ্টি নিলো কিছু। আর কিছু পুরি। মিষ্টি দেখে যদি ভাল আচরণ করে। হা,,হা।

বৃষ্টিটা একটু হালকা হতে শুরু করেছে। মিষ্টিদের বাড়ি কাজীটারি। গোসাইবাড়ি মন্দিরটা পেরিয়ে কলেজের পিছন দিয়ে যে রাস্তাটা পূর্বে গেছে ওটাই গোসাইবাড়ি রোড। কিছু দূর গেলে কাজীটারি।

বৃষ্টিভেজা গোসাইবাড়ির মঠগুলি অনন্তযৌবনা হয়ে উঠেছে। হঠাৎ কেউ দেখলে ভাববে নেপালে আসছে। দুর্দান্ত, নৈসর্গিক সৌন্দর্য মন্দিরটাতে। ১২০১ বঙ্গাব্দের তৈরী। এর আশপাশে গোসাই মহারাজের বংশধররা বসবাস করেন এখন।

রিয়াদ গোসাই বাড়ি পেরিয়েছে সামনে পড়লো বন্ধু বিশেষ। রিয়াদকে এ বৃষ্টিতে দেখে অবাক ও। আরোও কি একটা কাজ করছে বিশেষের মাঝে।

-কিরে রিয়াদ, তোর ফোন অফ ক্যান?
আর এদিকে যাচ্ছিস যে!
-ফোনে চার্জ নেই। আর এদিকে যাচ্ছি তো কি হইছে?
-সে জন্যই তোকে ফোন দিচ্ছিলাম।
–ক্যান কি হইছে বলতো? মিষ্টির কোনো..
বলতে গিয়ে থমকে গেলো রিয়াদ।

হুু হু করে কাঁদে উঠলো বিশেষ।
-মিষ্টিকে কারা যেনো খুন করেছে।
-একথা শোনা মাত্র রিয়াদ এমন একটা চিৎকার দিলো, ভাষায় বলার মতো না। মনে হয় বুকটা ফেটে গেলো। রিয়াদের মুখ চেপে ধরলো বিশেষ। সবার সন্দেশের তীর রিয়াদের দিকে।
-চুপ কর দোস্ত। তোকে ওপাড়ার কেউ দেখলে পুতে ফেলবে। সাংবাদিক, পুলিশে ভেসে গেছে ওখানে। তুই পালা।
– কথা শেষ না হতেই কয়েকজন লোক রিয়াদকে ধরে ফেললো। একটা লাঠির বাড়ি পড়লো রিয়াদের মাথায়।

দুইদিন পর।
রংপুর ধাপ জেলখানা। জ্ঞান ফিরেছে রিয়াদের। সকালে রংপুর মেডিকেল থেকে জেলে আনা হয়েছে। চোখ খুলে মা,বাবা, রিপন, বিকাশ,বিশেষদের দেখছে রিয়াদ।

‘ডি.এন.এ রিপোর্ট ও সিআইডি বলছে, মিষ্টিকে ধর্ষণের পর ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ছুরিটা মিষ্টির ঘরেই ছিলো আগে থেকে। সেখানে রিয়াদের সম্পৃক্তার আলামত নেই। মুখ হাত বাঁধা ছিলো মিষ্টির। ঘরে ওসমানের মোবাইল, স্যান্ডেল আর শার্ট পাওয়া গেছে।
ওসমান কলকাতায় পালিয়েছে। র্যাব-১৩ তিনদিন সময় চেয়েছে ওসমানকে ধরার জন্য।’

বিকাশ বললো কথাগুলি।

রিয়াদ কাঁদছে। শব্দ করতে পাচ্ছে না। বুকে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।

মিনিট দশ পরে লকাপ খুলে দেয়া হলো।

বৃষ্টি হচ্ছে।
সবাই ছুটে গেলো মাহিগঞ্জে। মিষ্টির কবরের কাছে। একটা সোনালু ফুলের গাছের চারা আর একটা বকুলের চারা লাগানো কবরটায়। বৃ্ষ্টির পানিতে ভিজে যাচ্ছে গাছের চারাগুলি। দু চোখ বেয়ে বৃষ্টি ঝরছে রিয়াদের।

শ্রাবণের বৃষ্টি। সোনালু ফুল ফুটেছে। বকুল ফুটেছে। সবাই কলেজে এসেছে। রিয়াদও এসেছে। আসে নি শুধু মিষ্টি। স্বার্থপরের মতো রিয়াদকে রেখে একলা ঘরে ঘুমাচ্ছে মিষ্টি। আচ্ছা,,, ওপার থেকে রিয়াদের কান্না কি শুনতে পারে মিষ্টি?

অনেকবার ভোলার চেষ্টা করেছে মিষ্টিকে। কিন্তু, পারে নি। আসলে কাউকে ভুলে যাওয়া যতটা কঠিন, তারচে’ কঠিন কাউকে ভালোবাসা। কারণ, যাকে ভালোবাসা যায় তাকে ভোলা যায় না।

  • 6
    Shares

পাঠটিকে একটি রেটিং দিনঃ
খুব খারাপ, পাঠটিকে ১ রেটিং দিনখারাপ, পাঠটিকে ২ রেটিং দিনমোটামুটি, পাঠটিকে ৩ রেটিং দিনভাল, পাঠটিকে ৪ রেটিং দিনআসাধারন, পাঠটিকে ৫ রেটিং দিন (টি ভোট, গড়ে: এ ৪.০০)
Loading...

আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ আল-আমীন আপেল

আল-আমীন আপেল, সাম্প্রতিক সময়ের এক তরুণ কথাশিল্পী। যার লেখায় রংপুরের বিভিন্ন বাস্তব ঘটনা, ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক স্থান প্রাণ পায়; গল্প, কবিতার মাধ্যমে। সহজ, সাবলীল শব্দের বিচিত্র ব্যবহার তাঁর লেখনীর মূল শৈলী।রংপুরাঞ্চলের ভাষাকে বাংলা সাহিত্যে নতুন কায়দায় ফুটে তুলছেন তিনি। জন্ম রংপুরের মাহিগঞ্জে, ১৯৯৭ সালের ৭মার্চ। কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে, বর্তমানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এ.আই.এস. বিভাগে অধ্যয়নরত। জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজপোর্টাল ও লিটল ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখেন; গল্প, কলাম ও কবিতা। এছাড়া তিনি মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং 'পত্রালি' সাহিত্য পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে আছেন। প্রিয় রঙ: নীল অবসরে: গল্প-উপন্যাস পড়তে, লিখতে, ছবি তুলতে, গান গাইতে ভালোবাসেন।
বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ 2017-12-31 14:32:53 তারিখ নিবন্ধিত হয়েছিলেন, এই পর্যন্ত প্রকাশিত লেখা সংখ্যা 10টি, মোট 42 পয়েন্ট সংগ্রহ করে [mycred_my_ranking user_id=104] অবস্থানে আছেন।
সংগঠন ও গোষ্ঠীঃ লেখক কোন সংগঠন বা গোষ্ঠী এর সদস্য নন

আপনার ভাল লাগতে পারে

avatar
  
smilegrinwinkmrgreenneutraltwistedarrowshockunamusedcooleviloopsrazzrollcryeeklolmadsadexclamationquestionideahmmbegwhewchucklesillyenvyshutmouth
Photo and Image Files
 
 
 
Audio and Video Files
 
 
 
Other File Types
 
 
 
1 আলোচনা
0 আলোচনায় উত্তরগুলো
1 অনুসরন করেছেন
 
সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া
আলোচিত মতামত
1 মতামত প্রদানকারী
মনোয়ার মোকারম সাম্প্রতিক মতামত প্রদানকারী
মনোয়ার মোকারম
অতিথি
মনোয়ার মোকারম
Offline

অসাধারন প্রকাশনা ভাই। আপনার সবগুলো লিখা ভাল লাগল। আরো পড়তে চাই।