Search
Generic filters
Exact matches only

সমালোচনাই আমাকে টিকিয়ে রেখেছে

1 10 মাস ago

বাংলা সাহিত্যের অত্যাধুনিক সময়ে আছি আমরা। ফেসবুক, ব্লগভিত্তিক অনেক লেখক- সাহিত্যিকের আত্মপ্রকাশ হচ্ছে নিত্য। সাহিত্যে
সকলের খেলা করার অধিকার আছে যে! বিষয়টা কতখানি ভালো, কতখানি খারাপ, কোন দিকে যাচ্ছে বাংলা সাহিত্য –এমনি কিছু বিষয়ে, দীর্ঘ সাক্ষাতকার দিয়েছেন এসময়ের একজন তরুণ সম্ভাবনাময় কথাশিল্পী- আল-আমীন আপেল। যিনি দীর্ঘ আট বছর ধরে সাহিত্যের সাথে জড়িত, প্রচারে
এসেছেন ২০১৬ তে। আট বছরের অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরেছেন সাক্ষাতকারে। সাক্ষাতকারঃ—

: কেমন আছেন দাদা?
: জ্বি, বেশ আছি।
: ব্যক্তিজীবন, পারিবারিকজীবন সম্পর্কে একটু বলুন।
: কঠিন প্রশ্ন। নিজের সম্পর্কে বলাটা আসলেই কঠিন। সহজ করেই বলি- জন্ম রংপুরের মাহিগঞ্জে। আমি স্বভাবে অমিশুক, পরিবারের বড়ো ছেলে। বাবা কখনো সেলাইশিল্পী, কখনো কৃষক। মা সংসারশিল্পী। ছোট্ট একটা বোন আছে, পড়াশুনা করে। এরচে’ বেশি বলার নাই।
: শিক্ষাজীবন সম্পর্কে এক বাক্যে কিছু বলতে পারবেন?
: আফানউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে, বর্তমানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি।
: জানামতে, আপনি হিসাববিজ্ঞানের ছাত্র। বাংলায় মাথা দিতে আসলেন কেন?
: প্রমথ চৌধুরীর মতে, ‘সাহিত্য হচ্ছে খেলার জায়গা’। আর সেখানে খেলার স্বাধীনতা সবার আছে। তাই একটু খেলতে এসেছি।
: যখন থেকে লেখেন, তখন থেকেই প্রকাশ করেন?
: লেখালেখি করি ২০১০ থেকে। তবে প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘পরিবর্তন ডটকমে’। ‘বেঁচে আছে হৈমন্তী ‘ নামে একটা ছায়াগল্প। তখন থেকেই চলছে।
: কাগজে লেখা শুরু কবে থেকে আর সেক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা কে?
: ২০১৭ এর পহেলা তারিখ দৈনিক কালের কণ্ঠে একখানা কলাম, ছোট্ট করে প্রকাশিত হয়। সেটা নিয়ে ৮টি কলাম লিখেছি ও’তে। অনুপ্রেরণা হিসেবে ছিলেন শ্রদ্ধেয় কলামিস্ট, জনাব উমর ফারুক স্যার। তাঁর কলামগুলো ভালো লাগতো, সেটা থেকেই চেষ্টা করা।
: কলাম, কবিতায় আপনাকে এখন পাওয়া যায় না, গল্পে বেশ আসছেন। কথাটার সত্যতা জানতে চাই।
: মরার আগমুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের স্বপ্ন তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়, সে তাড়নার ফাঁদে পড়ে কলাম থেকে দূরে আছি। তবে কবিতায় পাওয়া যায় না, এটা  ভিত্তিহীন। বরং, কবিতায় মেতে আছি বলেই বেশ কিছু বন্ধু ঠাট্টা করে ‘কবি’ বলতে শুরু করেছে। কারণ, যা লিখি, তা গদ্যছন্দে লিখি। ভালো লাগে
আমার, মাত্রার ব্যাপারে বেশ অমনোযোগী। শব্দকে অলঙ্কার হিসেবে রূপ দেবার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, গল্প পেয়ে বসেছে আজকাল। কিছু গল্প লিখেছি, তবে ভালো গল্প মাত্র চারটা। সেগুলো নিয়ে আশাবাদী আমি।
:আপনি নাকি কথাসাহিত্যিক আশান উজ জামানকে নকল করছেন? ‘ভেজা জল’ গল্পে নাকি সেটা প্রখর ছিল?
: কথাকার আশান স্যার সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। তিনি যে ধাচে লেখেন, সে ধাচটা স্বতন্ত্র। ছোট ছোট সরল বাক্যে লেখা। আমার ‘ভেজা জল’
গল্পে তাঁর যৎসামান্য প্রভাব ছিল, দু’একটা বাক্যে। আর সে কথাটাই ভাইরাল হয়েছিল। পরের গল্পগুলোতে কিন্তু, সেটা একদমেই আসছে না। তবে, নতুন বলে আমাকে গল্প নিয়ে, সেই ধাচের প্রভাব নিয়ে এখনো কেউ কেউ কথা শোনাতে চান; আমি কানে নেই না। কারণ, স্বয়ং আশান স্যারকেও বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি ‘স্ট্রেটকাট’ অভিযোগটি এড়িয়ে গেছেন। সেটা আমার আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় করেছে।
: আপনার ‘ভেজা জল’, ‘মন্ডলবাড়ির ভূত’ ও ‘আয়না পাগলা ও অন্যান্যের গল্প সম্পর্কে কিছু বলুন। : প্রথমের দুটো গল্পই কাল্পনাশক্তির উপরে ভর
করে লেখা আর পরের গল্পটা সত্য ঘটনা নিয়ে। রংপুরের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের গল্প এটা।আঞ্চলিক শব্দের বসবাস তাই বেশি গল্পটাতে।
:সমকালীন বাংলা সাহিত্যে দেশীয় সাহিত্যিকদের অবদান কেমন?
: বেশ ভালো। গত আট বছরে আমি যে কয়েকটা বই পড়েছি, তার অধিকাংশই সমকালীন কবি, গল্পকার ও ঔপন্যাসিকের। বেশ ভালো লিখছেন তাঁরা। হুসাইন হানিফ-নামে এক সাহসী গল্পযোদ্ধা এসেছে, যার সব গল্পই জীবন থেকে নেয়া। সিনিয়র কোনো গল্পকার বা কবির নাম বলার সাহস নেই আমার, সে ক্ষমতা যে আজও তৈরী হয় নি! তবে বেশ কিছু ফেসবুকীয় কবি, যারা কবিতার আগা-মাথা বোঝেন না, তারা বেশ প্রচারে আসছেন; এ বিষয়টা আমাকে সংশয়ে ফেলে খুব! ভয়ে আছি এরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে আর সচেতনরা সে সবকে এড়িয়ে গেলে দেশীয় সাহিত্যে আঁধার নামবে, নিশ্চিত। তবে আশার কথা তাদের সংখ্যার চেয়েও ভালো মানের লেখকের সংখ্যা বেশি।
: আচ্ছা, আপনার কবিতাগুলোর ‘সুপ্রভা’ আসলে কে?
: সব লেখক,কবি একজন নারীকে কল্পনা করে হোক, আর বাস্তব থেকে হোক, কবিতায়, গল্পে আনেন; তারা নিজেরাও অনেক সময় ঠিক জানি না যে, কে সে । সুপ্রভা, ‘বনলতা সেন’ এর মতোই একটি কাল্পনিক চরিত্রমাত্র। লেখার মাধুর্যতা বাড়াতেই আমরা এটা করি।

:স্রষ্টাতে বিশ্বাস করেন?
:ধর্ম-কর্ম মানার আপ্রাণ চেষ্টা করি। স্রষ্টা, আমার ‘বিশ্বাস’ এর জায়গা।
: আপনি বেশ অভিমানী তাই না?
: হুম, খুবই। অভিমান করে দুইবার লেখালেখি বাদ দিয়েছিলাম। আবার ফিরে এসেছি।
: আলোচিত হতে ভালো লাগে, না সমালোচিত হতে?
:বাহ! ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন। আসলে আলোচিত নয়, সমালোচিত হয়েছি বেশি, অনেকবার। সাহিত্যজগতেও যে এমন মানুষ আছে জানতাম না,
তাদের ভালো লাগে আমার। কারণ, কিছু সমালোচনা আমাকে শুধরে দিয়েছে, আলোচনায় এনেছে–এটা ভাবলে সুখ লাগে।
: রংপুর অঞ্চলে সাহিত্যের হাল কেমন?
: ছড়াকার ইরশাদ জামিল, দিলরুবা শাহাদাত, শ্যামলী বিনতে আমজাদ–এই তিনজন বেশ সুনাম ছড়াচ্ছে, দেশময়। প্রবন্ধে মোনালিসা রহমান ম্যাম,
প্রফেসর শাহ আলম স্যার এবং কলামে ড.তুহিন ওয়াদুদ স্যারের নাম দেশজুড়ে। আমি আরো অনেককেই চিনি, যারা এ অঞ্চল থেকে ভালো করছেন। তবে প্রকাশনা ব্যবসায় বেহাল দশা এ অঞ্চলে, হাতে গোনা কয়েকটা ভালো প্রকাশনী রয়েছে। ‘রংপুর সাহিত্য সংসদ/পর্ষদ, অভিযাত্রিক, মৌচাক, অঞ্জলিকা, মাহিগঞ্জ সাহিত্য সংসদ, বেরোবির বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ‘পাঠচক্র’, স্বরবৃত্ত আবৃত্তিচর্চা কেন্দ্র’ –সহ বেশ কিছু সাহিত্য আড্ডার আসর এ অঞ্চলে ভালো করছে। বলতে গেলে, এ অঞ্চল সাহিত্যচর্চায় পিছিয় নেই। সৈয়দ শামসুল হক, রোকেয়ার অঞ্চল বলে কথা!
:সাহিত্য নিয়ে নিজের ইচ্ছা কি? সবার কাছে কি চাওয়া?
:সাহিত্যে ভালো কিছু যুক্ত্ করতে চাই। গল্প, কবিতা, উপন্যাস এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলকে পুরো দেশ, বিশ্বে জানাতে চাই- এ চাওয়া নিয়েই সাহিত্যে আসা।আর তরুণদের বলবো, ‘পড়তে হবে, অনেক পড়তে হবে।’ আমি নিজেও পড়ার চেষ্টা করি। সিনিয়রদের কাছে চাওয়া, আপনারা তরুণদের উৎসাহিত করবেন প্লিজ! তবেই ভালো কিছু আসবে। নচেৎ গতানুগতিক ধারার সাহিত্যেই পড়ে থাকতে হবে।
:অসংখ্য ধন্যবাদ প্রিয়। আপনার পথচলা সুগম হোক।

: সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ। শুভ হোক সকলের।

1 comments

  1. তাছনীম বিন আহসান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

টুলবার পরিহার করুন