বাংলাদেশের পতাকা,শহীদ মিনার ও প্রাসংগিক ইতিকথা

১/বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কে?
২/শহীদ মিনারের স্থপতি কে?
খুব স্পষ্ট ভাবেই উত্তর আসবে যথাক্রমে
#শিল্পী কামরুল হাসান এবং
#শিল্পী হামিদুর রহমান
কিন্তু বাস্তবতা হল দুটি তথ্যই অর্ধসত্য।
সঠিক উত্তর হওয়ার কথা ছিল
#জাতীয় পতাকার ডিজাইনার বীর মুক্তিযোদ্ধা শিব নারায়ণ দাশ এবং
#শহীদ মিনারের স্থপতি নভেরা আহমেদ এবং হামিদুর রহমান
প্রথমে আসা যাক জাতীয় পতাকার কথা।১৯৭০ সালের ৬ ই জুন পুরো পতাকার ডিজাইন শেষ করেন তখনকার ছাত্রনেতা শিব নারায়ণ দাস।বলা বাহুল্য পতাকা ডিজাইনের অন্যতন থিংক ট্যাংক হিসেবে কাজ করেছিল পুরো নিউক্লিয়াস টীম।২ মার্চ১৯৭১ এই পতাকাই প্রথম উত্তোলন করা হয় বাংলাদেশের পতাকা হিসেবে।এই পতাকা উত্তোলন করেই ১৭ এপ্রিল শপথ নেয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার।এই পতাকা বুকে ধারণ করেই রক্ত দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছিনিয়ে আনে স্বাধীন বাংলাদেশ।কিন্তু তারপর? তারপর দেশ স্বাধীন হয়।পতাকা থেকে শুধু মানচিত্র টা কেটে ফেলে ডিজাইনারের নাম দেয়া হয় কামরুল হাসান।শিব নারায়ণ দাসের নাম অজ্ঞাত কারণে চাপা পড়ে যায়,কিংবা চেপে দেয়া হয়।

এবার আসি শহীদ মিনারের কথায়,বাংলাদেশের ভাস্কর্য শীল্পের পথিকৃৎ ছিলেন ভাস্কর নভেরা আহমেদ।এই আন্তর্জাতিক ভাস্কর এবং হামিদুর রহমান মিলে ডিজাইন করেন শহীদ মিনার এর।তারপর দুজনে মিলে বাস্তবায়ন ও করেন তাদের কাজ।কিন্তু সব কিছুর শেষে বাদ পড়ে যায় নভেরা আহমেদ এর নাম।হয়ত নারী বলে কিংবা অন্য কোন অজানা কারণে তাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয় এহেন মহৎ কাজের কৃতিত্ব থেকে।কেউ আর জানে না নভেরা আহমেদের অবদান।ক্ষোভে অভিমানে স্বেচ্ছা নির্বাসনে চলে যান প্যারিসে।তিনি আর কখনো বাংলায় কথা বলেন নি,অন্তত লোকসমাবেশে, একবারের জন্যও আসেন নি বাংলাদেশে আর।কি তীব্র ব্যাথা নিয়েও বাংলাদেশের পাসপোর্ট বুকে নিয়ে আগলে রেখেছিলেন ফরাসি নাগরিকত্ব এর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে।
উপরের দুজনের মধ্যে একজন চলে গেছেন ওপারে।আরেকজন শিব নারায়ণ দাস অসুস্থ,তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনেই মুক্তিযোদ্ধা, কিন্তু কেউ ই মুক্তিযোদ্ধার কোন সুজোগ সুবিধা নেন না।তারা কিছুই চান না আর।
কিন্তু রাষ্ট্রের দায় কি তাতে কিছু কমে?না।রাষ্ট্র যেভাবে দুজন মানুষ থেকে তাদের কৃত কর্মের কৃতিত্ব ছিনিয়ে নিয়েছে, তার দায় থেকে মুক্তি পাবে না কখনোই।
চাই যোগ্য সম্মান ফিরে পাক ইতিহাসের এই দুই যোগ্য মানুষ।দায়মুক্তি হোক আমাদের, যারা এই দেশের প্রতিনিধিত্ব করি।মুক্তি পাক সত্য এবং বিস্তৃত হোক সোহার্দের পরিসর……..
চাই চিৎকার করে বলতে, আমার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে কেউ বঞ্চিত না……………

  • 60
    Shares

পাঠটিকে একটি রেটিং দিনঃ
খুব খারাপ, পাঠটিকে ১ রেটিং দিনখারাপ, পাঠটিকে ২ রেটিং দিনমোটামুটি, পাঠটিকে ৩ রেটিং দিনভাল, পাঠটিকে ৪ রেটিং দিনআসাধারন, পাঠটিকে ৫ রেটিং দিন (টি ভোট, গড়ে: এ ৩.৬৭)
Loading...

আমাদের উৎসাহিত করুনঃ




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয় ।

লেখক সম্পর্কেঃ সুদীপ্ত ভট্টাচার্য

বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ 2017-09-20 09:32:08 তারিখ নিবন্ধিত হয়েছিলেন, এই পর্যন্ত প্রকাশিত লেখা সংখ্যা 5টি, মোট 7 পয়েন্ট সংগ্রহ করে [mycred_my_ranking user_id=41] অবস্থানে আছেন।
সংগঠন ও গোষ্ঠীঃ লেখক কোন সংগঠন বা গোষ্ঠী এর সদস্য নন

আপনার ভাল লাগতে পারে

0 0 vote
Article Rating
guest
1 Comment
Inline Feedbacks
View all comments
তাছনীম বিন আহসান

dhonnobad

1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x