দেশের মানিটারি পলিসি এবং অর্থনীতিতে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তের অবস্থান…

আমাদের দেশে কেউ ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে কত রিটার্ন পায়? যদি ট্যাক্স, সার্ভিস চার্জ ইত্যাদি বাদ দেই… ডিপোজিটরদের actual return হবে ৫% এর নিচে। অথচ দেশ বিদ্যমান inflation ৫.৫%। যারা ইকনমিক্স এর ছাত্র নয়, তাদের বোঝার জন্য সহজ করে বললে- কেউ যদি ব্যাংকে ১০০ টাকা রাখে, বছর শেষে তার সঞ্চয় দাঁড়াবে ১০৫ টাকা। কিন্তু সেই ব্যাক্তি এক বছর আগে ১০০ টাকা দিয়ে যা যা কিনতে পারতো, সেগুলো কিনতে এখন তার লাগবে ১০৫.৫ টাকা। অর্থ্যাৎ বছর শেষে তার ডিপোজিট তো বাড়ে নি, উলটো ৫০ পয়সা কমে গেছে!

মাত্র ৫০ পয়সা হয়তো সামান্য, কিন্তু যার ২০ লক্ষ টাকা ডিপোজিট – তার কমে যাবে ১০ হাজার টাকা! ১০ হাজার টাকা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অনেক টাকা। এজন্য অনেকে ডিপোজিট রেট বাড়ানোর পক্ষে কথা বলেছেন।

আমি একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখতে চাই। একটা দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন নির্ভর করে কিসের উপর? বিষয়টা একটু জটিল। অর্থনীতির ভাষায় যাকে বলে ‘money circulation’, ঘটনাটা এমন- আমরা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ বেতনের টাকা থেকে খেয়ে না খেয়ে কিছু বাঁচিয়ে তা ব্যাংকে সঞ্চয় করি। economics আমাদেরকে আদর করে ডাকে ‘surplus unit’। সেই টাকা লোন নিয়ে উচ্চবিত্তরা ব্যবসা করে, ইন্ডাস্ট্রি দেয়। economics তাদেরকে ডাকে ‘deficit unit’। সেই ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা চাকুরি করি, বেতন পাই। একটা চক্রের মত ঘটনা।

গল্পের মত বললে, আমার জমানো টাকা ব্যাংকে যায়। ব্যাংক থেকে সেই টাকা যায় ব্যবসায়ীদের হাতে। ব্যবসায়ীরা সেই টাকা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি দেয়, ট্রেডিং করে। আমি সেখানে চাকরী করি, বেতনের টাকা নেই। সেই টাকাটা আবার আমার হাতে আসে। বেতনের টাকার এক অংশ আমি consume করি। যখন কেনাকাটা করি, টাকাটা আবার সেই ব্যাবসায়ীর হাতে যায়… বেতনের অবশিষ্ট অংশ আমি ব্যাংকে জমা রাখি, সেই টাকা আবার লোন নেয় ব্যবসায়ী। এভাবে টাকা এক হাত থেকে আরেক হাতে ঘুরতে থাকে চক্রাকারে। আমি এটাকে বলি ‘ঘুঁটা’। এই ঘুঁটা যত বেশী হবে, দেশের অর্থনীতি তত দ্রুত এগুবে।

কিন্তু এই ঘুঁটার ফলে দেশের উচ্চবিত্তেরই শুধু উন্নতি হয়। আমরা মধ্য ও নিম্নবিত্তরা নামে surplus unit হলেও, বাস্তবে অর্থনীতির তলানিতেই রয়ে যাই। ডিপোজিটরদের interest rate যদি কমে, তখন তারা ব্যাংকে টাকা না রেখে বিকল্প বিনিয়োগ খুঁজবে। নতুন নতুন উদ্দ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। তার জন্য দরকার লোন রেট কমানো। সেদিকেই গুরুত্ব দেওয়া বেশী জরুরী আমি মনে করি।

হয়তো ১০ জনের মধ্যে একজন মধ্যবিত্ত উদ্দ্যোক্তা সফল হবে, কিন্তু কিছু কিছু করে মানুষ উচ্চবিত্ত হয়ে উঠবে। সার্বিক জীবনমান বদলাবে। সেইসাথে অর্থনীতিতে একটা জোরালো ‘ঘুঁটা’ হবে। দেশও এগুবে।


পাঠটিকে একটি রেটিং দিনঃ
খুব খারাপ, পাঠটিকে ১ রেটিং দিনখারাপ, পাঠটিকে ২ রেটিং দিনমোটামুটি, পাঠটিকে ৩ রেটিং দিনভাল, পাঠটিকে ৪ রেটিং দিনআসাধারন, পাঠটিকে ৫ রেটিং দিন (টি ভোট, গড়ে: এ ৫.০০)
Loading...

আমাদের উৎসাহিত করুনঃ



বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে বুননকে সাহায্য করুনঃ


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়



  • লেখক পরিচিতিঃ ত্বরিকুল ইসলাম

    ১ম ব্যাচ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নোয়াখালী। পাশের সনঃ ২০১০
    বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ 0000-00-00 00:00:00 তারিখ নিবন্ধিত হয়েছিলেন, এই পর্যন্ত প্রকাশিত লেখা সংখ্যা 4টি, মোট -5 পয়েন্ট সংগ্রহ করে অবস্থানে আছেন।
    সংগঠন ও গোষ্ঠীঃ লেখক কোন সংগঠন বা গোষ্ঠী এর সদস্য নন

    আপনার ভাল লাগতে পারে

    avatar