একটি চিঠি

এইতো, কখন যে ন’টি বছর কেটে গেল বুঝতে পারিনি। আমার কথা না মেনেই তুমি চাকরী নিলা প্রাইমারী স্কুলে। তোমার সাথে যেদিন থেকে পরিচয় সেদিন থেকে তুমি আমার একটা কথায় অমান্য করেছ, সেটা হলো ওই চাকরীটা নেয়া। চাকরীটাই তোমাকে আমার কাছ থেকে সরায়ে নিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই তোমার হাত ধরেছিলাম। তুমিও মুষ্ঠিবদ্ধ করে ধরেছিলে আমার হাত। তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা না দিয়ে তুমি চলে গেলা চাকরীতে। কারণ বললা আমার চাকরী নিতে দেরী হবে তাই। আমাকে বিয়ে করার জন্যই তুমি চাকরী নিলা। তোমার পোস্টিং হলো তোমার গাঁ’য়ের বাড়ী রসূলপুরে। প্রায় তিনবছর তোমার সাথে প্রেম করেছি। ওই তিনবছর ছিলো আমার জীবনের সেরা সময়। তোমায় নিয়ে ঘুরা, তোমার পাখির নীড়ের মতো ছোট ছোট চোখ, ভ্রু কুঁচকে অভিমান করা আজ বড্ড মিস করি। খুব মিস করি তোমাকে। আড়ালে তোমায় ভেবে কাঁদি। তোমায় প্রথম দেখার বারোটা বছর পূর্ণ হলো আজ। আমার ডায়রীর এক পাতায় তোমার লাল লিপস্টিকের চুমোয় এঁকে দিয়েছিলে তোমার ঠোঁট, ওটা এখনো তেমন-ই আছে। তুমি নেই। একবার পয়লা বোশেখে আমি গ্রামের বাড়ী ছিলাম বলে তুমি হাউমাউ করে কান্না করেছিলে, বড্ড ছেলেমানুষী করতে। আজো কি তেমন আছো? হয়তো না। সময় তোমাকে কেমন রেখেছে জানি না। তোমার কান্না সহ্য করতে না পেরে পরের দিনই ঢাকা চলে এসেছিলাম তোমার কাছে। আর বাসন্তী শাড়ীতে তোমায় পরীর মতো লাগতো, বসন্তোৎসবে তুমি আর আমি সারাদিন টিএসসিতে বসে থাকতাম। তুমি খুব ফুসকা ভালোবাসতে, খুব ঝালও খেতে। আমি একদম ঝাল খেতে পারিনা। তোমার সাথে বাজি ধরে সেদিন একটু ঝাল খেয়েছিলাম বলে আমার চোখমুখ লাল হয়ে পুরো ঘামায়ে গেছিলাম। তুমি শাসায়ে শাসায়ে সুতির ওড়না দিয়ে খুব যত্নে আমার কপাল মুখের ঘাম মুছে দিয়েছিলে। এরপর কেউ এতো মমতায় আর শাসায়নি। এসব ভেবে তোমায় মারাত্মকভাবে মিস করি। তুমি কোথায় আছো? কেমন আছো? কিছুই জানি না। তোমার যে খালোতো ভাইটা তোমায় পছন্দ করতো তার সাথেই কি তোমার বিয়ে হয়েছে? জানি না। এতো মেয়ের মেলায় এখনো আমি তোমায় খুঁজি। প্রিয় মানুষ চলে গেলে তারা নাকি মনে থাকে। তুমি আমার শুধু মনে নয় সবখানে আছো। যেখানেই থেকো, ভালো থেকো। শুভ কামনা।

. তোমার আজন্ম প্রেমিক

নীলয়।

  • 34
    Shares

পাঠটিকে একটি রেটিং দিনঃ
খুব খারাপ, পাঠটিকে ১ রেটিং দিনখারাপ, পাঠটিকে ২ রেটিং দিনমোটামুটি, পাঠটিকে ৩ রেটিং দিনভাল, পাঠটিকে ৪ রেটিং দিনআসাধারন, পাঠটিকে ৫ রেটিং দিন (আপনি প্রথম ভোটটি দিন)
Loading...

আমাদের উৎসাহিত করুনঃ



বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে বুননকে সাহায্য করুনঃ


সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়



  • লেখক পরিচিতিঃ রুদ্র সুশান্ত

    বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জন্ম। বেড়ে উঠা পৈত্রিক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। কবিতা তার দ্বিতীয় জীবন। প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ, নির্মলেন্দু গুণ। প্রিয় মানুষ 'বাবা'। শখ বই পড়া আর ভ্রমণ। বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন।প্রকাশিত বই ------------------ কাব্যগ্রন্থ ১. বঙ্গদেশে স্বর্গবাস (একুশে বইমেলা'১৬ ইং) ২. চন্দ্রাবতীর সাতকাহন (একুশে বইমেলা'১৭ইং). ছড়াগ্রন্থ ........ হাড্ডু মামার ছড়া (সেপ্টেম্বর ২০১৬ইং) . প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ --------- গণতান্ত্রিক বেদনা, ২০১৮ ইংপ্রকাশিতব্য উপন্যাস সংসারের সপ্তডিঙ্গা
    বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ 2018-01-17 10:30:57 তারিখ নিবন্ধিত হয়েছিলেন, এই পর্যন্ত প্রকাশিত লেখা সংখ্যা 4টি, মোট 84 পয়েন্ট সংগ্রহ করে অবস্থানে আছেন।
    সংগঠন ও গোষ্ঠীঃ লেখক কোন সংগঠন বা গোষ্ঠী এর সদস্য নন

    আপনার ভাল লাগতে পারে

    avatar
    3 আলোচনা
    0 আলোচনায় উত্তরগুলো
    0 অনুসরন করেছেন
     
    সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া
    আলোচিত মতামত
    3 মতামত প্রদানকারী
    রুদ্র সুশান্তমৌ চক্রবর্তীশাশ্বত ভৌমিক সাম্প্রতিক মতামত প্রদানকারী
    রুদ্র সুশান্ত
    অতিথি

    ভালোবাসা

    মৌ চক্রবর্তী
    সদস্য

    দাদা, ভাল লাগছে লেখাটা পরে আর আপনিও এখানে একজন মেম্বার হয়েছেন দেখে ?।

    শাশ্বত ভৌমিক
    সদস্য

    অসাধারণ।।