TECN-নিয়ে কিছু কথা…

সুচনা

গ্রাড্যুয়েশন সম্পূর্ন করা বেশিরভাগ ছাত্রই তার ক্যাম্পাসকে ভালোবাসে। ছাত্রজীবনের শেষ ধাপ প্রত্যেকের মনেই একটা আবেগের জায়গা দখল করে নেয়। কিছু হাসি-কান্না, কিছু টক-মিষ্টি স্মৃতি এবং কিছু বিশেষ বিশেষ অনুভূতি এই আবেগকে উসকে দেয়। কিন্তু কখনো কখনো ক্যাম্পাসের অভিজ্ঞতা আবেগকেও ছাড়িয়ে যায়। আজ আমি সেই আবেগকে ছাপিয়ে যাওয়ার গল্প বলতে বসেছি…

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নোয়াখালী সংক্ষেপে TECN-এর প্রথম ব্যাচের ছাত্র আমি। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম ব্যাচের ছাত্র হওয়া ভাগ্যের ব্যপার। কেউ চাইলেও এই ক্ষেত্রে আমাকে টেনে দ্বিতীয়তে নামিয়ে আনতে পারবে না।
TECN-এ পড়ার সুবাদে কিছু ঘটনার স্বাক্ষী হয়েছি…আমি হলফ করে বলতে পারি- বাংলাদেশের খুব কম ছাত্র সেরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। TECN এর অনেক ছাত্র এখনো সেই গৌরবের কথাগুলো জানে না। কয়েক ধাপে আমি সেগুলো তুলে ধরতে চাই।
TECN-ই বাংলাদেশের একমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, যেটি অনুমোদন পাওয়ার আগেই ছাত্র ভর্তি করে ফেলে। কর্তৃপক্ষ এতগুলো মেধাবী ছেলের জীবন নিয়ে জুয়া খেলেছিলো সেদিন। দেশের নামকরা সব ভার্সিটি থেকে ভর্তি ক্যান্সেল করে এসে অনেক ছেলে TECN-এ ভর্তি হয়, অথচ জানেও না যে- এই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটি এখনো প্রস্তাবিত! আমিও সেই দলে ছিলাম। চবি’র ক্যমিস্ট্রি থেকে ভর্তি বাতিল করে এখানে এসে ভর্তি হই। যখন জানলাম, এটা এখনো প্রস্তাবিত…তখন কিছু করার নেই। এভাবে অনিশ্চয়তা থেকে আমাদের যাত্রা শুরু। তারপর জন্ম থেকে জ্বলছি…
প্রস্তাবিত অবস্থায় কলেজের ক্লাস শুরু হলো। কলেজে এসে দেখি ক্যাম্পাসে আর্মি ক্যাম্প। তখন ফখরুদ্দীনের আমল। দেশে জরুরী অবস্থা। আমরা একদিন হটাত সাহস করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসলাম। ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলাম। প্রিন্সিপাল আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করলেন অনেক। দেশের রাজনীতির অস্থিরতার কথা বললেন। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আর্মি ক্যাম্প ক্যাম্পাসে থাকলে আমরা ক্লাসে যাবো না। খালেদা-হাসিনা তখন সাবজেলে অন্তরীন। ফখরুদ্দীন সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কেউ করছে না। সারাদেশে আর্মির শাসন। আমাদের দাবীর মুখে ঠিকই তারা হার মেনেছিলো, সরিয়ে নিয়েছিলো আর্মি ক্যাম্প। সেই সময়ের ঘটনা পরম্পরায় যা বিরল।

সেদিন থেকে আমরা ফার্স্ট ব্যাচের ষাটজন তরুন উপলব্ধি করলাম, একতা থাকলে আমাদের পক্ষে এই অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়েই অনেকদূর যাওয়া সম্ভব!

  • 1
    Share

পাঠটিকে একটি রেটিং দিনঃ
খুব খারাপ, পাঠটিকে ১ রেটিং দিনখারাপ, পাঠটিকে ২ রেটিং দিনমোটামুটি, পাঠটিকে ৩ রেটিং দিনভাল, পাঠটিকে ৪ রেটিং দিনআসাধারন, পাঠটিকে ৫ রেটিং দিন (টি ভোট, গড়ে: এ ৫.০০)
Loading...

আমাদের উৎসাহিত করুনঃ

বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে বুননকে সাহায্য করুনঃ

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। এই লেখাটি কর্তৃপক্ষের কোন সম্পাদনা ছাড়াই অথবা উপেক্ষণীয় সম্পাদনা সহকারে প্রকাশিত এবং কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী নয়



  • লেখক পরিচিতিঃ ত্বরিকুল ইসলাম

    ১ম ব্যাচ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নোয়াখালী। পাশের সনঃ ২০১০
    বুনন সম্পর্কিত তথ্যঃ 0000-00-00 00:00:00 তারিখ নিবন্ধিত হয়েছিলেন, এই পর্যন্ত প্রকাশিত লেখা সংখ্যা 4টি, মোট সংগ্রহ -21 পয়েন্ট

    আপনার ভাল লাগতে পারে

    মতামত ও আলোচনা

    avatar
    মৌ চক্রবর্তী
    সদস্য

    আসলেই তাই; একতা থাকলে অনেক অসম্ভব কাজও সম্ভবপর হয়।